কাউন্টিতে নতুন গল্প লিখছেন হাসান–খালেদ

· Prothom Alo

ডার্বি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে কাউন্টি ক্রিকেটের ম্যাচ চলছে। কেন্টের বিপক্ষে মধ্যাহ্নভোজের বিরতি অবধি ৮৯ রান তুলতে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলেছে ডার্বিশায়ার। স্কোরবোর্ডে যে দুজন বোলার দুটি করে উইকেট পেয়েছেন বলে দেখাচ্ছিল, দুজনই বাংলাদেশের—হাসান মাহমুদ ও খালেদ আহমেদ।

কাউন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের প্রতিনিধিত্ব তিন মাস আগেও ছিল না। গত জুনে শুরুটা করেন হাসান মাহমুদ, কেন্টের হয়ে জুনেই তিনি খেলেন দুটি ম্যাচ। তাঁকে নিয়ে তখন আলোচনাও হয়েছে বেশ। হাসান পরে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে ডারউইন টেস্টে ম্যাচসেরা হয়েছেন, তখনো ঘুরেফিরে এসেছে কাউন্টির প্রসঙ্গ। হাসান নিজেও বলেছেন, কাউন্টির অভিজ্ঞতা কাজে লেগেছে ডারউইনে।

Visit biznow.biz for more information.

হাসানের পর কাল কেন্টের হয়ে কাউন্টি অভিষেক হয়েছে বাংলাদেশের আরেক পেসার খালেদেরও। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের রমরমা যুগেও কাউন্টি ক্রিকেট তাঁর ইতিহাস আর ঐতিহ্যের কারণেই আলাদা মর্যাদা নিয়ে আছে। জাতীয় দলের পাশাপাশি ইংলিশ কাউন্টিতে কোন দলে খেলেন—একসময় তারকা ক্রিকেটারদের পরিচয়ে যোগ হতো সেটাও। এমন মর্যাদার আসরে কেন্টের বিদেশি কোটার দুই ক্রিকেটারই বাংলাদেশের, দুজনই আবার পেসার! হাসান, খালেদ মিলে যেন বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের নতুন এক গল্পই লিখছেন কাউন্টি ক্রিকেটে।

দ্বিতীয় বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে কাউন্টি ক্রিকেটে খেলেছেন হাসান মাহমুদ

হাসান ও খালেদ কাল ভাগাভাগি করে নিয়েছেন ডার্বিশায়ারের ৭ উইকেট। হাসান ৩০ রানে ৪ ও খালেদ ৭৩ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট। ডার্বি অলআউট ঠিক ৩০০ রানে। ডার্বির মাঠে বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের নতুন এক বিজ্ঞাপনই যেন প্রদর্শিত হলো তাতে। হাসান–খালেদকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রোমাঞ্চটা খুঁজে পাওয়া গেল বাংলাদেশ দলের পেস বোলিং কোচ তালহা জুবায়েরের কণ্ঠেও, ‘ইংল্যান্ডের চেয়ে তো আর কোনো দেশের দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটের সংস্কৃতি এতটা সমৃদ্ধ নয়। এই সংস্কৃতি যদি ওরা শিখতে পারে, আমাদের ক্রিকেটকে অনেক দিক থেকেই তা সাহায্য করবে।’

ইংলিশ ক্রিকেটের ‘সমৃদ্ধ সংস্কৃতি’র ছোঁয়া বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে সবার আগে পেয়েছেন সাকিব আল হাসান। তবে তা–ও প্রায় দেড় দশক আগের কথা। এরপর দীর্ঘ বিরতি, গত জুনে কেন্টের হয়ে মাঠে নেমে যেটির ইতি টেনেছেন হাসান মাহমুদ।

হাসান শুধু কেন্টের হয়ে কাউন্টিতে নিজের নামই লেখাননি, প্রমাণ দিয়েছেন সামর্থ্যেরও। অফ স্টাম্পের বাইরে বল ফেলে ইনসুইংয়ে ব্যাটসম্যানদের বিভ্রান্ত করছেন, স্টাম্প উপড়ে ফেলছেন, কখনো তাঁর ভেতরে ঢোকা বলে এলবিডব্লু হয়ে যাচ্ছেন ব্যাটসম্যানরা। গতকালের আগে মাত্র তিন ম্যাচেই হাসান নিয়েছেন ১৯ উইকেট।

কাউন্টিতে ভালো খেলার মন্ত্রটা যে তাঁর ভালো করেই জানা, তা আগে থেকেই বুঝতে পারছিলেন তালহা, ‘হাসানের রিস্ট পজিশন, হেড পজিশন, যেভাবে ওর স্কিলগুলো তৈরি হয়েছে, ইংল্যান্ডই ওর বোলিংয়ের জন্য উপযুক্ত কন্ডিশন। সিম মুভমেন্ট পাওয়া যায়, যেহেতু ডিউক বলে খেলা, সারা দিনই সুইং করে।’

ইংলিশ কন্ডিশন, ডিউক বলে বোলিং করা—কাউন্টি ক্রিকেটটাকে হাসানের কাছে স্বর্গ বলেই মনে হচ্ছে বাংলাদেশ দলের সাবেক পেসার তালহার, ‘এটা হাসানের মতো বোলারদের জন্য স্বর্গের মতো একটা জায়গা।’ হাসানকে পেয়ে কেন্টও কি কম উচ্ছ্বসিত! খালেদকে সঙ্গে নিয়ে ক্লাবের ফেসবুক পেজের কাভার ফটো বনে গেছেন, ইউটিউবে ম্যাচের লাইভের থাম্বনেলে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে তাঁর ছবি।

হাসান মাহমুদের সঙ্গে খালেদ আহমেদ

হাসানকে ঘিরে কেন্টের মুগ্ধতা কাউন্টির পথ খুলে দিয়েছিল বাংলাদেশ দলের বাঁহাতি পেসার শরীফুল ইসলামের জন্যও। কিন্তু মাত্রই চোট থেকে ফিরেছেন বলে তাঁকে অনাপত্তিপত্র দেয়নি বিসিবি। এরপর সুযোগটা আসে খালেদের কাছে। গতকাল শুরু হয়ে গেছে কাউন্টিতে তাঁর পথচলাও।

অস্ট্রেলিয়া সফরে বাংলাদেশের দুই টেস্টের কোনোটির একাদশেই জায়গা হয়নি খালেদের। তাতে কী, ডারউইন–ম্যাকাইয়ে জাতীয় দলের নেটেই তিনি নিজেকে কাউন্টির জন্য তৈরি করেছেন। বোলিং প্রান্তে দাঁড়িয়ে সেটা দেখা তালহা মনে করেন, ‘সেরা ছন্দে’ থাকা খালেদ যেখানেই খেলবেন, তাঁর ‘খুব ভালো করা উচিত’।

প্রত্যাশাটা পূরণ হলে পেস বোলিং নিয়ে আরও বেশি গর্ব করতে পারবে বাংলাদেশের ক্রিকেট, যার পুরোভাগে থাকবে দুটি নাম—হাসান মাহমুদ ও খালেদ আহমেদ।

হাসানের জোড়া উইকেটের পর কেন্টে খালেদের প্রথম

Read full story at source