সিজেপির নেতা–কর্মীদের মোদি সরকারের এমন ধরপাকড়ের পেছনের কারণ কী

· Prothom Alo

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভের ছয় দিন আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব একাধিক রাজ্যের পুলিশপ্রধান বা ডিরেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (ডিজিপি) এবং কয়েকজন বাছাই করা পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করেন।

সেখানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব নির্দেশ দেন, অতীতে এ ধরনের প্রতিবাদে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা যেন তাঁদের নিজ নিজ শহর ছেড়ে দিল্লির উদ্দেশে রওনা হতে না পারেন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। কেন্দ্রীয় সরকার ও পুলিশের বিভিন্ন সূত্র থেকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এমন তথ্য জানতে পেরেছে।

Visit milkshakeslot.online for more information.

এ ক্ষেত্রে মহারাষ্ট্রকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ধারণা করা হয়েছিল, অভিজিৎ দিপকে মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা হওয়ায় ওই রাজ্য থেকে অনেক মানুষ বিক্ষোভে যোগ দেবেন। একটি সূত্র জানায়, মহারাষ্ট্রে অনেক সক্রিয় বামপন্থী সংগঠন রয়েছে, যারা বিক্ষোভে জোরালো সমর্থন দেবে বলেও ধারণা করা হয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, ৪ অক্টোবর ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রয়োজনে প্রতিরোধমূলক আটক রাখা এবং আন্দোলনকারীদের ‘অর্থায়নের উৎস’ খুঁজে বের করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার প্রস্তুত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৮ অক্টোবর দ্বিতীয় দফায় বৈঠক করে।

সিজেপির নেতা অভিজিৎ দিপকের নিজ রাজ্য মহারাষ্ট্রে ওই বৈঠকের দিনই ডিজিপির কার্যালয় থেকে রাজ্যের সব পুলিশ ইউনিটে একটি ‘গোপনীয় চিঠি’ পাঠানো হয়। এর পর থেকেই সম্ভাব্য আন্দোলনকারীদের ওপর নজরদারি শুরু করা হয়।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই প্রস্তুতির পেছনে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর একটি ধারণা কাজ করছে। তাদের মতে, এর আগে যন্তর মন্তরে সিজেপির বিক্ষোভের সময় ধারণা করা হয়েছিল, খুব বেশি মানুষ সেখানে জমায়েত হবে না। সেই ধারণা থেকে বিক্ষোভকারীদের বাধা দিতে তেমন কঠোর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

কিন্তু নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে দিয়ে জুলাইয়ের ওই বিক্ষোভ বড় আকার ধারণ করে। শেষ পর্যন্ত ওই বিক্ষোভের জেরে জুলাইয়ে ভারতের তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন।

দিল্লিতে কড়া নিরাপত্তা, বিক্ষোভ ঘিরে কী কী বন্ধ, কী কী খোলা

একটি সূত্র বলেছে, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের কারণ হয়ে দাঁড়ানো দিল্লির আগের বিক্ষোভগুলোকে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এ কারণেই সেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হতে পেরেছিলেন।

তাই এবার দিল্লি পুলিশ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে (এমএইচএ) বলেছে, মানুষ যেন বাইরে থেকে দিল্লিতে আসতে না পারে, সেটা নিশ্চিত করতে। কারণ, বিপুলসংখ্যক মানুষের জমায়েত সামলানো কঠিন হবে।

মহারাষ্ট্রজুড়ে পাঠানো চিঠিটিতে সই করেছিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইনশৃঙ্খলা) লক্ষ্মী গৌতম। চিঠিতে ১০ অক্টোবর যন্তর মন্তরে সিজেপির ডাকা বিক্ষোভের কথা উল্লেখ করে পুলিশকে বলা হয়, বিক্ষোভে যোগ দিতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের ‘সেখানে যাওয়া থেকে বিরত রাখতে’ হবে। এ জন্য ‘প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা’ নিতেও বলা হয়।

এ ক্ষেত্রে মহারাষ্ট্রকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ধারণা করা হয়েছিল, অভিজিৎ দিপকে মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা হওয়ায় ওই রাজ্য থেকে অনেক মানুষ বিক্ষোভে যোগ দেবেন। একটি সূত্র জানায়, মহারাষ্ট্রে অনেক সক্রিয় বামপন্থী সংগঠন রয়েছে, যারা বিক্ষোভে জোরালো সমর্থন দেবে বলেও ধারণা করা হয়েছে।

৪ অক্টোবরের বৈঠকে কিছু নির্দিষ্ট সংগঠনের সদস্যদেরও দিল্লি যাওয়া ঠেকাতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এর আগে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদেরও আটকানোর কথা বলা হয়।

সূত্র বলেছে, একই দিন মহারাষ্ট্রের ডিজিপির দপ্তর থেকে কয়েকটি পুলিশ কমিশনারেট ও জেলার পুলিশকে গোপন চিঠি পাঠানো হয়। তাতে একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছিল।

ককরোচ জনতা পার্টির নেতা অভিজিৎ দিপকে

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস চিঠিটির বিষয়বস্তু জানতে পেরেছে। মহারাষ্ট্রজুড়ে পাঠানো চিঠিটিতে সই করেছিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইনশৃঙ্খলা) লক্ষ্মী গৌতম। চিঠিতে ১০ অক্টোবর যন্তর মন্তরে সিজেপির ডাকা বিক্ষোভের কথা উল্লেখ করে পুলিশকে বলা হয়, বিক্ষোভে যোগ দিতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের ‘সেখানে যাওয়া থেকে বিরত রাখতে’ হবে। এ জন্য ‘প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা’ নিতেও বলা হয়।

৪ অক্টোবর বিক্ষোভকারীদের দেওয়া একাধিক নোটিশে ওই ‘গোপন চিঠির’ উল্লেখ করে বলা হয়েছে, সেটির ভিত্তিতেই তাঁদের নোটিশ দেওয়া হচ্ছে।

সূত্রটি আরও বলেছে, ‘ডিজিপি নির্দেশ দিয়েছিলেন, কাউকে আটক করা যাবে না। তাই ডিজিপির দপ্তর থেকে পাঠানো চিঠির ভিত্তিতে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট বিক্ষোভকারীদের নোটিশ দিয়েছে।’

এর এক দিন পর, ৫ অক্টোবর দিপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘আসলে মহারাষ্ট্র পুলিশও নিখুঁত নয়।’

অবরুদ্ধ দিল্লি

পরদিন রাজ্যটিতে সিজেপির সদস্যদের দেওয়া নোটিশ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন দিপকে।

মহারাষ্ট্র রাজ্যের ডিজিপির দপ্তরের এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, ৫০টির কম নোটিশ দেওয়া হয়ে থাকতে পারে এবং রাজ্য পুলিশ কাউকে আটক করেনি।

‘ডিজিপি নির্দেশ দিয়েছিলেন, কাউকে আটক করা যাবে না। তাই ডিজিপির দপ্তর থেকে পাঠানো চিঠির ভিত্তিতে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট বিক্ষোভকারীদের নোটিশ দিয়েছে।’

সূত্রটি বলেছে, ‘সে অনুযায়ী, প্রস্তুতি যাচাই করতে ৪ ও ৮ অক্টোবর বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রসচিব। আগে এসব বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কোনো ব্যক্তি নিজ এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন জানা গেলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সতর্ক করত। ওই ব্যক্তি কীভাবে পুলিশের নজর এড়িয়ে চলে যেতে পারলেন, তা জানতে স্থানীয় পুলিশ ইউনিটের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হতো।’

মহারাষ্ট্র পুলিশ নোটিশ দিলেও আরও এক ধাপ এগিয়ে ব্যবস্থা নিয়েছে মুম্বাই পুলিশ। মুম্বাই পুলিশের সূত্র বলেছে, গতকাল শুক্রবার শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ২০০–এর বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। আজ শনিবারের বিক্ষোভে যোগ দিতে তাঁরা যেন দিল্লি যেতে না পারেন, সে জন্য তাঁদের আটক করে পুলিশ।

মহারাষ্ট্র পুলিশ আইনের বিভিন্ন ধারায় বিক্ষোভে যোগ দিতে আসা ব্যক্তিদের আটক করেছে বলেও জানায় ওই সূত্র।

ভোটার তালিকা নিয়ে ভারতে কেন এত ক্ষোভ

Read full story at source