জুডিশিয়াল সার্ভিসের তিন সদস্যকে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে পদায়নের বৈধতা নিয়ে রিট

· Prothom Alo

বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের তিনজন সদস্যকে দুজন মন্ত্রী ও একজন প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে পদায়নের বৈধতা নিয়ে রিট হয়েছে। রিটে পদায়নের প্রজ্ঞাপনের কার্যক্রম স্থগিত চাওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে তাঁদের প্রত্যাহার করে জুডিশিয়াল সার্ভিসে পদায়নের জন্য নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

Visit biznow.biz for more information.

বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকার্ট বেঞ্চের আজকের কার্যতালিকায় রিটিট ১৯৭ নম্বর ক্রমিকে ওঠে।

এর আগে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রাশেদুল হক খোকন আবেদনকারী হয়ে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় গতকাল সোমবার রিটিট দায়ের করেন।

রিট আবেদন থেকে জানা যায়, আইন ও বিচার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব জি এম ফারহান ইসতিয়াককে (যুগ্ম জেলা জজ) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে পদায়ন করে গত ৯ মার্চ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর আগে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আইন ও বিচার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) কামরুল হাসানকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব হিসেবে বদলি করা হয়। চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু বকর সিদ্দিককে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব (সিনিয়র সিভিল জজ) হিসেবে পদায়ন করে ১৬ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শের কথা উল্লেখ রয়েছে।

রিট আবেদনের যুক্তিতে বলা হয়, বিচারিক কর্মকর্তাদের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে নির্বাহী পদে বদলি/নিয়োগের উদ্দেশ্যে জারি করা স্মারকগুলো ২০২৫ সালের জুডিশিয়াল সার্ভিস গঠন বিধিমালার আওতা ও পরিধির বাইরে। যে পদগুলোতে বিচারিক কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হয়েছে, সেসব পদ বিধিমালার ৪(১) বিধি কিংবা ওই বিধিমালার তফসিলে উল্লেখ নেই। সে কারণে স্মারকগুলো বেআইনি হিসেবে ঘোষণার যোগ্য।

বিচার বিভাগ পৃথক্‌করণ–সংক্রান্ত মাসদার হোসেন মামলার রায়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরে যুক্তিতে বলা হয়েছে, আপিল বিভাগ সিদ্ধান্ত অনুসারে সংবিধানের ১৫২(১) অনুচ্ছেদের অর্থ জুডিশিয়াল সার্ভিস প্রজাতন্ত্রের একটি সার্ভিস হলেও এটি প্রজাতন্ত্রের বেসামরিক নির্বাহী ও প্রশাসনিক সার্ভিস থেকে কার্যত ও কাঠামোগতভাবে সম্পূর্ণ পৃথক ও স্বতন্ত্র। কোনোভাবেই জুডিশিয়াল সার্ভিসকে বেসামরিক নির্বাহী ও প্রশাসনিক সার্ভিসের সমপর্যায়ে রাখা যাবে না। জুডিশিয়াল সার্ভিসকে এসব সার্ভিসের সঙ্গে একীভূত, বিলুপ্ত, প্রতিস্থাপিত ও একত্র করা যাবে না। বিচারিক কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের একান্ত বা ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে বদলি/নিয়োগ ওই মামলায় ঘোষিত নীতির পরিপন্থী।

মূলত ওই সব যুক্তিতে রিটটি দায়ের করা হয়েছে বলে জানান রিট আবেদনজারীর আইনজীবী চঞ্চল কুমার বিশ্বাস। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারকদের চাকরি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করার সুযোগ নেই। অথচ পদায়ন–সংক্রান্ত স্মারকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে চাকরি ন্যস্ত করার কথা উল্লেখ রয়েছে, যা মাসদার হোসেন মামলার রায়ের নীতির পরিপন্থী। আগামী সপ্তাহে রিটের ওপর শুনানি হতে পারে।’

রিটের প্রার্থনায় দেখা যায়, জুডিশিয়াল সার্ভিসের তিনজন সদস্যের পদায়ন–সংক্রান্ত গত ২৫ ফেব্রুয়ারি, গত ৯ মার্চ ও ১৬ সেপ্টেম্বরের স্মারকগুলো কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না—এ বিষয়ে রুল চাওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের জুডিশিয়াল সার্ভিস গঠন বিধিমালার তফসিলে নির্ধারিত পদগুলোর বাইরে কোনো বিচারিক কর্মকর্তাকে বদলি বা নিয়োগ করা থেকে বিরত থাকতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, সে বিষয়েও রুল চাওয়া হয়েছে রিটে।

আর রুল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় ওই তিনটি স্মারকের কার্যক্রম স্থগিত এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে তাঁদের প্রত্যাহার করে জুডিশিয়াল সার্ভিসে পদায়নের জন্য নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিটে।

Read full story at source