বিশ্ব বাঁশ দিবস: বাঁশকোড়লের তরকারি থেকে কবরে বাঁশের বেড়া, জীবনে কতভাবে বাঁশ দেখেছেন?

· Prothom Alo

বাঁশ দেওয়া আর বাঁশ খাওয়ার পালাবদলেই চলছে জীবন। এদিকে যাপনের বহু ক্ষেত্রে বেশ কাজে লাগে বাঁশ। আর সেজন্যই আজ ১৮ সেপ্টেম্বর পালন করা হয় বিশ্ব বাঁশ দিবস।

Visit betsport.cv for more information.

আপনার জীবনও কি বাঁশময়? বাঁশ দেওয়া আর বাঁশ খাওয়ার ধারনাটি যতই নেতিবাচক হোক, আমাদের জীবনযাপনের বহু ক্ষেত্রে বেশ কাজে লাগে এই বাঁশ। বাঁশ ছাড়া কিন্তু চলেই না আমাদের। বাঁশে ভর দিয়েই নগরী বাড়ছে কলেবরে আর উচ্চতায়। দালান ও অবকাঠামো তুলতে কিন্তু এই বাঁশেরই শরণাপন্ন হতে হয়।

অবকাঠামো তুলতে কিন্তু এই বাঁশেরই শরণাপন্ন হতে হয়বাঁশঝাড় ছাড়া গ্রামাঞ্চলে এখনও কোনো বাড়ি দেখা যায় না

বর্ধিষ্ণু নতুন ঢাকার চাহিদার যোগান দিতে শত বছর আগে বুড়িগঙ্গার কোল ঘেষে গড়ে ওঠে বাঁশপট্টি। গ্রামে বাঁশের খুঁটিতেই ঘর দাঁড়ায়। বাঁশ থেকে হয় বেড়া আর ঘরের দেওয়াল। বাঁশঝাড় ছাড়া গ্রামাঞ্চলে এখনও কোনো বাড়ি দেখা যায় না। এখন অবশ্য আগের মতো নির্জন এলাকা দুর্লভ বলে বাঁশঝাড়ে ভুতপেত্নী থাকার গল্পগুলো গল্পই হয়ে গিয়েছে।

বাঁশের সাঁকো দেখেছেন নিশ্চয়ই। এদিকে গ্রামে আগের দিনে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতেও বাঁশের খুঁটির ওপরে তৈরি করা হতো শৌচাগার। হালকা আর ঘুণে ধরার ভয় নেই বলে পাকা বাঁশের কদর আছে এখনও ঘরবাড়ি তৈরিতে।

বাঁশের সাঁকো দেখেছেন নিশ্চয়ই৪২ প্রজাতির বাঁশ জন্মায় আমাদের দেশে

লতানো গাছের লাউ, চিচিঙ্গা, শসা বুনলে অবশ্যই লাগবে জাংলা। বাঁশের চটি দিয়েই বানাতে হয়। সব মিলিয়ে চারিদিকে শুধু বাঁশ আর বাঁশ। বুদুম বাঁশের নাম শুনেছেন? সবচেয়ে মোটা হয়ে থাকে এই বাঁশ। এদিকে মুলি বাঁশের নাম সবাই জানি আমরা। ৪২ প্রজাতির বাঁশ জন্মায় আমাদের দেশে।

বাঁশ দেওয়া শুনলেই ভয় পাবেন না। লাকি ব্যাম্বু এখন সবচেয়ে জনপ্রিয় হাউসপ্ল্যান্টগুলোর একটি। চাইনিজরা বিশ্বাস করে বাঁশ সৌভাগ্যের প্রতীক। চাইলে কিন্তু আজ অনায়াসে বাঁশ দিতে পারেন প্রিয়জনকে। লাকি ব্যাম্বু আর কী!

চাইলে কিন্তু আজ অনায়াসে এরকম বাঁশ দিতে পারেন প্রিয়জনকে

পার্বত্য অঞ্চলে তো বাঁশ জীবনের অপরিহার্য অংশ। টং ঘরে বাঁশ লাগবে। বাঁশের চটা দিয়ে ঝুড়ি তৈরি করা হয়। হাতে বাঁশের লাঠি না থাকলে পাহাড়ি পথে চলাচল কঠিন। বাঁশ সেখানে রান্নার তৈজস। বিশেষ প্রকারের বাঁশ দিয়ে তৈরি চুঙ্গা পিঠা তো আছেই।

হালের ক্রেজ ব্যাম্বু চিকেন

আর হালের ক্রেজ ব্যাম্বু চিকেন, ব্যাম্বু বিরিয়ানির কথা না বললেই নয়। বাঁশের ফোকরে পুরে রান্না করা হয় বিন্নি ভাতও।

শুধু রান্নার কাজে লাগে না বাঁশ। বাঁশ খেতেও দারুণ মজা। কচি বাঁশকোড়ল বা ব্যাম্বু শুট এখন বলতে গেলে আমাদের দেশে এক ভাইরাল খাদ্যোপকরণ। পার্বত্য অঞ্চলে বহু যুগ ধরেই এটি খেয়ে আসছেন সকলে। চাইনিজ বা অন্যান্য ওরিয়েন্টাল রান্নায়ও বাঁশ কোড়ল অত্যন্ত জনপ্রিয়। বাঁশ খাওয়ার আছে আরও সব উপায়।

কচি বাঁশকোড়ল বা ব্যাম্বু শুট এখন বলতে গেলে আমাদের দেশে এক ভাইরাল খাদ্যোপকরণদেশে এখন মিলছে বাঁশপাতার চা

আমাদের দেশে এখন মিলছে বাঁশপাতার চা। বলা হচ্ছে অনেক স্বাস্থ্যগুণ আছে এই চায়ের। এভাবে কি বাঁশ খেয়েছেন কখনো? রেসিপি রইল নিচের লিংকে।

আমাদের দেশে এখন বাঁশের আসবাব, হোম ডেকোর পণ্য, তৈজস আর জানালায় বাঁশের তৈরি ব্লাইন্ড নিয়ে যেকোনো সময়ের চেয়ে আগ্রহ বেশি। ইকো ফ্রেন্ডলি এই উপকরণটির আসলে তুলনা নেই।

ইকো ফ্রেন্ডলি এই উপকরণটির আসলে তুলনা নেই

তবে বাঁশ ব্যবহার করার আগে ঠিকভাবে জাগ দেওয়া, শুকানো ও সিজন করা জরুরি। সুরক্ষার জন্য ভার্নিশ বা পেইন্ট ব্যবহার করা যায়। এতে শোভাও বাড়ে।

বাংলা ভাষায় অবশ্য বাঁশ বলতে শুধু বাঁশই বোঝায় না। জীবনের যত প্রতিকূলতা আর নেতিবাচকতাকে বাঁশ খাওয়া বলি আমরা। জীবনটা আজকাল বাঁশময়ই বটে। এদিকে বাঁশ দিতেও দ্বিধা করেন না অনেকে।

প্রেমিক-প্রেমিকা বাঁশ দিয়ে চলে যায়। ভাগ্যের হাতেও বাঁশ খাই আমরা অহরহ।

পরীক্ষার খাতায় বাঁশ খাওয়ার দুঃখ আমরা কেই-বা ভুলতে পেরেছি। শোনা যায়, দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়টিকে ছাত্ররা অনেকেই বাঁশবাগান বলে থাকে। আবার ভাইরাল মিম বলে, জীবনটা মাটির চুলা, একের পর এক বাঁশ ঢুকছে। প্রেমিক-প্রেমিকা বাঁশ দিয়ে চলে যায়। ভাগ্যের হাতেও বাঁশ খাই আমরা অহরহ।

ওহ, আজ ১৮ সেপ্টেম্বর। প্রতি বছর এই দিনেই বিশ্ব বাঁশ দিবস পালিত হয়। এই দিবসটি ২০০৯ সালে ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ৮ম বিশ্ব বাঁশ সম্মেলনে ঘোষণা করে ওয়ার্ল্ড ব্যাম্বু অর্গানাইজেশন (WBO)। এর উদ্দেশ্য হলো বাঁশের গুরুত্ব ও সম্ভাবনা সম্পর্কে বিশ্বজুড়ে সচেতনতা তৈরি করা।

কেন বাঁশ দিবস উদযাপন করা হয়

বাঁশ দিবস হলো পরিবেশ, অর্থনীতি ও সংস্কৃতিতে বাঁশের নানা উপকারিতা তুলে ধরার একটি উদ্যোগ। এদিনে বিশেষভাবে যেসব দিক তুলে ধরা হয়:

পরিবেশ রক্ষা: বাঁশ দ্রুত বর্ধনশীল ও নবায়নযোগ্য সম্পদ। এটি প্রচুর কার্বন ডাইঅক্সাইড শোষণ করে এবং গভীর শিকড়ের কারণে মাটিক্ষয় রোধ করে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সহায়তা করে।

অর্থনৈতিক সুযোগ: বাঁশ দিয়ে টেক্সটাইল, নির্মাণসামগ্রী, হস্তশিল্প, খাবারসহ নানা শিল্প গড়ে তোলা যায়, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে সহায়তা করে।

টেকসই জীবনযাপন: বাঁশ কাঠ ও প্লাস্টিকের পরিবেশবান্ধব বিকল্প। এটি দিয়ে বায়োডিগ্রেডেবল (পচনশীল) পণ্য তৈরি করা যায় এবং কাটার সময় গাছের মূল ধ্বংস হয় না।

সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য: বাঁশ স্থানীয় সংস্কৃতি, সঙ্গীত, হস্তশিল্প ও স্থাপত্যের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।

বাঁশের সবচেয়ে খারাপ ব্যবহার মনে হয় কাউকে আঘাত করার অস্ত্র হিসেবে

বাঁশের গল্প যেন আর শেষই হচ্ছে না। তবে বাঁশের সবচেয়ে খারাপ ব্যবহার মনে হয় কাউকে আঘাত করার অস্ত্র হিসেবে। মব সৃষ্টি, সন্ত্রাস আর হানাহানি, মারামারি না হোক বাঁশ দিয়ে। কারও অনাকাংক্ষিত মৃত্যুর পর কবরে বাঁশের বেড়ার পাশে দাঁড়িয়ে যেন আর কেউ না কাঁদে। বিশ্ব বাঁশ দিবসে এটুকুই চাওয়া। সূত্র: ডেইজ অব দ্য ইয়ার হিরো ইমেজ: জেমিনি এআই ছবি: জেমিনি এ আই, হাল ফ্যাশন, উইকিমিডিয়া কমন্স ও ইন্সটাগ্রাম

Read full story at source