ঈশ্বর যুদ্ধবাজদের প্রার্থনা শোনেন না: কার উদ্দেশে বললেন পোপ
· Prothom Alo

পোপ চতুর্দশ লিও যুদ্ধের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, সামরিক শক্তি কখনোই শান্তি বা স্বাধীনতা বয়ে আনতে পারে না। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ও অন্যান্য নেতারা যখন ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে ধর্মের দোহাই দিয়ে নিজেদের কর্মকাণ্ডকে সঠিক প্রমাণের চেষ্টা করছেন, পোপ তখন তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করলেন।
গতকাল শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) পোপ লেখেন, ‘ঈশ্বর কোনো সংঘাতকে আশীর্বাদ করেন না। যারা একসময় তলোয়ার চালিয়েছে এবং আজ বোমা ফেলছে, যিশুখ্রিষ্টের কোনো অনুসারী কখনোই তাদের পক্ষে থাকতে পারে না।’
Visit casino-promo.biz for more information.
পোপ আরও বলেন, সামরিক শক্তি শান্তি বা মুক্তি দেবে না। শান্তি আসে কেবল ‘মানুষের মধ্যে ধৈর্যশীল সহাবস্থান এবং সংলাপের মাধ্যমে’। তবে তাঁর এই পোস্টে তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বা অন্য কোনো নেতার নাম সরাসরি উল্লেখ করেননি।
নিজেকে খ্রিষ্টান (ক্যাথলিক নন) হিসেবে পরিচয় দেওয়া ট্রাম্প তাঁর মেয়াদে বেশ কয়েকবার নিজের কর্মকাণ্ডকে সঠিক প্রমাণ করতে ধর্মের দোহাই দিয়েছেন। গত সোমবার হোয়াইট হাউসের এক সংবাদ সম্মেলেন ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন, ঈশ্বর ইরান যুদ্ধকে সমর্থন করছেন। কারণ, হিসেবে তিনি বলেন, ‘ঈশ্বর মঙ্গলময়’ এবং তিনি ‘মানুষের কল্যাণ দেখতে চান’।
এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইরানের সভ্যতা ধ্বংস করে দেওয়ার যে হুমকি ট্রাম্প দিয়েছিলেন, তারও নিন্দা জানিয়েছিলেন পোপ লিও। তিনি এই হুমকিকে ‘একেবারেই অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেন এবং সতর্ক করেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত কেবল ‘ঘৃণা উসকে দিচ্ছে’।
সম্প্রতি এক গণপ্রার্থনায় পোপ জোর দিয়ে বলেছিলেন, যুদ্ধের পক্ষে সাফাই গাইতে কেউ ঈশ্বরকে ব্যবহার করতে পারেন না। সেখানে উপস্থিত হাজারো মানুষের সামনে তিনি বলেন, ঈশ্বর ‘যুদ্ধবাজদের প্রার্থনা শোনেন না, বরং তা প্রত্যাখ্যান করেন।’
ছয় সপ্তাহের লড়াই শেষে গত মঙ্গলবার থেকে ইরান যুদ্ধে সাময়িক যুদ্ধবিরতি চলছে। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই যুদ্ধকে ‘ঐশ্বরিক অনুমোদনপ্রাপ্ত’ হিসেবে চিত্রিত করেছেন। হেগসেথ প্রায়ই প্রার্থনা করেন এবং বিশ্বাস করেন, ঈশ্বর মার্কিন সেনাবাহিনীর পক্ষে আছেন।
যুদ্ধ শুরুর কয়েক সপ্তাহ পর পেন্টাগনের এক গির্জায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে হেগসেথ (তিনি নিজেও খ্রিষ্টান কিন্তু ক্যাথলিক নন) একটি প্রার্থনা পাঠ করেন, যেখানে সামরিক শত্রুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার আহ্বান জানানো হয়।
সরাসরি সম্প্রচারিত সেই অনুষ্ঠানে হেগসেথ প্রার্থনা করেন, ‘প্রতিটি গোলা যেন ধার্মিকতা এবং আমাদের মহান দেশের শত্রুদের গায়ে আঘাত হানে। প্রতিটি সিদ্ধান্তে তাদের (সেনাবাহিনী) প্রজ্ঞা দিন, সামনের কঠিন পরীক্ষায় ধৈর্য দিন এবং যারা দয়া পাওয়ার যোগ্য নয়—তাদের বিরুদ্ধে অটুট ঐক্য ও চরম সহিংসতা প্রদর্শনের শক্তি দিন।’