‘বলল, ওপরের খুব চাপ...এই ওপরের চাপ কোন চাপ’

· Prothom Alo

‘আমরা বলেছিলাম যে আমি ৩ লাখ ৭৫ হাজার ভোটারের এমপি। আমার একজন প্রতিনিধি রাখেন, একজন পেশাদার ব্যবসায়ী রাখেন, সরকারদলীয় একজন রাখেন। উনি আমার কথা রাখলেন না। উনি রাখলেন তার কথা...। সর্বশেষ বলল, ওপরের খুব চাপ। কমিটিতে রাখা যাবে না। এই ওপরের চাপ কোন চাপ? উনি ওই চেয়ার থেকে বলতে পারেন কি না জানি না। কারণ, এই আসনের আমি এমপি।’

Visit chickenroad-game.rodeo for more information.

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় সার ডিলার নিয়োগে দলীয় বিবেচনা ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে কথাগুলো বলেছেন রংপুর–১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) উদ্দেশে তিনি এ কথাগুলো বলেন।

গতকাল সোমবার বিকেলে উপজেলা চত্বরে সাংবাদিকদের কাছে সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী এ কথা বলেন। তাঁর এই বক্তব্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে আলোচনা–সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

এই সংসদ সদস্যের বক্তব্য অনুযায়ী, ডিলার নিয়োগের যাচাই–বাছাই কমিটিতে ইউএনও কর্তৃক তিনজন মনোনীত ছিলেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুবেল হুসেন বলেন, উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি ছিল আট সদস্যের। এই কমিটি সার ডিলারের আবেদন যাচাই–বাছাইয়ের পরে ইউনিয়নপ্রতি তিনজনের নাম জেলায় পাঠিয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের ৭ অক্টোবর স্বাক্ষরিত তালিকায় জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে অনুমোদিত আবেদনকারীদের অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে বলা হয়েছে। এতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং কমিটির পক্ষে কৃষি অর্থনীতিবিদ শাহনাজ আক্তারের স্বাক্ষর রয়েছে।

সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী আরও বলেন, নতুন সার ডিলার নিয়োগে (গঙ্গাচড়ায়) পৃথিবীর নিকৃষ্টতম দলীয়করণ হয়েছে। সরকার ঘোষণা দিয়েছিল সবার আগে বাংলাদেশ। কিন্তু এই সার ডিলার নিয়োগে গঙ্গাচড়ায় সবার আগে বিএনপি প্রমাণিত হয়েছে।

সার ডিলার নিয়োগকে বানরের পিঠা ভাগ করার শামিল বলেও মন্তব্য করেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, সরকারি নীতিমালাকে তোয়াক্কা না করে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে বানরের পিঠা ভাগ হয়েছে।

সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজীর দাবি, কোলকোন্দ ইউনিয়নের চরাঞ্চলের তিনটি ওয়ার্ড ও নোহালী ইউনিয়নের চরাঞ্চলের মানুষের সার সংগ্রহের দুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে ওই দুই ইউনিয়নে যোগ্য আবেদনকারীদের মধ্য থেকে ডিলার নিয়োগের অনুরোধ করেছিলেন, কিন্তু তা উপেক্ষা করা হয়েছে।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে আজ মঙ্গলবার রাতে রায়হান সিরাজী মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘সার ডিলারের আবেদন যাচাই কমিটি গঠনের সময় আমি দেশের বাইরে ছিলাম। ইউএনও আমার কথা রাখেননি। উনি (ইউএনও) রেখেছেন তার কথা, মানে ওপরের কথা।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. জেসমিন আক্তার বলেন, ‘এমপি মহোদয় আমাকে উদ্দেশ করে যেসব কথা বলেছেন, এমন কোনো কথা তিনি আমাকে বলেননি।’

Read full story at source