বার্সেলোনা যা পারেনি রিয়াল কি পারবে
· Prothom Alo

দুই লেগের নকআউট ম্যাচের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো—প্রথম ম্যাচে হেরে গেলেও ফিরে আসার সুযোগ থাকে। অর্থাৎ, প্রথম লেগের পরও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কিছু শেষ হয়ে যায় না। যদিও প্রথম লেগে হারের পর চাপের মুখে ঘুরে দাঁড়ানোটা একটু কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
যেমন গতকাল রাতে সম্ভাবনা জাগিয়েও প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখতে পারেনি বার্সেলোনা। একইভাবে প্রথম লেগে হারা লিভারপুলও পিএসজির বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়াতে ব্যর্থ হয়েছে। আজ একই চ্যালেঞ্জের মুখে মাঠে নামবে রিয়াল মাদ্রিদ ও স্পোর্তিং লিসবন। রিয়াল প্রথম লেগে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে হেরেছিল ২-১ গোলে। আর আর্সেনালের বিপক্ষে স্পোর্তিংয়ের হার ১-০ গোলে।
Visit moryak.biz for more information.
প্রথম লেগে হেরে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন। কিন্তু প্রথম লেগের সেই হারটা যদি ঘরের মাঠে হয়, তবে কয়েক গুণ কঠিন হয়ে যায় কাজ। বার্সেলোনা প্রথম লেগে নিজেদের মাঠ ক্যাম্প ন্যুতে হেরেছিল। আতলেতিকোর মাঠে ২–১ গোলে জিতেও বার্সার শিকে ছেড়েনি। দুই লেগ মিলিয়ে দলটি হেরেছে ৩-২ গোলে।
বার্সার মতো রিয়ালও ঘরের মাঠে হেরেছিল বায়ার্নের বিপক্ষে। এখন সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে হারের প্রতিশোধ তারা নিতে চায় আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায়। কাজটা একেবারে সহজ নয়, এমনকি রিয়ালের সামনে অনুপ্রেরণাও আছে খুব সামান্য।
১৯৯২-৯৩ মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগ নামকরণের পর যেসব নকআউট ম্যাচে প্রথম লেগে ঘরের মাঠে কোনো দল হেরে গেছে, তাদের ঘুরে দাঁড়িয়ে পরের ধাপে যাওয়ার হার মাত্র ৬.১ শতাংশ। এখন পর্যন্ত এমন ঘটনা ঘটেছে ১১৫টি, দুই লেগের ম্যাচে মাত্র ৭টির ক্ষেত্রে প্রথম লেগে ঘরের মাঠে হেরে যাওয়া দল শেষ পর্যন্ত এগিয়ে গেছে। সেই সাতটির মধ্যে তিনটি আবার ছিল পুরোনো ‘অ্যাওয়ে গোল’ নিয়মের কারণে, যা এখন আর কার্যকর নয়। তবে ৭টি দৃষ্টান্ত যখন আছে, রিয়াল চাইলে অষ্টমটি সৃষ্টি করতেই পারে।
বার্সেলোনাকে বিদায় করে ৯ বছর পর সেমিফাইনালে আতলেতিকো১. আয়াক্স-পানাথিনাইকোস
সেমিফাইনাল, ১৯৯৫-৯৬
(দুই লেগ মিলিয়ে আয়াক্স ৩-১ গোলে জয়ী)
প্রথম লেগে ঘরের মাঠে ১-০ গোলে হারে আয়াক্স। তবে ফিরতি লেগে প্রতিপক্ষের মাঠে ফন গালের দল ৩-০ গোলে জিতে ঘুরে দাঁড়িয়ে ফাইনালে ওঠে। চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রথম ১৮ বছরে এটিই ছিল একমাত্র উদাহরণ, যেখানে ঘরের মাঠে প্রথম লেগ হেরেও কোনো দল শেষ পর্যন্ত এগিয়ে যায়।
২. ইন্টার মিলান-বায়ার্ন মিউনিখ
শেষ ষোলো, ২০১০-১১
(দুই লেগ মিলিয়ে ৩-৩ ড্র, ইন্টার অ্যাওয়ে গোলে জয়ী)
২০১০-১১ মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে খেলতে নেমে শেষ ষোলোতে বায়ার্নের কাছে ঘরের মাঠে প্রথম লেগে ১-০ গোলে হারে ইন্টার। তবে ফিরতি লেগে রোমাঞ্চকর ম্যাচে বায়ার্নের মাঠে ইন্টার জেতে ৩-২ গোলে। দুই লেগ মিলিয়ে ফল ৩-৩ হলেও অ্যাওয়ে গোলের সুবিধা নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে তারা।
৩. ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড-পিএসজি
শেষ ষোলো, ২০১৮-১৯
(দুই লেগ মিলিয়ে ৩-৩ ড্র, ইউনাইটেড অ্যাওয়ে গোলে জয়ী)
২০১৮-১৯ মৌসুমে শেষ ষোলোতে পিএসজির বিপক্ষে অবিশ্বাস্য এক প্রত্যাবর্তনের গল্প লেখে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। প্রথম লেগে ওল্ড ট্রাফোর্ডে ২-০ গোলে জিতে এগিয়ে ছিল পিএসজি। ফিরতি লেগে পিএসজির মাঠে শুরুতেই গোল করেন ইউনাইটেড স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকু। পরে ম্যাচ শেষ হয় ইউনাইটেডের ৩-১ গোলের জয়ে। দুই লেগ মিলিয়ে ম্যাচ ৩-৩ সমতায় শেষ হলেও অ্যাওয়ে গোলের নিয়মে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে ইউনাইটেড।
অনুশীলনের মতো মাঠেও এমবাপ্পে–ভিনিসিয়ুসদের এমন হাসিখুশি দেখতে চান রিয়াল সমর্থকেরা৪. আয়াক্স-রিয়াল মাদ্রিদ
শেষ ষোলো, ২০১৮-১৯
(দুই লেগ মিলিয়ে আয়াক্স ৫-৩ গোলে জয়ী)
২০১৮-১৯ মৌসুমে শেষ ষোলোতে রিয়ালের বিপক্ষে দারুণ এক প্রত্যাবর্তনের গল্প লেখে আয়াক্স। প্রথম লেগে নিজেদের মাঠে ২-১ গোলে হেরে যায় তারা। তবে দ্বিতীয় লেগে রিয়াল মাঠে সবাইকে চমকে দেয় আয়াক্স। ম্যাচে ডাচ ক্লাবটি রিয়ালকে বিধ্বস্ত করে ৪-১ গোলে। সব মিলিয়ে দুই লেগ মিলিয়ে তাদের জয় ৫-৩ ব্যবধানে।
৫. টটেনহাম-আয়াক্স
সেমিফাইনাল, ২০১৮-১৯
(দুই লেগ মিলিয়ে ৩-৩ ড্র, টটেনহাম গোল ব্যবধানে জয়ী)
২০১৮-১৯ চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালের প্রথম লেগে টটেনহামের মাঠে ১-০ গোলে জিতেছিল আয়াক্স। ফিরতি লেগে শুরুতে ২-০ গোলে এগিয়ে গিয়ে ব্যবধান ৩-০ করে ডাচ ক্লাবটি। কিন্তু সেখান থেকে অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়ায় টটেনহাম। লুকাস মৌরা হ্যাটট্রিক করে ৩-৩ সমতা ফেরান। শেষ পর্যন্ত এই সমতাতেই শেষ হয় ম্যাচ এবং অ্যাওয়ে গোলের সুবিধা নিয়ে ফাইনালে পৌঁছে যায় স্পারস।
৬. পিএসজি-বার্সেলোনা
কোয়ার্টার ফাইনাল, ২০২৩-২৪
(দুই লেগ মিলিয়ে পিএসজি ৬-৪ ব্যবধানে জয়ী)
কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে পিএসজির মাঠে ৩-২ গোলের জয় পায় বার্সেলোনা। ফিরতি লেগে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় পিএসজি। কিলিয়ান এমবাপ্পের দারুণ নৈপুণ্যে পিএসজি ম্যাচ জেতে ৪-১ ব্যবধানে। দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৪ ব্যবধানে জিতে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে পিএসজি।
৭. পিএসজি-লিভারপুল
শেষ ষোলো, ২০২৪-২৫
(দুই লেগ মিলিয়ে ১-১ সমতা, টাইব্রেকারে পিএসজি ৪-১ ব্যবধানে জয়ী)
এক মৌসুম পরে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প লেখে পিএসজি। এবার শিকার লিভারপুল। প্রথম লেগে পিএসজির মাঠে হার্ভি এলিয়টের গোলে ১-০ ব্যবধানে জেতে লিভারপুল। পরে লিভারপুলের মাঠে পিএসজিও সমতা ফেরায় একই ব্যবধানে জিতে। ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। যেখানে ৪-১ গোলে বাজিমাত করে লুইস এনরিকের দল।