ভারতের অধিনায়কত্ব ছাড়লেন হারমানপ্রীত

· Prothom Alo

অধিনায়কত্ব ছাড়লেন ভারত নারী ক্রিকেট দলকে প্রথমবার বিশ্বকাপ জেতানো হারমানপ্রীত কৌর। গত বছর ঘরের মাঠে তাঁর অধিনায়কত্বে মেয়েদের ওয়ানডে বিশ্বকাপ জেতে ভারত।

Visit forestarrow.rest for more information.

হারমানপ্রীত একই সঙ্গে তিন সংস্করণেরই অধিনায়কত্ব ছেড়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রাম পোস্টে নিজের এ সিদ্ধান্ত জানান ৩৭ বছর বয়সী ক্রিকেটার।

ভারতের হয়ে হারমানপ্রীত ৫টি টেস্ট, ৫১টি ওয়ানডে ও ১৫৫টি টি-টুয়েন্টি ম্যাচে অধিনায়কত্ব করেন। গত মাসে নিশিনে অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসে ভারতকে টানা দ্বিতীয়বার সোনা জেতানোই ছিল অধিনায়ক হিসেবে তাঁর শেষ দায়িত্ব।

নারী দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করতে গুয়াহাটিতে বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়ার সঙ্গে হারমানপ্রীত, ভারতের সহ-অধিনায়ক স্মৃতি মান্ধানা ও প্রধান কোচ অমল মজুমদারের বৈঠকের এক দিন পরই অধিনায়কত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানালেন হারমানপ্রীত।

ইনস্টাগ্রাম পোস্টে হারমানপ্রীত লিখেছেন, ‘এটি সহজ কোনো সিদ্ধান্ত নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা স্মৃতি, আবেগ, ত্যাগ এবং এমন অনেক মুহূর্ত, যা সারা জীবন আমার সঙ্গে থাকবে।’

এশিয়ান গেমসে ভারত সর্বশেষ হারমানপ্রীত কৌরের অধীনে সোনা জিতেছে

হারমানপ্রীতের ভাষায়, ‘অধিনায়ক হিসেবে আমাকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। সব সিদ্ধান্ত সবাই বুঝতে পারেনি, সব সিদ্ধান্ত সহজও ছিল না। কখনো কখনো এসব সিদ্ধান্তের ব্যক্তিগত মূল্যও দিতে হয়েছে। কিন্তু আমি প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি একটাই উদ্দেশ্যে—এই দলকে আরও ভালো করা ও অন্য খেলোয়াড়দের বেড়ে ওঠার, নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখার এবং নিজেদের সেরা সংস্করণ হয়ে ওঠার সুযোগ করে দেওয়া।’

সালমান আগা বাদ, পাকিস্তানের নতুন টি–টুয়েন্টি অধিনায়ক সাহিবজাদা ফারহান

অধিনায়কত্ব ছাড়ার সময় নিজের অনুভূতিও বলেন হারমানপ্রীত, ‘আজ আমি অনেক আবেগ নিয়ে অধিনায়কত্ব ছাড়ছি, তবে একই সঙ্গে আমার মনে শান্তিও আছে। কারণ আমি সত্যিই বিশ্বাস করি, আমার দল এখন ভালো জায়গায় আছে। এই দলে প্রতিভা আছে, চরিত্র আছে, বিশ্বাস আছে এবং একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ আছে। সেই ভবিষ্যৎ দেখতে ও তার অংশ হয়ে থাকতে আমি ভীষণ আগ্রহী।’

২০১২ সালে প্রথমবার ভারতের টি-টুয়েন্টি দলের অধিনায়কত্ব করেন হারমানপ্রীত। তবে ২০১৬ সালে ঘরের মাঠে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের পরই তিনি স্থায়ীভাবে অধিনায়কত্বের জন্য বিবেচিত হতে শুরু করেন।

২০১৮ সালে মিতালি রাজের কাছ থেকে পূর্ণকালীন অধিনায়কত্ব পাওয়ার পর ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে ভারতকে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নিয়ে যান হারমানপ্রীত। এরপর ২০২০ সালে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত তাঁর অধিনায়কত্বে রানার্সআপ হয়।

বেশ কিছুদিন ধরেই অধিনায়কত্বে পরিবর্তনের আলোচনা চলছিল। বিশেষ করে চলতি বছরের জুনে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয়বার গ্রুপ পর্ব থেকেই ভারতের বিদায়ের পর সেই আলোচনা আরও জোরালো হয়।

View this post on Instagram

A post shared by Harmann (@imharmanpreet_kaur)

অমিতা শর্মার নেতৃত্বাধীন নির্বাচক কমিটিতেও এ বিষয়ে মতবিভেদ ছিল বলে জানা গেছে। যদিও হারমানপ্রীত ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক পর্যন্ত ভারতকে নেতৃত্ব দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।

হারমানপ্রীতের জায়গায় স্মৃতি মান্ধানা হতে পারেন নতুন অধিনায়ক। গত ছয় মাসে সুযোগ পেলে নেতৃত্বের দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত থাকার কথা একাধিকবার জানিয়েছেন এই ভারতীয় ওপেনার। নেতৃত্বের যোগ্যতাও প্রমাণ করেছেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ২০২৪ ও ২০২৬ সালে দুটি উইমেন্স প্রিমিয়ার লিগের (ডব্লিউপিএল) শিরোপা জিতেছে।

ইমরানকে লিডার বললে ‘এল’টা বড় হাতে লিখুন

Read full story at source