‘আরেক ফাল্গুন’ পাঠে ভাষা আন্দোলনের সাহস ও আত্মত্যাগের গল্প
· Prothom Alo

জহির রায়হান ছিলেন বাংলাদেশের অন্যতম প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক, ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা। তিনি ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ছিলেন। তাঁর রচিত উপন্যাস ‘আরেক ফাল্গুন’ নিয়ে পাঠচক্রের আসর করেছে জামালপুর বন্ধুসভা। সম্প্রতি আশেক মাহমুদ কলেজ প্রাঙ্গণে এই আসর বসে।
‘আরেক ফাল্গুন’ জহির রায়হানের একটি বিখ্যাত উপন্যাস। পটভূমি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন। তখন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এর প্রতিবাদে বাংলার ছাত্র-তরুণ ও সাধারণ মানুষ আন্দোলনে নেমে পড়ে। মাতৃভাষার অধিকার রক্ষার জন্য তাঁরা নিজেদের জীবন পর্যন্ত দিতে প্রস্তুত ছিল।
Visit umafrika.club for more information.
উপন্যাসে সেই সময়ের ছাত্রসমাজের দেশপ্রেম, সাহস, প্রতিবাদ, ভালোবাসা ও আত্মত্যাগের চিত্র খুব সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। তাঁরা শুধু নিজের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন নিজের ভাষায় কথা বলতে পারে এবং নিজের ভাষার মর্যাদা নিয়ে বাঁচতে পারে—এই চিন্তা থেকেই আন্দোলন করেছিল। আন্দোলনের কারণে অনেককে গ্রেপ্তার হতে হয়েছে, নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে; তবু তাঁদের মধ্যে ভয় কাজ করেনি।
পাঠচক্র শেষে জামালপুর বন্ধুসভার বন্ধুরা।জহির রায়হান এই উপন্যাসে ভাষা আন্দোলনকে শুধু একটি রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে দেখাননি। তিনি আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত তরুণ-তরুণীদের ব্যক্তিগত জীবন, আবেগ, সম্পর্ক, ভালোবাসা, স্বপ্ন এবং মানসিক দ্বন্দ্বও তুলে ধরেছেন। তাই বইটি পড়লে মনে হয়, আমরা শুধু ইতিহাস পড়ছি না—বরং সেই সময়ের মানুষগুলোর সঙ্গে তাঁদের জীবনের একটি অংশ অনুভব করছি।
উপন্যাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস। শাসকগোষ্ঠীর চাপ ও ভয়ের মধ্যেও তরুণেরা নিজেদের অধিকার থেকে পিছিয়ে যায়নি। তাঁদের কাছে বাংলা শুধু একটি ভাষা ছিল না; বাংলা ছিল তাদের পরিচয়, অস্তিত্ব ও আত্মমর্যাদার অংশ।
‘আরেক ফাল্গুন’ নামটির মধ্যেও একটি গভীর প্রতীকী অর্থ রয়েছে। ফাল্গুন মানে বসন্ত—নতুন জীবন, নতুন আশা ও জাগরণের প্রতীক। ‘আরেক ফাল্গুন’ যেন বোঝায়, একুশের সেই আন্দোলন ও জাগরণ এখানেই শেষ নয়। ভবিষ্যতেও নতুন প্রজন্ম অন্যায়ের বিরুদ্ধে জেগে উঠবে এবং নিজেদের অধিকার রক্ষায় সংগ্রাম করবে।
পাঠ আলোচনায় অংশ নিয়েছেন সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমির হামজা, স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া সম্পাদক জোবাইর আহম্মদ, মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক মো. হৃদয় ও কার্যনির্বাহী সদস্য মো. বায়েজিদসহ অন্য বন্ধুরা।
পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক, জামালপুর বন্ধুসভা