এআই যখন সবার সিভি নিখুঁত করে, তখন আলাদা হবেন কীভাবে
· Prothom Alo

একসময় একটি পরিপাটি, ভুলত্রুটিমুক্ত জীবনবৃত্তান্তই চাকরিপ্রার্থীকে অন্যদের চেয়ে আলাদা হওয়ার অন্যতম উপায় ছিল। সুন্দর ভাষা, গোছানো উপস্থাপন ও পেশাদার ফরম্যাট প্রার্থীর মনোযোগ ও যোগাযোগ দক্ষতার ইঙ্গিত দিত। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার সেই চিত্র বদলে দিয়েছে। এখন কয়েক সেকেন্ডেই এআইয়ের সাহায্যে তৈরি করা যায় ঝকঝকে, পেশাদার ও চাকরির বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে মিলিয়ে সাজানো জীবনবৃত্তান্ত। ফলে ‘নিখুঁত’ সিভি আর আগের মতো আলাদা করে নজর কাড়ছে না; বরং কখনো কখনো সেটিই নিয়োগদাতার সন্দেহের কারণ হয়ে উঠছে।
ফোর্বসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এআইয়ের সহায়তায় তৈরি করা সিভি এখন চাকরিদাতাদের জন্য সন্দেহের কারণ হতে পারে। নিয়োগদাতারা এ ধরনের সিভিকে কৃত্রিম মনে করে অবিশ্বাসী হয়ে উঠছেন।
সিভি তৈরিতে এআইয়ের ব্যাপক ব্যবহার
Visit mchezo.life for more information.
চাকরিপ্রার্থীদের বড় একটি অংশ এখন জীবনবৃত্তান্ত তৈরিতে এআই ব্যবহার করছেন। বিভিন্ন এআই টুল প্রার্থীর অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার তথ্য নিয়ে সেগুলোকে আরও পেশাদার ভাষায় সাজিয়ে দিতে পারে। একই সঙ্গে চাকরির বিজ্ঞপ্তি বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় কি–ওয়ার্ডও যুক্ত করতে পারে।
এর ফলে একজন প্রার্থীকে যেমন নিজের সিভি তৈরিতে কম সময় ব্যয় করতে হচ্ছে, তেমনি নিয়োগদাতাদের কাছেও একই ধরনের ভাষা ও কাঠামোর অসংখ্য সিভি পৌঁছাচ্ছে।
এক পরীক্ষার অপেক্ষায় বছর পার, চাকরিপ্রার্থী সাত লাখ‘নিখুঁত’ সিভিই যখন সন্দেহজনক
এআইয়ের কারণে এখন একটি সিভি অত্যন্ত পরিশীলিত, নিখুঁত এবং চাকরির বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে প্রায় হুবহু সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে। কিন্তু এমন সিভি দেখে নিয়োগদাতার মনে প্রশ্ন উঠতে পারে—এটি কি সত্যিই প্রার্থীর নিজের লেখা?
এক জরিপে প্রায় ২০ শতাংশ নিয়োগদাতা জানিয়েছেন, এআই দিয়ে তৈরি বলে মনে হলে তাঁরা কোনো প্রার্থীর সিভি বা কভার লেটার সরাসরি বাতিল করতে পারেন। এক-তৃতীয়াংশের বেশি নিয়োগদাতা বলেছেন, তাঁরা ২০ সেকেন্ডের কম সময়ে এআই দিয়ে তৈরি আবেদনের লক্ষণ শনাক্ত করতে পারেন।
আলাদা হবেন কীভাবে
চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সবচেয়ে কার্যকর উপায় হতে পারে সিভিতে নিজের কণ্ঠস্বর ও বাস্তব অভিজ্ঞতার ছাপ রাখা। অতিরিক্ত সাধারণ বা প্রচলিত শব্দের পরিবর্তে নির্দিষ্ট ঘটনা, প্রকল্প, অর্জন ও ফলাফল তুলে ধরা গুরুত্বপূর্ণ।
‘দলের দক্ষতা বাড়িয়েছি’ এমন সাধারণ বাক্যের পরিবর্তে কীভাবে একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া পরিবর্তন করে কী ফল পাওয়া গেছে, তা উল্লেখ করলে প্রার্থীর বাস্তব দক্ষতা অনেক বেশি স্পষ্ট হয়।
অর্থাৎ শুধু কী করেছেন তা নয়, কীভাবে করেছেন এবং তার ফল কী হয়েছে—সিভিতে সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ঢাবি আইবিএতে পোশাক ব্যবসায় পোস্টগ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা, নেই টিউশন ফিএআইয়ের সীমিত ব্যবহার করুন
এর অর্থ এই নয় যে চাকরিপ্রার্থীদের এআই ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। সিভির ফরম্যাট ঠিক করা, নিজের তথ্য থেকে বুলেট পয়েন্ট তৈরি করা কিংবা খসড়া তৈরির পর ভাষা ও কি–ওয়ার্ড যাচাইয়ে এআই ব্যবহার করা যেতে পারে।
তবে এআই দিয়ে পুরো সিভি তৈরি করে নেওয়া, নিজের অভিজ্ঞতা বাড়িয়ে বলা কিংবা এমন কোনো দক্ষতা যুক্ত করা, যা আসলে আপনার নেই, তা সংযোজন করা যাবে না।
একটি সহজ নিয়ম হতে পারে—সিভির প্রতিটি বাক্য সম্পর্কে সাক্ষাৎকারে অনায়াসে ব্যাখ্যা দিতে না পারলে সেটি সিভিতে রাখা উচিত নয়।
শেষ পর্যন্ত এআইয়ের যুগে চাকরি পাওয়ার লড়াইটা হয়তো আর সবচেয়ে নিখুঁত সিভি তৈরির প্রতিযোগিতা নয়; বরং কে নিজের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্যভাবে তুলে ধরতে পারেন, সে প্রতিযোগিতাই হয়ে উঠছে গুরুত্বপূর্ণ।