দাওয়াত থেকে ফিরছিলেন ব্যবসায়ী, পথ আটকে হামলা–গুলি
· Prothom Alo

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার আমানউল্যাহপুর গ্রামে আনোয়ার হোসেন নামের এক ব্যবসায়ীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় গুলিতে এক কিশোরসহ তিনজন আহত হয়েছেন। আজ রোববার বেলা তিনটার দিকে আমানউল্যাহপুর বাজারের পশ্চিমে আরিফুর রহমান চেয়ারম্যানের বাড়ির পাশে এ ঘটনা ঘটে। আহত তিনজনকে বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
Visit chinesewhispers.club for more information.
হাসপাতালে আহত ব্যক্তিদের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আমানউল্যাহপুর বাজারের রড ও সিমেন্ট ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন একটি দাওয়াত অনুষ্ঠান থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় বাড়ি ফিরছিলেন। বাজারের পশ্চিম পাশে সাবেক চেয়ারম্যান আরিফুর রহমানের বাড়ির কাছে একটি কালভার্টে পৌঁছালে একদল লোক তাঁর ওপর হামলা চালায়। আনোয়ার হোসেন জামায়াতে ইসলামীর কর্মী বলে জানায় দলটি।
স্থানীয় বাসিন্দা মামুনুর রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি দল লাঠিসোঁটা, আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশি অস্ত্র নিয়ে আনোয়ার হোসেনের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে তারা এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে আনোয়ার হোসেন (৪৮) কান ও মাথায় আঘাত পান। সৌরভ উদ্দিন (১৭) নামের এক কিশোর মাথায় ছররা গুলিবিদ্ধ হয়। এ ছাড়া শিহাব উদ্দিন (২০) নামের আরেক তরুণ পায়ের আঙুলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হন।
বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ফারহানা ইয়াসমিন প্রথম আলোকে বলেন, আনোয়ার হোসেন, সৌরভ উদ্দিন ও শিহাব উদ্দিনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সৌরভের মাথায় ছররা গুলির আঘাত রয়েছে। অন্য দুজনের শরীরেও ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে।
উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. আবদুজ জায়েদ প্রথম আলোকে বলেন, কয়েক দিন ধরে সাবেক চেয়ারম্যান আরিফুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের লোকজন ওই এলাকায় সংগঠিত হচ্ছেন বলে তাঁরা খবর পাচ্ছিলেন। আজ দুপুরে একটি দাওয়াত অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে জামায়াতে ইসলামীর কর্মী ও উপজেলা ব্যবসায়ী ফোরামের সেক্রেটারি আনোয়ার হোসেনের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এতে আনোয়ার হোসেনসহ তিনজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন গুলিবিদ্ধ। রাজনৈতিকভাবে নিজেদের আধিপত্য জানান দিতে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এই অভিযোগের বিষয়ে জানতে সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আরিফুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সাবেক চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনের সেতুর ওপর ঘটনাটি ঘটেছে। এক পক্ষ রাজনৈতিক বিরোধের কথা বলছে। তবে এর পেছনে আরও কারণ থাকতে পারে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।