২০ বছর পর সার্জেন্ট পদে ৮৪ ও এসআই পদে ১৬২ জন যোগ দিচ্ছেন
· Prothom Alo

দলীয় বিবেচনায় নিয়োগের অভিযোগে ২০০৭ সালে চূড়ান্ত নিয়োগ বাতিল হয়েছিল তাঁদের। এরপর দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে প্রায় দুই দশক পর পুলিশের চাকরিতে যোগদানের সুযোগ পেয়েছেন তাঁরা। তাঁদের মধ্যে ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ও ৪৩তম ক্যাডেট উপপরিদর্শক (এসআই) ২০০৬ ব্যাচের একাংশের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
Visit asg-reflektory.pl for more information.
রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি কুচকাওয়াজে অভিবাদন গ্রহণ করেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।
অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির ও পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল মাইনুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।
কুচকাওয়াজে ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ব্যাচের ৮৪ জন এবং ৪৩তম ক্যাডেট এসআই-২০০৬ ব্যাচের ১৬২ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেন। ছয় মাসের মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে শিক্ষানবিশ সার্জেন্টরা নিজ নিজ ইউনিটে যোগ দেবেন। আর ক্যাডেট এসআই শিক্ষানবিশ এসআই (নিরস্ত্র) হিসেবে বিভিন্ন ইউনিটে পদায়িত হবেন।
রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।বৈষম্যের শিকার না করার আহ্বান
প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের প্রতীক্ষা, আইনি প্রক্রিয়া ও নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে এই ব্যাচের সদস্যরা দেশের সেবায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। এ জন্য তাঁদের বিশেষভাবে অভিনন্দন জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যে বৈষম্য আর অন্যায়ের শিকার আপনারা হয়েছেন, সেই বৈষম্য আর অন্যায়কে যেন আপনারা কখনোই ব্যক্তিজীবনে প্রশ্রয় না দেন এবং পেশাজীবনে চর্চা না করেন, সে প্রত্যাশা আমাদের সবার।’ তিনি বলেন, পুলিশের পোশাক, পরিচয় ও কাঁধে অর্পিত দায়িত্ব কেবল চাকরির পরিচয় নয়; এটি জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ন্যায়বিচারের পথ সুগম করা এবং রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার অঙ্গীকার। প্রতিটি সিদ্ধান্ত যেন দায়িত্বশীল ও আইনসম্মত হয় এবং আচরণে মানবিকতার পরিচয় থাকে, সে বিষয়ে প্রশিক্ষণার্থীদের সতর্ক করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ভয়ভীতি ও পক্ষপাতিত্ব উপেক্ষা করে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে পুলিশের সদস্যদের। আইনি সেবা ও সুরক্ষা দিয়ে জনগণের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের সত্যিকার অর্থে জনগণের পুলিশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
মানবিক পুলিশ গড়ার ওপর গুরুত্ব
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রচলিত অপরাধের পাশাপাশি সাইবার অপরাধ, অনলাইন প্রতারণা, আর্থিক জালিয়াতি, মাদক, মানব পাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশকে আধুনিক প্রযুক্তি, তথ্য বিশ্লেষণ ও বৈজ্ঞানিক তদন্তে দক্ষ হতে হবে। পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সংবিধান, প্রচলিত আইন ও বিধিবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে নিরপরাধ ব্যক্তির অধিকার সুরক্ষিত রাখতে হবে এবং তদন্ত ও আইন প্রয়োগের প্রতিটি পর্যায়ে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণকে স্বস্তি দেওয়া ও দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। পুলিশের দক্ষতা ও সামর্থ্য বাড়াতে জনবল বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ, যানবাহন, অবকাঠামো এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
কুচকাওয়াজে বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারীদের মধ্যে ক্রেস্ট দেওয়া হয়কুচকাওয়াজে বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারীদের মধ্যে শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ওমর ফারুক শ্রেষ্ঠ সার্জেন্ট, মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন শ্রেষ্ঠ একাডেমিক, সাইফুল ইসলাম মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে শ্রেষ্ঠ এবং মো. আসাদুজ্জামান শ্রেষ্ঠ শুটার নির্বাচিত হন।
অন্যদিকে ক্যাডেট এসআইদের মধ্যে মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম শ্রেষ্ঠ ক্যাডেট, বোরহানুল ইসলাম শ্রেষ্ঠ একাডেমিক, দেওয়ান গোলাম রসুল মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে শ্রেষ্ঠ এবং কামাল গনি শ্রেষ্ঠ শুটার নির্বাচিত হন।