১৩০তম হয়েও বাংলাদেশের কিশোর ফুটবলাররা পেল লাখ টাকা করে পুরস্কার
· Prothom Alo

আজারবাইজানের বাকুতে অনুষ্ঠিত ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফুটবল উৎসবে ১৮৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩০তম। এই অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে দলের ২০ সদস্যের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে পুরস্কার দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
Visit biznow.biz for more information.
আজ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে (বাফুফে) আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এই পুরস্কার দেন প্রতিমন্ত্রী। খেলোয়াড়দের পাশাপাশি কোচিং স্টাফ ও মিডিয়া সদস্যরাও পেয়েছেন এক লাখ টাকা করে। সব মিলিয়ে ২০ সদস্যের জন্য পুরস্কারের পরিমাণ ২০ লাখ টাকা।
গত ৩০ অক্টোবর শেষ হয়েছে প্রথম ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফুটবল উৎসব। ১৮৯টি দেশের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ ‘ই’ স্তরে রানার্সআপ হয়েছে। তবে পুরো প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৩০তম। অর্থাৎ বাংলাদেশ পুরো বিশ্বকাপের রানার্সআপ হয়নি, হয়েছে একটি নির্দিষ্ট স্তরের রানার্সআপ। এই পার্থক্য স্পষ্ট না করলে সাফল্যের প্রকৃত চিত্র বোঝা কঠিন।
ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফুটবল উৎসবে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ দল।প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া দেশগুলোকে ছয়টি স্তরে ভাগ করে খেলানো হয়। বাংলাদেশ নিজেদের গ্রুপে ছয় দলের মধ্যে পঞ্চম হয়ে ‘ই’ স্তরে খেলার সুযোগ পায়। সেখানে নকআউট পর্বে সেশেলস ও সিঙ্গাপুরকে টাইব্রেকারে হারায় দলটি। এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে মন্টেনেগ্রোকে ৪-০ এবং সেমিফাইনালে গ্যাবনকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে। তবে শিরোপার লড়াইয়ে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের কাছে ৪-১ গোলে হেরে যায় বাংলাদেশ।
এই অর্জনকে একেবারে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় কয়েকটি ম্যাচ জেতা, প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়াই করা এবং চাপের মধ্যে খেলার অভিজ্ঞতা পাওয়া—সবই কিশোর ফুটবলারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে একটি স্তরের রানার্সআপ হওয়াকে পুরো বিশ্বকাপের রানার্সআপ হিসেবে তুলে ধরলে বাস্তব চিত্র আড়াল হয়ে যায়।
বাফুফের আমন্ত্রণপত্রেও দলটিকে ‘বিশ্বকাপ ও উৎসবের রানার্সআপ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। কোন স্তরে রানার্সআপ, সেটি স্পষ্ট না থাকলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।
ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফুটবল উৎসবে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ দলের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান।প্রশ্নটা খেলোয়াড়দের এক লাখ টাকা করে পুরস্কার দেওয়া নিয়ে নয়। বরং এই পুরস্কার ও সংবর্ধনার পাশাপাশি তাদের ভবিষ্যৎ গড়ার পরিকল্পনা কতটা আছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। কয়েকটি ম্যাচ জয়ের পর পুরস্কার দেওয়া যায়। কিন্তু এই কিশোরদের নিয়মিত উন্নত প্রশিক্ষণ, মানসম্মত সরঞ্জাম, আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা নিশ্চিত করাই আসল কাজ।
বাফুফে ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় চাইলে এই দলকে ঘিরে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে পারে। কারণ, আজকের এই কিশোরেরাই একদিন জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন দেখে। এক লাখ টাকা তাদের মুখে হাসি ফোটাবে, সন্দেহ নেই। কিন্তু সেই হাসি ধরে রাখতে হলে দরকার নিয়মিত অনুশীলন, ভালো প্রশিক্ষণ এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ।