নরসিংদীতে বাড়িতে ঢুকে যুবককে গুলি করে হত্যা, ভাইকে কুপিয়ে আহত
· Prothom Alo

নরসিংদী শহরে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার জেরে বাড়িতে ঢুকে আবদুল্লাহ বাবু (২৬) নামের যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় তাঁর বড় ভাইসহ দুজন ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন। আজ শুক্রবার বিকেলে শহরের চৌয়ালা এলাকায় এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।
নিহত আবদুল্লাহ বাবু (২৬) নরসিংদী শহরের চৌয়ালা এলাকার উত্তরপাড়ার আবদুল কাদেরের ছেলে। তিনি ফুচকা-চটপটি বিক্রি করতেন। আহত হয়েছেন তাঁর বড় ভাই মো. রুবেল (৩০)। আহত আরেকজন হলেন পার্শ্ববর্তী কোনাপাড়ার জাকির মিয়ার ছেলে মো. মিরাজ (২০)। মিরাজের হামলার অভিযোগ উঠেছে। তাঁকে আটক করেছে পুলিশ।
Visit freshyourfeel.org for more information.
নিহত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা জানান, আজ বিকেল সাড়ে চারটার দিকে আবদুল্লাহ বাবু নিজ বাড়িতে ছিলেন। ওই সময় আবু লালের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বাড়িতে ঢোকে। তারা আবদুল্লাহর বুকে ও হাতে দুটি গুলি করে। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। তাদের বাধা দিতে এগিয়ে গেলে রুবেলের ডান হাতে কোপানো হয়।
স্থানীয় লোকজন হতাহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেন। এ সময় হাসপাতালটির কর্তব্যরত চিকিৎসক আবদুল্লাহকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে নরসিংদী মডেল থানার পুলিশ আবদুল্লাহ বাবুর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ফরিদা গুলশানারা কবির বলেন, ‘নিহত আবদুল্লাহ বাবুর শরীরে গুলির চিহ্ন পেয়েছি। তাঁকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। ধারালো অস্ত্রের কোপে আহত দুই ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’
পুলিশ বলছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আবু লাল এবং হেলাল মিয়া নামের স্থানীয় দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। দুজনের বিরুদ্ধে হত্যা, চুরি ও চাঁদাবাজির একাধিক মামলা রয়েছে। আজ শুক্রবার বিকেলে আবু লাল পক্ষের লোকজন হেলালপক্ষের আবদুল্লাহ বাবুকে বাড়িতে ঢুকে গুলি করেন। তাঁর ভাই রুবেলকে কুপিয়ে আহত করা হয়। মিরাজ কীভাবে আহত হয়েছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
নরসিংদী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ আর এম আল মামুন জানান, সুরতহাল শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা প্রক্রিয়াধীন। জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে। আহত মিরাজকে আটক করা হয়েছে, পুলিশের তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলছে।