বছরের ব্যবধানে কফির আমদানি বেড়েছে ৪২%

· Prothom Alo

এক দশক আগেও কফি বলতে দেশের বেশির ভাগ মানুষের কাছে বোঝাত গরম পানিতে গুলিয়ে নেওয়া ইনস্ট্যান্ট কফি। এখন সেই চিত্র বদলেছে। নগরগুলোয় হয়েছে কফি শপ। ক্যাপাচিনো, লাতে, মকা কিংবা আমেরিকানোর মতো কফির সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন নতুন প্রজন্মের ভোক্তারা। সুপারশপ ও অনলাইনেও নানা ধরনের কফি পাওয়া যাচ্ছে।

এই পরিবর্তনের সঙ্গে কফির বাজারও বড় হচ্ছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আমদানির তথ্য বলছে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে দেশে কফি আমদানি হয়েছে ১ হাজার ৯৬৭ টন। আগের অর্থবছরে আমদানি হয়েছিল ১ হাজার ৩৫৫ টন; অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কফি আমদানি বেড়েছে ৬১২ টন বা প্রায় ৪৫ শতাংশ।

Visit asg-reflektory.pl for more information.

আজ ১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক কফি দিবস। এ উপলক্ষে গত পাঁচ বছরের আমদানির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মাঝখানে তিন বছর কফি আমদানি কমলেও সর্বশেষ অর্থবছরে তা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। শুধু তা–ই নয়, গত পাঁচ অর্থবছরের মধ্যে ২০২৫–২৬ অর্থবছরেই সবচেয়ে বেশি কফি আমদানি হয়েছে।

পাঁচ বছরে সর্বোচ্চ আমদানি

এনবিআরের তথ্যে দেখা যায়, ২০২১–২২ অর্থবছরে দেশে কফি আমদানি হয়েছিল ১ হাজার ৭৬৭ টন। পরের অর্থবছরে তা সামান্য কমে দাঁড়ায় ১ হাজার ৭৩২ টনে। এরপর টানা দুই বছর আমদানি কমে। ২০২৩–২৪ অর্থবছরে আমদানি হয় ১ হাজার ৪৩৯ টন। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে তা আরও কমে দাঁড়ায় ১ হাজার ৩৫৫ টনে।

সেখান থেকেই সর্বশেষ অর্থবছরে বড় উল্লম্ফন। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে আমদানি বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৯৬৭ টন; অর্থাৎ আগের অর্থবছরের তুলনায় আমদানি ৪৫ শতাংশ বেড়েছে। এমনকি ২০২১–২২ অর্থবছরের চেয়ে সর্বশেষ অর্থবছরে প্রায় ২০০ টন বেশি কফি এসেছে দেশে।

শুধু আমদানির পরিমাণ দিয়ে দেশের কফির বাজারের আর্থিক আকার নির্ধারণ করা যায় না। দাম, ব্র্যান্ড, বিক্রয়মূল্য ও স্থানীয়ভাবে প্রক্রিয়াজাতকরণের তথ্যও এ জন্য দরকার। তবে আমদানির সর্বশেষ উল্লম্ফন থেকে কফির ব্যবহার ও চাহিদা বাড়ার একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

বাজারে কফির ধরন বেড়েছে ঠিকই, তবে পরিমাণের হিসাবে এখনো ইনস্ট্যান্ট কফির আধিপত্য অনেক বেশি।

২০২৫–২৬ অর্থবছরে আমদানি করা ১ হাজার ৯৬৭ দশমিক ২০ টন কফির মধ্যে ১ হাজার ৬৬২ টন ছিল ইনস্ট্যান্ট কফি। আর কফি বিন ছিল ৩০৫ টন।

সে হিসাবে মোট আমদানির প্রায় ৮৫ শতাংশ ইনস্ট্যান্ট কফি এবং বাকি ১৫ শতাংশ কফি বিন। সহজ করে বললে, দেশে আমদানি হওয়া প্রতি ১০ কেজি কফির সাড়ে ৮ কেজিই এখনো ইনস্ট্যান্ট কফি।

গত অর্থবছরের তুলনায় অবশ্য কফি বিনের অংশ কিছুটা কমেছে। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে মোট আমদানির ১৭ শতাংশ ছিল কফি বিন। ইনস্ট্যান্ট কফির অংশ ছিল ৮৩ শতাংশ। সর্বশেষ অর্থবছরে ইনস্ট্যান্ট কফির অংশ বেড়ে প্রায় ৮৫ শতাংশ হয়েছে।

তবে দীর্ঘ মেয়াদের হিসাবে কফি বিনের বাজার অনেকটাই বেড়েছে। দুই দশক আগে দেশে আমদানি হওয়া কফির প্রায় পুরোটাই ছিল ইনস্ট্যান্ট। ২০০৫–০৬ অর্থবছরে মোট আমদানির প্রায় ৯৮ শতাংশ ছিল ইনস্ট্যান্ট কফি, কফি বিন ছিল মাত্র ২ শতাংশ।

অর্থাৎ কফি শপের সংস্কৃতি ও বিনভিত্তিক কফির ব্যবহার দেশে জায়গা করে নিয়েছে। কিন্তু সামগ্রিক বাজারের মূল ভরকেন্দ্র এখনো ইনস্ট্যান্ট কফি।

এনবিআরের আমদানির তথ্য অনুযায়ী, কফি আমদানিতে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে নেসলে বাংলাদেশ লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি নেসক্যাফে ব্র্যান্ডের কফি বাজারজাত করে। এরপর রয়েছে আবুল খায়ের গ্রুপ। তাদের কফির ব্র্যান্ড ‘আমা কফি’। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে প্রাণ–আরএফএল গ্রুপ, যারা ‘কফি হাউস’ ব্র্যান্ডে কফি বাজারজাত করছে। নতুন করে বাজার ব্র্যান্ডিং শুরু করেছে মেঘনা গ্রুপের ফ্রেশ ব্র্যান্ডের কফি।

আমদানিকারকদের শীর্ষস্থানীয় তালিকায় রয়েছে নর্থ এন্ড প্রাইভেট লিমিটেডও। প্রতিষ্ঠানটি মূলত কফি বিন এনে দেশে রোস্ট করে নিজস্ব ব্র্যান্ডে বিক্রি করে। কফি শপভিত্তিক বিন কফির বাজার তৈরিতে প্রতিষ্ঠানটি পরিচিত নাম।

শীর্ষ আমদানিকারকদের তালিকায়ও দেশের কফির বাজারের দুটি ধারা স্পষ্ট। একদিকে বড় বাজার ইনস্ট্যান্ট কফি। অন্যদিকে তুলনামূলক ছোট হলেও গড়ে উঠেছে কফি বিন, রোস্টেড কফি ও কফি শপকেন্দ্রিক আরেকটি বাজার।

Read full story at source