নাশকতায় জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার ভারতীয় নাগরিক আবারও রিমান্ডে
· Prothom Alo

সন্দেহজনক গতিবিধি এবং সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে নাশকতায় জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার ভারতীয় নাগরিক রবিউল ইসলামকে (৪৪) আবারও চার দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ রোববার বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
Visit biznow.biz for more information.
২২ সেপ্টেম্বর ডিবির করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) ভিত্তিতে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় রবিউলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উত্তরা পশ্চিম থানার ১১ নম্বর সেক্টরের ১৩ নম্বর সড়কের ৬০ নম্বর বাসার নিচতলা থেকে তাঁকে আটক করা হয়েছিল। ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি বাংলাদেশে অবস্থান করছিলেন
২৩ সেপ্টেম্বর রবিউলকে আদালতের মাধ্যমে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ড শেষে আজ তাঁকে আদালতে হাজির করে দ্বিতীয় দফায় সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন পুলিশের একই দলের উপপরিদর্শক মেজবাহ উদ্দিন। রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, চার দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে রবিউলের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। সুষ্ঠু তদন্ত ও তাঁর দেওয়া তথ্য যাচাইয়ের জন্য তাঁকে আবারও সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা শুনানিতে বলেন, রবিউল বৈধভাবেই বাংলাদেশে এসেছেন। তাঁকে গ্রেপ্তার করে ইতিমধ্যে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। আবারও রিমান্ড চাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। চার দিনের রিমান্ডে তদন্তের কোনো অগ্রগতিও হয়নি।
শুনানি শেষে আদালত আদেশ পর্যালোচনার জন্য রাখেন। কিছুক্ষণ পর রবিউলের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
২৩ সেপ্টেম্বর আদালতকে ডিবি জানিয়েছিল, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রবিউল পাসপোর্ট দেখিয়ে নিজেকে ভারতীয় নাগরিক বলে পরিচয় দেন। পরে তাঁর কাছে থাকা ভারতীয় পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও এনআইডি যাচাই করে দেখা যায়, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও এনআইডিতে থাকা জন্মতারিখের সঙ্গে পাসপোর্টের জন্মতারিখের মিল নেই।
রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়, রবিউল এর আগে অনেকবার বাংলাদেশ ভ্রমণ করলেও আসা-যাওয়ার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানাতে পারেননি। তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য, তিনি একেক সময় একেক রকম তথ্য দিয়েছেন। পুলিশের ধারণা, তিনি বাংলাদেশে কোনো ধ্বংসাত্মক অপরাধে জড়িত থাকতে পারেন। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা শহরসহ সারা দেশে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
রিমান্ড আবেদনের নথি থেকে জানা যায়, রবিউলের বাবার নাম শহীদুল ইসলাম, মায়ের নাম সালেহা খাতুন। তাঁর স্থায়ী ঠিকানা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার মাটিয়া থানার গোঁড়ি ভোজ এলাকায়।