হাত-পা রোগা, অথচ পেটের মেদ বাড়ছে কেন?
· Prothom Alo

ওজন খুব বেশি নয়, তবু আয়নার সামনে দাঁড়ালেই চোখে পড়ে বাড়তি ভুঁড়ি। এর পেছনে থাকতে পারে প্রতিদিনের কিছু ছোট ছোট অভ্যাস।
অনেকেরই এমন অভিজ্ঞতা আছে। শরীরের হাত-পা বেশ পাতলা, জামাকাপড়ের মাপও খুব একটা বাড়েনি, ওজনও স্বাভাবিকের কাছাকাছি। কিন্তু পেটের দিকে তাকালেই যেন সব হিসাব বদলে যায়। কোমরের মাপ বাড়ছে, পেটের মেদ জমছে, অথচ শরীরের অন্য অংশে তেমন কোনো পরিবর্তন নেই। বিষয়টি শুধু দেখতে কেমন লাগছে তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শরীরে চর্বি কোথায় জমছে, দৈনন্দিন জীবনযাপন কেমন এবং খাবারের ধরন কেমন, এসবের সঙ্গেও এর সম্পর্ক থাকতে পারে।
Visit betsport.cv for more information.
সারাদিন বসে থাকা
সকালে ঘুম থেকে উঠে অফিস, তারপর দীর্ঘ সময় চেয়ারে বসে কাজ, মাঝে গাড়ি বা লিফটে যাতায়াত, বাড়ি ফিরে আবার সোফায় বসে থাকা। আধুনিক জীবনে এই চিত্র খুব পরিচিত। শরীরের বড় কোনো অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নাড়াচাড়া না করে দিনের বেশির ভাগ সময় বসে কাটালে দৈনন্দিন শারীরিক কর্মকাণ্ড কমে যায়। ফলে খাবার থেকে পাওয়া শক্তির তুলনায় শরীরের খরচ কম হতে পারে। দীর্ঘদিন এমন জীবনযাপন চলতে থাকলে শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমার প্রবণতা বাড়তে পারে, যার একটি অংশ পেটের চারপাশেও দেখা যায়। তাই শুধু এক ঘণ্টা ব্যায়াম করলেই সারাদিনের বসে থাকা পুষিয়ে যাবে এমন নয়। কাজের ফাঁকে একটু হাঁটা, সিঁড়ি ব্যবহার করা কিংবা দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার মধ্যে ছোট বিরতি নেওয়ার অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ।
চিনি ও মিষ্টি খাবারের অভ্যাস
এক কাপ চায়ের সঙ্গে বিস্কুট। দুপুরের পর মিষ্টি কিছু খাওয়ার ইচ্ছা। বিকেলে কোমল পানীয়। আবার রাতে খাবারের পর মিষ্টান্ন। আলাদা করে দেখলে এগুলো খুব বড় কিছু মনে নাও হতে পারে। কিন্তু প্রতিদিনের এই ছোট ছোট অভ্যাস একসময় শরীরে বাড়তি ক্যালরি যোগ করতে পারে। বিশেষ করে চিনি ও অতিরিক্ত মিষ্টিজাতীয় খাবার নিয়মিত বেশি খেলে শরীরে অতিরিক্ত শক্তি জমতে পারে এবং ওজন ও শরীরের চর্বি বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
তাই চা বা কফিতে চিনি কতটা দিচ্ছেন, প্রতিদিন কতবার মিষ্টি বা মিষ্টিজাতীয় খাবার খাচ্ছেন, সেদিকেও নজর দেওয়া দরকার।
রাতে দেরি করে খাওয়া
দিনের ব্যস্ততায় অনেকের রাতের খাবার খেতে খেতে ১০টা বা ১১টা বেজে যায়। খাওয়ার পরপরই বিছানায় যাওয়ার অভ্যাসও কম নয়। রাত জাগা, অনিয়মিত খাবারের সময় এবং শারীরিক কর্মকাণ্ডের অভাব একসঙ্গে থাকলে ওজন ও কোমরের মাপ বাড়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই সম্ভব হলে রাতের খাবার খুব দেরি না করে খাওয়া এবং খাবারের পর কিছুটা সময় সক্রিয় থাকা ভালো অভ্যাস। তবে শুধু খাবারের সময়কে দায়ী না করে সারাদিনের মোট খাবার, শারীরিক কর্মকাণ্ড এবং ঘুমের অভ্যাসকেও একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
খাবারে প্রোটিন কম থাকলেও সমস্যা হতে পারে
অনেকের খাবারের প্লেটে ভাত বা রুটি থাকে প্রচুর, কিন্তু ডিম, মাছ, ডাল কিংবা অন্যান্য প্রোটিনের পরিমাণ থাকে কম। এতে পেট ভরা মনে হলেও খাবারটি সবসময় ভারসাম্যপূর্ণ নাও হতে পারে। শরীরের পেশি ধরে রাখতে পর্যাপ্ত প্রোটিন গুরুত্বপূর্ণ। পেশির পরিমাণ কম এবং শরীরে চর্বির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হলে একজন মানুষকে বাইরে থেকে পাতলা দেখালেও শরীরের গঠন তেমন টোনড নাও দেখাতে পারে। তাই শুধু কম খাওয়ার দিকে নজর না দিয়ে প্রতিদিনের খাবারে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রোটিন, শাকসবজি, ফল এবং অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার রাখাও জরুরি।
ঘুম কম এবং মানসিক চাপ বেশি?
ঘুমের সঙ্গে আমাদের খাবারের অভ্যাস, ক্ষুধা এবং দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের সম্পর্ক রয়েছে। নিয়মিত কম ঘুম হলে অনেকের ক্ষুধা ও খাবারের প্রতি আকাঙ্ক্ষায় পরিবর্তন আসতে পারে। দীর্ঘদিনের মানসিক চাপও জীবনযাপনের বিভিন্ন অভ্যাসকে প্রভাবিত করতে পারে। রাত জেগে কাজ করা, সকালে ক্লান্ত হয়ে ওঠা, দিনের মধ্যে বারবার মিষ্টি বা উচ্চ ক্যালরির খাবারের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করা এবং ব্যায়ামের সময় না পাওয়া। সবকিছু মিলেই শরীরের ওজন ও চর্বি বাড়ার একটি চক্র তৈরি করতে পারে।
শুধু ওজনের মেশিনে তাকালেই হবে না
হাত-পা পাতলা বলে শরীরে চর্বি নেই, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। আবার পেটের মেদ থাকলেই যে কারণ একটিমাত্র, তাও নয়। খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক কর্মকাণ্ড, ঘুম, মানসিক চাপ, বয়স এবং ব্যক্তিভেদে শরীরের গঠনসহ বিভিন্ন বিষয় এতে ভূমিকা রাখতে পারে। তাই ভুঁড়ি কমানোর জন্য হঠাৎ করে না খেয়ে থাকা বা কোনো একটি খাবার পুরোপুরি বাদ দেওয়ার বদলে জীবনযাপনের পুরো চিত্রটির দিকে তাকানো বেশি জরুরি। প্রতিদিন একটু বেশি হাঁটা, নিয়মিত ব্যায়াম করা, খাবারের পরিমাণ ও ধরন সম্পর্কে সচেতন হওয়া, পর্যাপ্ত প্রোটিন ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া এবং ঘুমের সময় ঠিক রাখার চেষ্টা করা যেতে পারে।
সুস্থ শরীরের জন্য কোনো জাদুকরী সমাধান নেই। প্রয়োজন ধারাবাহিকতা। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে শুধু পেটের মাপ কমানোর চিন্তা না করে নিজের প্রতিদিনের অভ্যাসগুলোর দিকে একটু খেয়াল করলেই হয়তো পরিবর্তনের শুরুটা সেখান থেকেই হতে পারে।
সূত্র: হেলথ ডট কম
ছবি: এআই