নেতানিয়াহুর কপালে কী আছে—ক্ষমতা, নাকি কারাগার

· Prothom Alo

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষার মুখে। এই পরীক্ষায় পাস করলে তাঁকে আবার প্রধানমন্ত্রীর পদে দেখা যাবে। ফেল করলে তাঁর রাজনীতির ইতি ঘটতে পারে। আর চলমান মামলার বিচারে দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁকে যেতে হতে পারে কারাগারে।

Visit rouesnews.click for more information.

৭৭ বছর বয়সী নেতানিয়াহুর ভাগ্যে কী আছে, তা নির্ধারিত হবে আগামী মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর)। এদিন ইসরায়েলের ২৬তম পার্লামেন্ট নির্বাচন। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নেতানিয়াহু আরেক দফায় প্রধানমন্ত্রী হতে চান।

অনেকে এই নির্বাচনকে ইসরায়েলের ইতিহাসের ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ’ নির্বাচন হিসেবে দেখছেন। এই নির্বাচনের ফলাফলের প্রভাব ইসরায়েল, মধ্যপ্রাচ্য, এমনকি পুরো বিশ্বে দেখা যেতে পারে।

নির্বাচনে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী জোটের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তবে জরিপ বলছে, সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা কোনো পক্ষই পাবে না।

তেমনটা হলে জোট সরকার গঠনের ক্ষেত্রে ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর গুরুত্ব বেড়ে যেতে পারে। আবার ঝুলন্ত পালার্মেন্টের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠনের জন্য কোনো দলের কমপক্ষে ৬১টি আসন পেতে হয়। ইসরায়েলের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোনো দল এককভাবে এই আসন অর্জন করতে পারেনি।
যুদ্ধ ছাড়া নেতানিয়াহু কেন থাকতে পারেন না

নির্বাচনী প্রক্রিয়া

নির্বাচনী প্রচারের বিলবোর্ড

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট ‘নেসেট’ নামে পরিচিত। মোট আসনসংখ্যা ১২০টি। পার্লামেন্টের মেয়াদ চার বছর। তবে একজন ব্যক্তি কতবার প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন, তার কোনো সীমা নির্দিষ্ট করা নেই।

নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠনের জন্য কোনো দলের কমপক্ষে ৬১টি আসন পেতে হয়। ইসরায়েলের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোনো দল এককভাবে এই আসন অর্জন করতে পারেনি।

ফলে নির্বাচনে প্রথম হলেই কোনো দল সরকার গঠন করতে পারে না। সরকার গঠনের জন্য জোট করতে হয়। ৬১ আসনের লক্ষ্যে পৌঁছাতে জোট গঠনের জন্য দলগুলো ২৮ দিন সময় পায়। এই সময়কাল প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ১৪ দিন পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে।

এই সময়ে দলগুলো জোট গঠনে ব্যর্থ হলে আবার নির্বাচন হবে। ইসরায়েলে এমন রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার নজির আছে বেশ। যেমন ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলে পাঁচটি নির্বাচন হয়েছে।

নির্বাচনের পরের দিন ভোটের প্রাথমিক ফলাফল পাওয়া যেতে পারে। আগামী ৪ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ করার কথা রয়েছে।

ইসরায়েলিরা নির্বাচনে কোনো প্রার্থীকে নয়, ভোট দেন একটি নির্দিষ্ট দলকে। জাতীয়ভাবে প্রতিটি দলের পাওয়া ভোটের আনুপাতে নেসেটে আসন বণ্টন হয়।

কোনো দল ৪০ শতাংশ ভোট পেলে তারা নেসেটে ৪০ শতাংশ আসন পাবে। পার্লামেন্টে আসন পাওয়ার জন্য কোনো দলকে ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোট পেতে হয়। পার্লামেন্টে আসন নিশ্চিত করার জন্য প্রতি নির্বাচনের আগে ইসরায়েলের ছোট রাজনৈতিক দলগুলো একীভূত হয়ে যায়।

নির্বাচনের দিন ইসরায়েলে সরকারি ছুটি। ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির তথ্যমতে, ১৮ বছর ও তার বেশি বয়সী প্রায় ৭৩ লাখ ভোটার এবারের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার যোগ্য। বেশির ভাগ ভোটকেন্দ্রে ভোট শুরু হবে সকাল ৭টায়। রাত ১০টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে। ভোটকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার সময় পর্যন্ত যাঁরা সারিতে অপেক্ষমাণ থাকবেন, তাঁরা ভোট দিতে পারবেন।

নির্বাচনের দিন স্থানীয় সময় রাত ১০টার পর ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যমগুলো বুথফেরত জরিপের ফলাফল প্রকাশ শুরু করবে। এই জরিপগুলো থেকে ফলাফলের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পাওয়া যেতে পারে। তবে জরিপের সঙ্গে বাস্তবের ফলাফলে বড় ধরনের তারতম্য থাকতে পারে। এখনকার জরিপগুলো আভাস দিচ্ছে, এবারের নির্বাচনে স্পষ্ট কোনো বিজয়ী পাওয়ার সম্ভাবনা কম।

নির্বাচনের পরের দিন ভোটের প্রাথমিক ফলাফল পাওয়া যেতে পারে। আগামী ৪ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ করার কথা রয়েছে।

বিদায়ী পার্লামেন্টে নেতিনিয়াহুর জোটের আসনসংখ্যা ছিল ৬০। বিরোধীদের ছিল ৫৯টি আসন।
ইসরায়েল এত অস্ত্র কোথায় পায়

বিদায়ী পার্লামেন্ট

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট

গত ৩৮ বছরের মধ্যে বিদায়ী পার্লামেন্ট (২৫তম নেসেট) চার বছরের মেয়াদ পূর্ণ করতে পেরেছে। নির্বাচন সামনে রেখে গত জুলাই মাসে পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া হয়।

বিদায়ী পার্লামেন্টে নেতিনিয়াহুর জোটের আসনসংখ্যা ছিল ৬০। এর মধ্যে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির আসন ছিল ৩২টি। ক্ষমতাসীন জোটভুক্ত অন্য দলগুলোর মধ্যে শাসের ১১টি, রিলিজিয়াস জায়োনিস্টের ৭, ওতজমা ইয়েহুদিতের ৬ ও নিউ হোপের ৪টি আসন ছিল।

বিরোধীদের ছিল ৫৯টি আসন। এর মধ্যে ইয়েশ আতিদের ২৪টি, ব্লু অ্যান্ড হোয়াইটের ৮, ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমের ৭, ইসরায়েল বেইতেনুর ৬, হাদাশ-তা’আল ও রা’আমের ৫টি করে এবং লেবারের ৪টি আসন ছিল। অপর আসনটি নোয়ামের। তারা কোনো দল বা জোটের সঙ্গে যুক্ত ছিল না।

ইসরায়েলের ইতিহাসে নেতানিয়াহুই প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী, যিনি ক্ষমতাসীন অবস্থায় বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন। বিচারে দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর কারাদণ্ড হতে পারে।
নেতানিয়াহুর এই কথা কি সত্যি

নেতানিয়াহুর ১৯ বছর

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু

১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হয়। এর পর থেকে দেশটিতে ১৪ জন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন নেতানিয়াহু। কয়েক দফা মিলিয়ে তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্বের মোট সময় ১৯ বছর।

১৯৯৬ সালে নেতানিয়াহু প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হন। এই দফায় ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত তিনি ক্ষমতায় ছিলেন। দ্বিতীয়বার তিনি প্রধানমন্ত্রী হন ২০০৯ সালে। এবার একটানা ১২ বছর, অর্থাৎ ২০২১ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদি জোট সরকার পরিচালনা করেন তিনি। তৃতীয়বার ২০২২ সালে তিনি ক্ষমতায় এসে এখনো বহাল।

এই দফায় নেতানিয়াহুর সরকারকে সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজাভিত্তিক ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস ইসরায়েলে প্রাণঘাতী হামলা চালায়। এই হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ নিহত হন। প্রায় ২৫০ জন মানুষকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়।

জবাবে সেদিন থেকেই গাজায় নির্বিচার হামলা শুরু করে ইসরায়েল। গাজায় ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৭৪ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। আহত ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ।

গাজায় মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ২০২৪ সালের নভেম্বরে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)।

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৭৪ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। আহত ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ।

নেতানিয়াহু তাঁর ক্ষমতার এই দফায় লেবানন, ইরান, ইয়েমেনসহ আঞ্চলিক নানা যুদ্ধে জড়ান। ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চরম ব্যর্থতা, সব জিম্মিকে জীবিত ফেরত আনতে না পারাসহ নানা ইস্যুতে নিজ দেশে তাঁর বিরুদ্ধে দফায় দফায় বড় বিক্ষোভ হয়েছে। এসব বিক্ষোভ থেকে তাঁর পদত্যাগ দাবি করা হয়েছে। নানা বিষয়ে মতপার্থক্যের কারণে জোট সরকার পরিচালনায় হিমশিম খেয়েছেন তিনি।

নেতানিয়াহুর জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো তাঁর বিরুদ্ধে থাকা ফৌজদারি অপরাধের মামলা। বিশ্বাসভঙ্গ, জালিয়াতি ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ইসরায়েলে তিনটি মামলার বিচার চলমান। মামলাগুলোয় বিচার শুরু হয় ২০২০ সালে। তার পর থেকে তিনি নানা অজুহাতে বিচারপ্রক্রিয়া এড়ানোর চেষ্টা করে আসছেন।

ইসরায়েলের ইতিহাসে নেতানিয়াহুই প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী, যিনি ক্ষমতাসীন অবস্থায় বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন। বিচারে দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর কারাদণ্ড হতে পারে। এসব মামলা নেতানিয়াহুকে সব সময় তাড়া করে বেড়ায়। তিনি ক্ষমতা হারালে বিচারপ্রক্রিয়া যে গতি পাবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

নির্বাচন ইসরায়েলে, মাথাব্যথা যুক্তরাষ্ট্রের

নির্বাচনের মূল ইস্যু

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজাভিত্তিক ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস ইসরায়েলে প্রাণঘাতী হামলা চালায়। এই হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ নিহত হন

আসন্ন নির্বাচন ঘিরে ইসরায়েলি ভোটারদের বিবেচনায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান হলো, ৭ অক্টোবরের নিরাপত্তা ব্যর্থতা। এই ঘটনার তিন বছর পরও নেতানিয়াহু সরকার রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠন করেনি।

ইসরায়েলের অতি গোঁড়া ইহুদি সম্প্রদায়ের যেসব পুরুষ সার্বক্ষণিক ধর্মীয় অধ্যয়নে নিয়োজিত, তাঁরা সামরিক বাহিনীতে যোগদান থেকে অব্যাহতি পেয়ে আসছেন। তবে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই নীতি নিয়ে ইসরায়েলি সমাজে বিভেদ ক্রমেই বেড়েছে। এ নিয়ে ইসরায়েলে তর্ক-বিতর্ক-সমালোচনা আছে।

নেতানিয়াহু সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। গাজা যুদ্ধ শুরুর আগে এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে ইসরায়েলে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছিল। এই ইস্যুটি এখনো হারিয়ে যায়নি। সমালোচকদের মতে, কথিত এই সংস্কার পরিকল্পনা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করবে। গণতন্ত্রের জন্য তা হুমকি তৈরি করবে।

ইসরায়েলি জনগণ স্থিতিশীলতা চায়। তবে গাজা, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও লেবানন নিয়ে কোনো সমঝোতা বা ছাড় দেওয়ার ব্যাপারে তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। নেতানিয়াহু ‘পূর্ণ বিজয়ের’ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু হামাস ও হিজবুল্লাহ এখনো সক্রিয়ভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

ইসরায়েলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য ও তুলনামূলক কম মজুরি সাধারণ মানুষের ওপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে। ২০২৩ সালের তুলনায় দেশটির প্রতিরক্ষা বাজেট দ্বিগুণ হয়েছে। এ কারণে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর চাপ বেড়েছে।

নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্ধিতা হবে প্রধান দুটি রাজনৈতিক ব্লকের মধ্যে। একটি নেতানিয়াহু শিবির, অন্যটি নেতানিয়াহুবিরোধী শিবির।
ইসরায়েলে নির্বাচনের আগমুহূর্তে যুদ্ধবাজ নেতানিয়াহুকে সমর্থন জানিয়ে কী বললেন ট্রাম্প

নেতানিয়াহুর প্রতিপক্ষ

নতুন দল ইয়াশার নেতা সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটকে প্রধানমন্ত্রী পদে বিরোধী ব্লকের সবচেয়ে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে

নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্ধিতা হবে প্রধান দুটি রাজনৈতিক ব্লকের মধ্যে। একটি নেতানিয়াহু শিবির, অন্যটি নেতানিয়াহুবিরোধী শিবির।

নেতানিয়াহুর শিবিরে তাঁর দল লিকুদ পার্টি ছাড়া অন্য দলগুলোর মধ্যে আছে ওতজমা ইয়েহুদিত, শাস, রিলিজিয়াস জায়োনিস্ট পার্টি-জেহুত, ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম ও আমখা ইসরায়েল।

নেতানিয়াহুর ডানপন্থী শিবিরের বিপরীতে রয়েছে মূলত চারটি প্রধান ইহুদি-নেতৃত্বাধীন বিরোধী রাজনৈতিক দল ও জোট। এগুলো হলো ইয়াশার, বিয়াখাদ, ইসরায়েল বেইতেনু ও ডেমোক্র্যাটস। এগুলোর নেতারা নির্বাচনের আগে পরস্পরের বিরুদ্ধে কোনো আক্রমণ বা কাদা–ছোড়াছুড়ি না করাসহ নির্বাচনের পর একসঙ্গে সরকার গঠনের অঙ্গীকার করে একটি ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছেন।

নতুন দল ইয়াশার নেতা সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটকে প্রধানমন্ত্রী পদে বিরোধী ব্লকের সবচেয়ে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। জনমত জরিপগুলোয় তাঁর দল ইয়েশার ক্ষমতাসীন লিকুদ পার্টির সমকক্ষ অবস্থানে রয়েছে।

তৃতীয় একটি রাজনৈতিক শিবিরে রয়েছে সেই দলগুলো, যারা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধান দুই ব্লকের কোনোটির প্রতি সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দেয়নি। তারা নির্বাচনের পর যেকোনো একটি ব্লকে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা খোলা রেখেছে। এখান থেকে একমাত্র রিজার্ভিস্টস-ইকোনমিক পার্টি পার্লামেন্টে আসন পেতে পারে।

চতুর্থ রাজনৈতিক শিবিরে রয়েছে কয়েকটি আরব রাজনৈতিক দল। এগুলো হলো হাদাশ, তা’আল ও বালাদ। তবে এসব দলের মধ্যে অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য রয়েছে। অন্যদিকে মনসুর আব্বাসের নেতৃত্বাধীন আরব দল রা’আম স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।

শাহার বুরলা, সিডনিভিত্তিক গবেষকনির্বাচনে হেরে গেলে তা নেতানিয়াহুর জন্য বিপর্যয়কর হবে। কারণ, এই মুহূর্তে বিচারপ্রক্রিয়ায় তাঁর সব প্রভাব-প্রতিপত্তির উৎস হলো তিনি প্রধানমন্ত্রী।ইসরায়েলের নির্বাচনে ‘কিংমেকার’ কে এই আব্বাস, নেতানিয়াহুকেও সরিয়েছিলেন তিনি

কার কী হাল

নির্বাচন সামনে রেখে ব্যালট পেপার প্রস্তুত করা হচ্ছে

কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের (সিএফআর) এক নিবন্ধে বলা হয়, নেতানিয়াহু ক্ষমতায় থাকবেন কি না, সেই প্রশ্নে একধরনের গণভোটে পরিণত হতে পারে এই নির্বাচন।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের জরিপ সমন্বয় করে সিএফআর বলছে, প্রধান বিরোধী শিবির ৫১ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট পেতে পারে। নেতানিয়াহুর শিবির পেতে পারে ৪৫ দশমিক ১ শতাংশ ভোট। জরিপে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির চেয়ে এগিয়ে রয়েছে আইজেনকটকের ইয়াশার।

গত শুক্রবার ইসরায়েলের বিভিন্ন গণমাধ্যম নির্বাচনের আগে চূড়ান্ত জরিপ প্রকাশ করে। চ্যানেল ১২-এর জরিপ অনুযায়ী, প্রধান বিরোধী শিবির পেতে পারে ৫৬ আসন। ৫০ আসন পেতে পারে নেতানিয়াহুর শিবির।

অর্থাৎ, প্রধান দুই জোটের কেউই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক আসন পাচ্ছে না। সে ক্ষেত্রে সরকার গঠনে দুই শিবিরের বাইরের দল বা জোটের ভূমিকা তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

গত জুলাই মাসে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ধারাবাহিক জরিপের ইঙ্গিত অনুযায়ী, আসন্ন নির্বাচনে পরাজিত হতে পারেন নেতানিয়াহু। তবে তাঁর বিরোধী পক্ষের সরকার গঠনের পথ এখনো স্পষ্ট নয়।

ইসরায়েলের বার-ইলান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পিএইচডি করা সিডনিভিত্তিক গবেষক শাহার বুরলা বলেন, নির্বাচনে হেরে গেলে তা নেতানিয়াহুর জন্য বিপর্যয়কর হবে। কারণ, এই মুহূর্তে বিচারপ্রক্রিয়ায় তাঁর সব প্রভাব-প্রতিপত্তির উৎস হলো তিনি প্রধানমন্ত্রী।

তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা, রয়টার্স, বিবিসি, এসবিএস নিউজ, টাইমস অব ইসরায়েল, কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস ও জার্মান ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল অ্যান্ড এরিয়া স্টাডিজ।

Read full story at source