‘ওয়াও! তুই কখন আসলি?’, কৃতী সংবর্ধনায় বন্ধুদের পেয়ে উচ্ছ্বাস

· Prothom Alo

‘ওয়াও! তুই কখন আসলি?’—দূর থেকে বন্ধুর চিৎকার শুনে ঘুরে তাকাল মিফতাহুল জান্নাত। মুহূর্তেই মুখে হাসি সুমাইয়া জাহানের। দুজনই শিখো-প্রথম আলো জিপিএ-৫ কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসে খুঁজছিল পরিচিত মুখ। একটু পরেই দেখা মিলল সহপাঠী নুসরাত সাদিয়া, তাসনিয়া তানিশার। দুজনের কথায়-কথায় যোগ দিলেন তাবাসুম চৌধুরী ও সায়মা ইসলাম। অপরিচিত ভিড়টা মুহূর্তেই হয়ে উঠল চেনাজানা বন্ধুদের মিলনমেলা।

Visit afnews.co.za for more information.

হবিগঞ্জে জিপিএ-৫ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এমন দৃশ্য দেখা গেল আজ রোববার সকালে। জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে চার শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়। আজ সকাল থেকে শহরে মুষলধারে বৃষ্টি হয়। তবে তা বাধা হতে পারেনি। কেউ ভিজে আবার আধভেজা হয়ে অনুষ্ঠানস্থলে হাজির হন।

সেলফিতে স্মৃতি ধরে রাখছে কৃতী সংবর্ধনায় আসা বন্ধুরা। জেলা পরিষদ মিলনায়তন, হবিগঞ্জ। ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রথম আলোর আয়োজনে ও শিক্ষার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘শিখো’র পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত হচ্ছে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী সংবর্ধনা ২০২৬। ‘স্বপ্ন দেখো জীবন গড়ো’ স্লোগান নিয়ে সারা দেশে ২০২৬ সালে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ৬৪ জেলায় এ সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে।

আয়োজনটি পাওয়ার্ড বাই বিকাশ এবং সহযোগিতায় থাকছে কনকর্ড গ্রুপ, ফ্রেশ, সেভয় আইসক্রিম, কনকা-গ্রী, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, কোয়ালিটি গ্রুপ, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি, জিংক বি, অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ শাখা ক্যাম্পাস, আম্বার আইটি লিমিটেড, এটিএন বাংলা ও প্রথম আলো বন্ধুসভা।

এরই ধারাবাহিকতায় আজ হবিগঞ্জের পর্বের আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। সংবর্ধনা ঘিরে সকাল ৯টার আগেই অনুষ্ঠানস্থলে জড়ো হতে থাকে শিক্ষার্থীরা। প্রবল বৃষ্টির মধ্য কেউ অভিভাবকদের সঙ্গে কেউবা বন্ধুদের সঙ্গে অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণে চলে আসে। একসময় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে ভরে যায় পুরো মিলনায়তন।

জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হয় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের কার্যক্রম। জেলা পরিষদ মিলনায়তন, হবিগঞ্জ। ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সকাল ১০টায় জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হয় অনুষ্ঠান। প্রথম আলো বন্ধুসভার সদস্য মোহাম্মদ তোফাজ্জল শাকিলের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন প্রথম আলোর হবিগঞ্জের নিজস্ব প্রতিবেদক হাফিজুর রহমান।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. মোজাম্মেল হক কৃতী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, তুমি যতই দক্ষ হও তোমার মধ্যে যদি সততা না থাকে, মমতা না থাকে; তাইলে কিন্তু তুমি সফল হলে না। তিনি বলেন, পৃথিবী দ্রুত পরিবর্তনশীল এবং এই তথ্যপ্রযুক্তির যুগে লেখাপড়ার কোনো বিকল্প নেই। লেখাপড়ায় মনোযোগী হওয়ার পাশাপাশি তথ্য-প্রযুক্তিতে দক্ষ হতে হবে।

হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জাবেদ জিল্লাল বারী বলেন, তোমরা মেধাবীরা হলে তারুণ্যের শক্তি। এই শক্তিটাই হচ্ছে আসল শক্তি। যে শক্তির সাহায্যে নতুন দেশ গড়ে উঠবে। রাষ্ট্র বিনির্মাণে তোমাদের অবদানটাই হচ্ছে চূড়ান্ত । তোমরা আগামী দিনের নতুন বাংলাদেশ গড়ার কারিগর।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করেন শিল্পীরা। জেলা পরিষদ মিলনায়তন, হবিগঞ্জ। ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন হবিগঞ্জ বি কে জি সি সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক নাছিমা আক্তার খানম। প্রথম আলো সিলেটের নিজস্ব প্রতিবেদক ও বাংলা একাডেমি পদকপ্রাপ্ত লোকসংস্কৃতি গবেষক সুমনকুমার দাশ কয়েকজন আলোকিত মানুষের গল্প শুনিয়ে শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা দেন।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাদক, মিথ্যা ও মুখস্থকে ‘না’ বলতে শপথ পড়ান প্রথম আলোর হবিগঞ্জের নিজস্ব প্রতিবেদক হাফিজুর রহমান। অভিভাবকেদর মধ্যে থেকে বক্তব্য দেন সাবিনা চৌধুরী। অনুষ্ঠানে ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষে মেডিকেল পরীক্ষায় জাতীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী তাজওয়ার হাসনাত ত্বোহা তাঁর সাফল্যের গল্প শোনান। কৃতী শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে বক্তব্য দেয় জিনিয়া শওকত জুসি ও সাবিহা তাবাসসুম তানহা। সাংস্কৃতিক পর্বে গান পরিবেশন করেন শিল্পী শাহ আলম চৌধুরী মিন্টু, বাউল রুবিনা সরকার ও বিনয় সূত্রধর।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে গানে গানে শিক্ষার্থীদের মাতিয়ে রাখেন শিল্পীরা। জেলা পরিষদ মিলনায়তন, হবিগঞ্জ। ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এদিকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ঘিরে শিক্ষার্থীদের প্রাণোচ্ছল ঘোরাঘুরিতে পুরো মিলনায়তনে প্রাঙ্গণে তৈরি হয় উৎসবের আমেজ। ভিড় বাড়তে থাকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে ঘিরে স্থাপন করা বিভিন্ন স্টলে। কেউ কুইজে অংশ নিচ্ছিল আবার কেউ প্রথম আলোর চরকি ঘুরিয়ে বিভিন্ন পুরস্কার জিতে নিচ্ছিল।

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অনুষ্ঠানে এসেছিল হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাহিদ ইসলাম ও আবির আহমেদ। তাঁরা দুজনই এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে। অনুষ্ঠানে অন্য বন্ধুদের সঙ্গে তাদের দেখা হয়েছে, গল্প হয়েছে। ভবিষ্যতে তারা একে অপরের সঙ্গে বন্ধুত্ব ধরে রাখতে চায়।

তাবাচ্ছুম নাজিয়া, অধরা চক্রবর্তী, তাছকিয়া আক্তার নুহা, আরাবী আলম রোজা, আশরাফুল আনাম শুভ, পূজা কান্তি দাশ, মো. মানছুরুল ইসলাম সোহান, অনিন্দ্য সরকার, গৌরভ দাস ও জান্নাতুল মাওয়া স্বর্ণা প্রথম আলোর চরকি ঘুরিয়ে বিজ্ঞানচিন্তা ও কিশোর আলো পুরস্কার পেয়েছে। কুইজ বিজয়ী ১০ শিক্ষার্থীর হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রথম আলোর সিলেটের নিজস্ব প্রতিবেদক সুমনকুমার দাশ ও হবিগঞ্জের নিজস্ব প্রতিবেদক হাফিজুর রহমান।

Read full story at source