বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা কাজী জাফর উল্যাহ ও তাঁর স্ত্রী-সন্তানদের ১৫৫ কোটি টাকা অবরুদ্ধ হচ্ছে

· Prothom Alo

আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ, তাঁর স্ত্রী নিলুফার জাফর উল্যাহ, বড় ছেলে কাজী ওমর জাফর, মেজ ছেলে কাজী রায়হান জাফর ও মেয়ে আনুস্কা মেহরীন জাফরের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে থাকা ১৫৫ কোটি টাকা অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ সোমবার ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. শাহজাহান কবিরের আদালত এ আদেশ দেন। দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দুদকের পক্ষ থেকে কাজী জাফর উল্যাহসহ তাঁর পরিবারের অবৈধভাবে অর্জিত ১৫৫ কোটি টাকা অবরুদ্ধের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

Visit biznow.biz for more information.

দুদকের আবেদনের সূত্রে জানা যায়, অবরুদ্ধ করা সম্পদের মধ্যে কাজী জাফর উল্যাহর মেঘনা ব্যাংকের বিভিন্ন হিসাবে মোট ২৪ কোটি ৬৪ লাখ ৯১ হাজার ৩৭৩ টাকা, মিডল্যান্ড ব্যাংকের বিভিন্ন হিসাবে ১৮ কোটি ৬ লাখ ৪২ হাজার ৫১৭ টাকা এবং প্রিমিয়ার ব্যাংকের গুলশান শাখায় ৭ কোটি ৫ লাখ ২৮ হাজার ৪০৫ টাকা রয়েছে। তাঁর স্ত্রী নিলুফা জাফরের অবরুদ্ধ করা সম্পদের মধ্যে রয়েছে মিডল্যান্ড ব্যাংকের বনানী শাখায় ১৮ কোটি ৬ লাখ ৪২ হাজার ৫১৭ টাকা এবং প্রিমিয়ার ব্যাংকের গুলশান শাখায় ৮ কোটি ১৯ লাখ ৩৪ হাজার ৫৭৮ টাকা। সন্তান কাজী ওমর জাফরের মেঘনা ব্যাংকে ৭১ লাখ ২২ হাজার ৯০৯ টাকার এফডিআর, মিডল্যান্ড ব্যাংকের বিভিন্ন হিসাবে ৯ কোটি ৬১ লাখ ৫ হাজার ১১১ টাকা এবং প্রিমিয়ার ব্যাংকের গুলশান শাখায় ১৩ কোটি ৫২ লাখ ৬৬ হাজার ৯৪৪ টাকা রয়েছে। আরেক সন্তান কাজী রায়হান জাফরের মেঘনা ব্যাংকে ১২ কোটি ৪২ লাখ ১৯ হাজার ৪৩৪ টাকা ও ১৬ হাজার ৫০০ ইউএস ডলার এবং প্রিমিয়ার ব্যাংকের গুলশান শাখায় ১০ কোটি ৯৫ লাখ ৭ হাজার ৪১৫ টাকা রয়েছে। মেয়ে আনুস্কা মেহরীন জাফরের মেঘনা ব্যাংকে ১ কোটি ৮৪ লাখ ৪৯ হাজার ৯৩০ টাকা এবং প্রিমিয়ার ব্যাংকের গুলশান শাখায় ২০ কোটি ৯২ লাখ ৯৪ হাজার ৩০২ টাকা রয়েছে।

আদালতে এসব সম্পদ অবরুদ্ধের আদেশ চেয়ে আবেদন করেন দুদকের সহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমান। আবেদনে বলা হয়, আসামিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। আসামিরা অর্জিত এসব অস্থাবর সম্পত্তি অন্যত্র হস্তান্তর, স্থানান্তর, বিক্রয় বা বেহাত করার চেষ্টা করছেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগটি নিষ্পত্তির আগে বর্ণিত সম্পত্তি অন্যত্র হস্তান্তর, স্থানান্তর বা বিক্রি হয়ে গেলে অনুসন্ধান কার্যক্রমে ক্ষতির কারণ হতে পারে। এ অবস্থায় এসব অস্থাবর সম্পত্তি অবরুদ্ধ করার আদেশ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

Read full story at source