টাকা ছাড়া নিলামে কেমন হলো কোন দল

· Prothom Alo

চারু শর্মার জন্যও ব্যাপারটা নতুনই হবে হয়তো। ভারতের প্রখ্যাত এই সঞ্চালক একটা নিলাম পরিচালনা করে গেলেন, অথচ একটিবার ‘টাকা’ কথাটি উচ্চারিত হলো না! বারবার তিনি বললেন ‘পয়েন্ট’, ‘পয়েন্ট’। টাকা ছাড়া এমন অভিনব নিলাম আর কখনো কোথাও হয়েছে কি না সন্দেহ।

Visit h-doctor.club for more information.

বিসিবির নতুন ঘরোয়া কাঠামো ডোমেস্টিক থ্রি ট্রফি বা ডি–থ্রি ট্রফির এই ব্যতিক্রমধর্মী নিলাম নিয়ে তবু প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। ব্যাপারটা যে এমনই হবে, সেটি আগেই ঘোষিত। তিন সংস্করণের ক্রিকেটের সম্মিলিত আসর ডি–থ্রি ট্রফিতে খেলোয়াড়েরা পাবেন শুধু ম্যাচ ফি। তাদের দলে নিতে প্রতিযোগিতার ছয় দল টাকার যুদ্ধে নামবে না, পাঁচটি শ্রেণি থেকে তারা খেলোয়াড় নেবে মূলত প্রত্যেকের জন্য বরাদ্দকৃত ১০ কোটি অদৃশ্য পয়েন্ট দিয়ে।

শরীফুল–তাসকিন–তানজিদদের নিয়ে নিলামে কাড়াকাড়ি

নিলামে তোলা হয়েছিল মোট ২৭৫ জন ক্রিকেটারকে, প্রতিটি দলকে সেখান থেকে নিতে হয়েছে ২২ জন করে ক্রিকেটার। এভাবে দল পেয়েছেন মোট ১৩২ ক্রিকেটার। এ ছাড়া ৬ আইকন ক্রিকেটারকে আগেই নিয়ে নিয়েছে ছয় ফ্র্যাঞ্চাইজি। ওয়ালটন গ্রুপ নিয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজকে, ফরচুন গ্রুপ তাওহিদ হৃদয়কে, একমি গ্রুপ মোসাদ্দেক হোসেনকে, সেভেন রিংস সিমেন্ট মুশফিকুর রহিমকে, ব্লুস্টার নুরুল হাসানকে ও সিটিজেনস ব্যাংক নাঈম শেখকে।

ডমেস্টিক থ্রি (ডি–থ্রি) ট্রফির নিলামের সঞ্চালক চারু শর্মা।


নিলামে ‘এ’ শ্রেণির খেলোয়াড়দের ভিত্তি পয়েন্ট ছিল ৪০ লাখ, ‘বি’ শ্রেণির ৩০ লাখ, ‘সি’ শ্রেণির ২০ লাখ, ‘ডি’ শ্রেণির ১০ লাখ ও ‘ই’ শ্রেণির ৫ লাখ। তবে টাকাপয়সার ব্যাপার যেহেতু ছিল না, ‘নিলাম’টি মূলত হয়ে দাঁড়িয়েছিল কে কেমন দল করে, সেটি দেখার জায়গা। সেদিক দিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দল গড়েছে ফরচুন গ্রুপ ও সিটিজেনস ব্যাংক। ওয়ালটন এবং একমির দলও খারাপ হয়নি। নিলাম শেষে অবশ্যই সবাই–ই যার যার দল নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে।

টাকাপয়সার ব্যাপার না থাকলেও দলগুলোর কাছে কোন খেলোয়াড়ের চাহিদা কত বেশি, সেটি বোঝা গিয়েছে নিলামে। ‘এ’ শ্রেণিতে থাকা জাতীয় দলের তিন ক্রিকেটার শরীফুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ আর তানজিদ হোসেনকে নিয়ে যেমন শুরুতে বেশ কাড়াকাড়িই হলো। সর্বোচ্চ ২ কোটি ৩০ লাখ পয়েন্ট দিয়ে শরীফুলকে নিয়েছে সিটিজেনস ব্যাংক। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২ কোটি ১০ লাখ পয়েন্টে তাসকিনকে নিয়েছে ওয়ালটন ও তৃতীয় সর্বোচ্চ ২ কোটি পয়েন্টে তানজিদকে নিয়েছে ফরচুন গ্রুপ। এ ছাড়া ১ কোটি ৯৫ লাখ পয়েন্টে হাসান মাহমুদকে ব্লুস্টার ও সমান পয়েন্ট দিয়ে সাইফ হাসানকে নিয়েছে সেভেন রিংস।

ডমেস্টিক থ্রি (ডি–থ্রি) ট্রফির নিলামে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল।


বিসিবি আগেই ঘোষণা দিয়েছে, এবার থেকে ঘরোয়া ক্রিকেটে ম্যাচ ফি দ্বিগুণ হবে। সে অনুযায়ী ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে আয় বাড়বে ক্রিকেটারদের। চার দিনের ম্যাচের ম্যাচ ফি বেড়ে এখন ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ৫০ ওভারের ম্যাচের ১ লাখ টাকা ও টি–টুয়েন্টিতে ৮০ হাজার টাকা। আইকন খেলোয়াড়সহ প্রতিটি দল ২৩ জন করে ক্রিকেটার নিলেও বিসিবি ম্যাচ ফি ও অন্যান্য খরচ দেবে স্কোয়াডে থাকা ১৫ জনের জন্য। দলের সঙ্গে ১৫ জনের বেশি ক্রিকেটার থাকলে তাদের যাবতীয় খরচ সংশ্লিষ্ট দলকেই বহন করতে হবে।

নিলাম নিয়ে জাতীয় দল ও জাতীয় দলের আশেপাশের ক্রিকেটারদের তুলনায় নিচের দিকের ক্রিকেটারদেরই আগ্রহ থাকার কথা বেশি। দল পাওয়াটাই ছিল তাদের কাছে বড় ব্যাপার। ম্যাচ ফি তো স্কোয়াডে থাকা সবার জন্যই সমান। অবশ্য বেশির ভাগ দলই তাদের প্রত্যাশিত খেলোয়াড় নিয়ে নিয়েছে ‘এ’, ‘বি’, ‘সি’ ও ‘ডি’ শ্রেণি থেকে। দল পাননি ‘ই’ শ্রেণির অধিকাংশ ক্রিকেটারই।

বিভিন্ন শ্রেনিতে উল্লেখযোগ্য ক্রিকেটারদের মধ্যে দল পাননি নাসির হোসেন, আলাউদ্দিন বাবু, আশিকুর রহমান শিবলী, সোহাগ গাজী ও সালাউদ্দিন শাকিল।

ডমেস্টিক থ্রি (ডি–থ্রি) ট্রফির নিলাম অনুষ্ঠান।

পাঁচ তারকা হোটেলের ঠাঁট–বাটের সঙ্গে চারু শর্মার উপস্থিতি মিলিয়ে সত্যিকারের নিলামের একটা আবহ এলেও পুরো ব্যাপারটি ছিল অনেকটাই মনোপলি খেলার মতো। মনোপলিতে অবশ্য অর্থসম্পদ সবই কাল্পনিক। এখানে তা নয়। এখানে কাল্পনিক অর্থে দলগুলো কিনে নিয়েছে সত্যিকারের ক্রিকেটারদেরই।

নিলামের ফাঁকে জেনে নিন ডি–থ্রি কী এবং কেন

নিলাম শেষে ৬ দল

ফরচুন গ্রুপ: তাওহিদ হৃদয়, রিশাদ হোসেন, সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন, তানজিদ হাসান, সাব্বির রহমান, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, তানভীর ইসলাম, ইবাদত হোসেন, ফজলে মাহমুদ রাব্বি, মুশফিক হাসান, কামরুল ইসলাম, আকবর আলী, মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, এনামুল হক আশিক, স্বাধীন ইসলাম, শামীম মিয়া, নুহায়েল সানদিদ, মোহাম্মদ হোসাইন, নিলয় রঞ্জন শীল, সৈকত আলী, হাফিজুর রহমান এবং ইসলামুল আহসান।
ওয়ালটন গ্রুপ: মেহেদী হাসান মিরাজ, মুমিনুল হক, লিটন দাস, তাসকিন আহমেদ, মার্শাল আইয়ুব, নাসুম আহমেদ, আরিফুল ইসলাম, রনি তালুকদার, ইকবাল হোসেন, নাহিদুল ইসলাম, শহীদুল ইসলাম, রেজাউর রহমান, জিয়াউর রহমান, হাবিবুর রহমান, সামিউন বাসীর, চৌধুরি মোহাম্মদ রিজওয়ান, এসএম মেহেরব, ইমরানউজ্জামান, আসাদুজ্জামান পায়েল, নাঈম আহমেদ, রবিউল হাসান, রবিউল ইসলাম এবং রাকিব হাওলাদার।
ব্লুস্টার: নুরুল হাসান, শেখ মেহেদী হাসান, হাসান মাহমুদ, নাহিদ রানা, এনামুল হক বিজয়, আফিফ হোসেন, মাহমুদুল হাসান, ইফতিখার হোসেন ইফতি, মাহফিজুল ইসলাম, আবু হাশিম, আবু হায়দার, সাদিকুর রহমান, কালাম সিদ্দিকী, সফর আলী, ইয়াসিন হোসেন, রহিম আহমেদ, আনামুল হক আনাম, আজিজুল হাকিম, আব্দুর রহিম, আদিল বিন সিদ্দীক এবং শাহাদাত রহমান।
সেভেন রিংস সিমেন্ট: মুশফিকুর রহিম, তাইজুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, খালেদ আহমেদ, সাদমান ইসলাম, জাকির হাসান, শামীম হোসেন, মোহাম্মদ মিঠুন, মোহাম্মদ ইফরান হোসেন, শেখ পারভেজ, মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী, মাহফুজুর রহমান, আনিসুল ইসলাম, এনামুল হক, দেবাশিস সরকার, আসাদুল্লাহ হিল গালিব, রাফিউজ্জামান রাফি, রিজান হোসেন, রায়ান রাফসান রহমান, তাফসির আরাফাত তাসিব, ফারহান সাদিক এবং আবদুল্লাহ আল মুমিন।
একমি গ্রুপ: মোসাদ্দেক হোসেন, আব্দুল গাফফার সাকলাইন, নাঈম হাসান, আলিস আল ইসলাম, মোহাম্মদ রুবেল, অমিত হাসান, পারভেজ হোসেন, শাহাদাত হোসেন, রাকিবুল হাসান, রিপন মণ্ডল, মুকিদুল ইসলাম, মাহমুদউল্লাহ, খালিদ হাসান, জাওয়াদ আবরার, মারুফ মৃধা, ইয়াসিন মিয়া, আশরাফুল হাসান, সাব্বির হোসেন, রুয়েল মিয়া, আহরার আমিন, আল আমিন এবং অনিক সরকার।
সিটিজেনস ব্যাংক: মোহাম্মদ নাঈম, সাইফ হাসান, জাকের আলী, শরীফুল ইসলাম, হাসান মুরাদ, ইয়াসির আলী, সুমন খান, আজিজুল হাকিম, জিসান আলম, তাইবুর রহমান, আমিনুল ইসলাম, শুভাগত হোম, শফিকুল ইসলাম, ইরফান শুক্কুর, তোফায়েল হাসান, আল ফাহাদ, মইন খান, আরিফ আহমেদ, লিওন ইসলাম, আশিকুজ্জামান, আবদুল্লাহ আল মুহী, ইকবাল হোসেন ইমন, অনিক দেববর্মা এবং হুমায়ুন আহমেদ।

Read full story at source