মা–বাবার ইচ্ছা পূরণে হাতির পিঠে বরযাত্রা, দেখতে ভিড় স্থানীয়দের
· Prothom Alo

হাতির পিঠে সামনের দিকে বসেছেন মাহুত, ঠিক তাঁর পেছনেই বর। বরের সঙ্গে এক শিশু ও দুই আত্মীয়ও আছেন। নানা আলপনা আঁকা হাতির পিঠে বসে এভাবে বিয়ে করতে যাচ্ছিলেন গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার তরুণ সাকিব মিয়া (২৪)।
হাতির পেছনে ছিল উৎসুক মানুষের ভিড়। সঙ্গে ১০-১২টি মোটরসাইকেল ও কয়েকটি মাইক্রোবাসে বরযাত্রী। ব্যতিক্রমী এই বরযাত্রা ঘিরে কৌতূহল তৈরি হয় স্থানীয় মানুষের মধ্যে।
Visit librea.one for more information.
গতকাল শুক্রবার বিকেলে সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নে এই দৃশ্য দেখা যায়। সাকিব মিয়া একই ইউনিয়নের হিংগারপাড়া গ্রামে বিয়ে করতে যান। কনে সুরাইয়া আক্তার ওই গ্রামের খোকন মিয়ার মেয়ে।
ধাপেরহাট ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শাহাদত হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, সাকিব মিয়া তিলকপাড়া (চকনদী) গ্রামের ছায়েদ আলীর ছেলে এবং একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। মা–বাবার ইচ্ছা পূরণে তিনি হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে যান। বগুড়ার মহাস্থানগড় থেকে ২০ হাজার টাকায় হাতিটি ভাড়া করা হয়েছিল বলে তিনি শুনেছেন।
সাকিব মিয়া, বরবিয়ে জীবনের একটি বিশেষ দিন। এ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখার পাশাপাশি মা–বাবার দীর্ঘদিনের শখ পূরণ করতে চেয়েছি। মা–বাবা আমার জন্য অনেক কষ্ট করেছেন। তাঁদের ছোট্ট একটি ইচ্ছা পূরণ করতে পেরে আমারও ভালো লাগছে।বর ও কনের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গতকাল বিকেল চারটার দিকে হাতির পিঠে চড়ে নিজ বাড়ি থেকে রওনা দেন সাকিব। তিলকপাড়া থেকে হিংগারপাড়ার পথে সড়কের বিভিন্ন স্থানে মানুষ জড়ো হন। হাতির পিঠে বরকে দেখতে পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা মুঠোফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন।
এমন আয়োজন করতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন সাকিব মিয়া। তিনি বলেন, ‘বিয়ে জীবনের একটি বিশেষ দিন। এ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখার পাশাপাশি মা–বাবার দীর্ঘদিনের শখ পূরণ করতে চেয়েছি। মা–বাবা আমার জন্য অনেক কষ্ট করেছেন। তাঁদের ছোট্ট একটি ইচ্ছা পূরণ করতে পেরে আমারও ভালো লাগছে। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন, যেন নতুন জীবন সুখে-শান্তিতে কাটাতে পারি।’
সাকিবের বাবা ছায়েদ আলী বলেন, ছেলে ছোট থাকতেই তাঁরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তাঁকে হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে পাঠাবেন। একমাত্র ছেলের বিয়েকে স্মরণীয় করে রাখতে এই আয়োজন করেছেন তাঁরা।
বরের বাড়ি থেকে কনের বাড়ির দূরত্ব প্রায় দুই কিলোমিটার। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে বরযাত্রীরা কনের বাড়িতে পৌঁছান। হাতির পিঠে বরকে আসতে দেখে হিংগারপাড়া গ্রামের মানুষের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়। শিশু-কিশোরসহ নানা বয়সী মানুষ কনের বাড়িতে জড়ো হন।
এমন আয়োজনে সন্তোষ প্রকাশ করেন কনের বাবা খোকন মিয়া। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘খুব ভালো লাগছে। আমি খুশি হয়েছি।’
ব্যতিক্রমী এমন আয়োজনে উচ্ছ্বসিত ছিলেন সবাইস্থানীয় একাধিক বাসিন্দার ভাষ্য, সাধারণত বিয়ের বরযাত্রায় ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল কিংবা ঘোড়ার গাড়ি দেখা যায়। তবে সাকিবের বরযাত্রায় হাতির উপস্থিতি ছিল ব্যতিক্রমী। তাঁদের ভাষ্য, এলাকায় হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে যাওয়ার ঘটনা তাঁরা আগে দেখেননি।
হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে যাওয়ার বিষয়টি দুই এলাকাবাসীর মধ্যে কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে বলে জানিয়েছেন ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম।