স্বাধীন সাংবাদিকতা চর্চায় সরকার হস্তক্ষেপ করবে না: ডিআরইউতে তথ্যমন্ত্রী
· Prothom Alo

গণমাধ্যমের বলিষ্ঠ অবদানের কারণেই দেশে বর্তমানে গণতন্ত্রের বিকাশ সম্ভব হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান। তিনি বলেন, মুক্ত ও স্বাধীন সাংবাদিকতা চর্চায় বর্তমান সরকার কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না।
Visit afnews.co.za for more information.
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এ কথা বলেন।
ডিআরইউর সদস্যদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান বলেন, ‘সংবাদমাধ্যম আছে বলেই আমরা আজ এই জায়গায় আসতে পেরেছি। দেশে গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা ও সার্বিক অর্জনে গণমাধ্যম সমান অংশীদার। বর্তমান সরকারের মেয়াদে আপনারা সম্পূর্ণ স্বাধীন গণমাধ্যম পাবেন। সরকারের পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যম বা সাংবাদিকতার পেশাগত কাজে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করার ইচ্ছা নেই।’
গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কোনো বিকল্প নেই: রিজভী
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, গণতন্ত্রকে বিকশিত ও শক্তিশালী এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কোনো বিকল্প নেই।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘গণমাধ্যম বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করলে সমাজে সন্ত্রাস ও ঘুষ কমবে এবং সমাজ অনেক পরিচ্ছন্ন হয়ে উঠবে।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, গত ১৭ বছরে অনেক টেলিভিশন ও পত্রিকা থাকলেও কথা বলা ও মতপ্রকাশের সুযোগ ছিল শুধু একজন ব্যক্তি ও একটি রাজনৈতিক দলের। এর বাইরে যাঁরা চেষ্টা করেছেন, তাঁদের কেউ গুমের শিকার হয়েছেন; আবার কেউ কারাগারে থাকতে বাধ্য হয়েছেন।
ডিআরইউর ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। রাজধানীর সেগুনবাগিচায়, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান না হলে পরিস্থিতি আরও যে কী হতো, তা বলা কঠিন উল্লেখ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘মিডিয়া, টকশো, টকশো হোস্ট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিভিন্নভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল। এর মধ্যেও মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকেরা গণতন্ত্রের আলো কিছুটা জ্বালিয়ে রেখেছিলেন।’
রুহুল কবির রিজভী আরও বলেন, আইনের শাসন নিশ্চিত করতে যেমন প্রশাসন ও আদালতকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হয়, তেমনি গণমাধ্যমকেও নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হয়।
ডিআরইউর সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কথা তুলে ধরে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে যখন কোনো আশ্রয় ছিল না, তখন ডিআরইউকে আশ্রয়ের জায়গা হিসেবে দেখেছি।’
সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া পেশাদার সাংবাদিকদের বড় দায়িত্ব
অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করে। সাংবাদিকতার মূল শক্তি হলো সত্যনিষ্ঠ, বস্তুনিষ্ঠতা, পেশাদারত্ব ও দায়িত্বশীলতা।
তথ্যপ্রযুক্তির যুগে সংবাদ দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছানোর সুযোগের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এর পাশাপাশি গুজব, অপতথ্য ও যাচাই-বাছাইহীন সংবাদের মতো নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। তাই দ্রুত সংবাদ দেওয়ার পাশাপাশি সঠিক ও যাচাইকৃত তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া পেশাদার সাংবাদিকদের বড় দায়িত্ব।’
সড়ক পরিবহন, রেল যোগাযোগ ও জনসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গণমাধ্যমের বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবেদন ও বাস্তবভিত্তিক মতামত সরকার ও নীতিনির্ধারকদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।
ডিআরইউর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খান, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ, তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম, বিশিষ্ট সাংবাদিক শফিক রেহমান প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিআরইউর সভাপতি আবু সালেহ আকন এবং সঞ্চলনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকাল থেকে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালিত হয়। সকালে জাতীয় পতাকা ও সংগঠনের পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। পরে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি ও কেক কাটা অনুষ্ঠিত হয়।