রাশমিকা-বিজয়ের বিয়ের সাজ: রাজকীয় আমেজের ট্র্যাডিশনাল লুকে মিনিমালিজমের ছোঁয়া
· Prothom Alo

দক্ষিণ ভারতের বিনোদনজগতের সবচেয়ে জনপ্রিয় জুটি, বিজয় দেবরাকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানা, দীর্ঘ পাঁচ বছরের প্রেমের পর অবশেষে বিয়ে করেছেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তাঁদের বিশেষ দিনের ছবিগুলো মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে গেছে। রাজা-রানির মতো রাজকীয় এই বিয়ের আয়োজন ভক্তদের মন ছুঁয়ে গেছে। সেই সঙ্গে বর-কনের সাজ আলাদাভাবে নজর কেড়েছে সবার। সাধারণত তারকাদের বিয়েতে দেখা যায় প্যাস্টেল রং, মিনিমাল সাজ বা ট্রেন্ডনির্ভর আয়োজন। কিন্তু তাঁরা পুরোপুরি ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছেন। এই বিয়ে ছিল পুরোপুরি ঐতিহ্যবাহী, যা শুধু সিনেমাপ্রেমীদের নয়, ফ্যাশন ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের মধ্যেও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। রইল বিস্তারিত...
Visit asg-reflektory.pl for more information.
রাশমিকার রাজকীয় ব্রাইডাল লুক
নিজের বিশেষ দিনে রাশমিকা মান্দানা হাজির হয়েছিলেন রাজকীয় দক্ষিণি ভারতীয় ব্রাইডাল লুকে। বেছে নিয়েছিলেন ভারতীয় ডিজাইনার অনামিকা খন্নার নকশা করা রাস্ট-অরেঞ্জ রঙের সিল্ক শাড়ি। শাড়িটির সোনালি এমব্রয়ডারি এবং লাল ও অ্যান্টিক গোল্ড বর্ডারের সংমিশ্রণ রাজকীয় আবহকে আরও উজ্জ্বল করে ফুটিয়ে তুলেছে।
বিশেষ করে শাড়ির ড্রেপে থাকা মন্দির-ঘরানার মোটিফ হায়দরাবাদের স্থাপত্য ঐতিহ্য থেকে অনুপ্রাণিত, যা শিল্প ও সংস্কৃতির এক অনন্য সমন্বয় ঘটিয়েছে। ডিজাইনারের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘শাড়িটি পবিত্র শিল্পরীতির প্রতি এক শ্রদ্ধাঞ্জলি’। ব্লাউজেও ছিল জমকালো কাজ, যা পুরো সাজকে সম্পূর্ণ করেছে।
বিয়ে উপলক্ষে রাশমিকা ও বিজয় দুজনেই ভারী জুয়েলারি পরেছেন, যা দর্শকদের নজর কেড়েছে বেশি। শ্রী জুয়েলার্স থেকে নিয়েছেন আকর্ষণীয় ভারী গয়নাগুলো। এনডিটিভির একটি সাক্ষাৎকারে শ্রী জুয়েলার্স জানায়, রাশমিকা পরেছিলেন মোট ১১ পিস গয়না। যার মধ্যে রয়েছে, ট্র্যাডিশনাল চোকার লেয়ার্ড নেকপিস, স্টেটমেন্ট ঝুমকা, জাদা বিলা (দক্ষিণ ভারতীয় কনের চুলে পরার ঐতিহ্যবাহী অলংকার), চাম্পাসারালু, হাতফুল, মাথাপট্টি, নাকফুল, ব্যাঙ্গলস, বাজু, বিছা ও নূপুর।
এই জুয়েলারি ও পোশাকের নিখুঁত আলাদাভবে ছাপ ফেলেছে রাশমিকার ফ্যাশনিস্তা ভক্তদের মনে। তাঁর রাজকীয় ব্রাইডাল লুক প্রমাণ করল, কীভাবে পোশাক, গয়না ও প্রথাগত শৈলীর নিখুঁত সমন্বয় একটি বর্ষসেরা ফ্যাশন স্টেটমেন্ট তৈরি করতে পারে। বিশেষ এই দিনে রাশমিকা করেছিলেন মিনিমাল মেকআপ। তবে অনেকেই ভাবছেন নতুন বর–কনের গালে কেন কালো ফোঁটা। দক্ষিণি বিয়ের প্রথা অনুসারে কালো তিল কুনজর থেকে রক্ষা করার জন্য প্রথাগতভাবে ব্যবহার করা হয়।
এই ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ডিটেইল তার ব্রাইডাল লুককে আরও অর্থবোধে করেছে যেন। সব মিলিয়ে এ যেন এক অন্য রকম রাশমিকাকে বিয়ের দিন দেখেছেন তাঁর অনুরাগীরা।
বিজয়ের সাহসী ও ঐতিহ্যবাহী বর লুক
বিয়ের দিন বর লুকে বিজয় দেবরাকোন্ডা নিজেকে উপস্থাপন করলেন এক ব্যতিক্রমী, সাহসী ও ঐতিহ্যবাহী সাজে। শেরওয়ানি বা পাঞ্জাবির পরিবর্তে তিনি বেছে নিলেন শুধু ধুতি, যার ওপর ছিল সূক্ষ্ম সোনালি সুতোর কাজ। জুটি হয়েছে একই নকশার উজ্জ্বল লাল উত্তরীয়।
ক্রিম সিল্কের ধুতি ও লাল উত্তরীয়ের সংমিশ্রণে তার লুকে প্রকাশ পেয়েছে এক রাজকীয় উপস্থিতি। কাঁধে জড়ানো উত্তরীয়তে মন্দির ও বনভূমি স্থাপত্য অনুপ্রাণিত সূচিকর্ম তাঁর সাজে ঐতিহ্যের ছোঁয়া এনেছে। ‘ভানসিংরাম’ বুননশৈলী ব্যবহার করা হয়েছে তাঁর পোশাকে।
গয়নার নির্বাচনে বিজয় ছিলেন অনন্য। সোনার গয়নায় মোড়া, যেন পৌরাণিক কোনো রাজা। তিনি পরেছিলেন সোনার লেয়ার্ড নেকলেস (একটি লম্বা, একটি ছোট), কানে স্টাড, হাতে ফ্লোরাল রিস্টকাফ, বাহুতে আর্ম কাফ, আংটি এবং কোমরবন্ধে। এমনকি পায়ে পরা অ্যাঙ্কেল কড়া ঐতিহ্যবাহী বিয়েতে বিরল হলেও তার লুককে সম্পূর্ণ করেছে। সব মিলিয়ে রাজসিক ঔজ্জ্বল্য ফুটে উঠেছে তাঁর ব্যক্তিত্বে।
গয়নায় আছে নিখুঁত হাতি-মোটিফ (জ্ঞানের প্রতীক) এবং বাঘ-মোটিফ (চাতুর্য ও তীক্ষ্ণতার প্রতীক)। সূক্ষ্ম ফ্লোরাল প্যাটার্ন, নকশি খোদাই এবং রাভা ডিটেইলিংও আছে। বিয়ের দিন বর সাজে বিজয় যেন এক নিঃশব্দ বিপ্লব ঘটালেন। ঐতিহ্যগতভাবে কনের পায়ে যে আলতা পরা হয়, সেটি তিনি নিজের লুকে অন্তর্ভুক্ত করেন। সেই সঙ্গে ‘গ্রুম স্টাইল’-এর প্রচলিত সংজ্ঞা বদলে দেখালেন।
বিজয় প্রমাণ করলেন, ঐতিহ্য শুধু লিঙ্গভিত্তিক নয়; এটি সংস্কৃতির অংশ, যা সবাই উদ্যাপন করতে পারে। ধুতি ও লাল উত্তরীয়র সঙ্গে আলতার লাল আভা তৈরি করেছে চমৎকার ভিজ্যুয়াল সামঞ্জস্য।
ছবি: ইন্সটাগ্রাম