হাম পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেশ কিছু করণীয় প্রস্তাব দিল গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি

· Prothom Alo

দেশে হামের বর্তমান পরিস্থিতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। বামধারার শিক্ষক, চিকিৎসক, শিল্পী, পেশাজীবীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নাগরিকদের সমন্বয়ে গঠিত এই সংগঠন বলেছে, হামের বর্তমান পরিস্থিতি আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুর্বলতা ও টিকাদান কর্মসূচির ঘাটতিকে সামনে নিয়ে এসেছে। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

আজ শনিবার গণমাধ্যমে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়। জনস্বাস্থ্যের এই জরুরি পরিস্থিতি নিয়ে সংগঠনের পক্ষে বিবৃতিটি পাঠিয়েছেন কমিটির সদস্য আনু মুহাম্মদ, হারুন-অর-রশীদ, কাজী রকিবুল ইসলাম, জয়দীপ ভট্টাচার্য, নাজমুস সাকিব ও সজীব তানভীর।

Visit extonnews.click for more information.

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বিগত অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক টিকা ক্রয় নিয়ে গাফিলতি, আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা, জনস্বাস্থ্যের প্রতি প্রাতিষ্ঠানিক অবহেলা প্রভৃতি হামের মহামারিকে ডেকে এনেছে এবং সম্প্রসারিত টিকাদান (ইপিআই) কর্মসূচিকে দুর্বল করেছে। যারা প্রতিরোধযোগ্য এ শিশুমৃত্যুর জন্য দায়ী, তাদের চিহ্নিত করে শাস্তি দিতে হবে।’

হামের বর্তমান পরিস্থিতি কেবল একটি স্বাস্থ্য সমস্যা নয়, বরং এটি একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সংকট উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, হামের ব্যাপকতা এত বেড়েছে যে আগে টিকা নেওয়া শিশু এবং ৯ মাসের কম বয়সী শিশুরাও সংক্রমিত হচ্ছে। সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে এসব মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব হতো।

জনস্বাস্থ্য ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে বিবৃতিতে বেশ কিছু জরুরি দাবি ও করণীয় তুলে ধরেছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। এগুলোর মধ্যে রয়েছে—টিকাদান কর্মসূচিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা (ঘনবসতি, দুর্গম অঞ্চল) ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিশুদের অগ্রাধিকার দেওয়া এবং টিকার পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা; আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসার জন্য উপজেলা থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা; প্রতিটি হাসপাতালে বিশেষ ‘হাম কর্নার’ বা সংক্রামক ব্যাধি কর্নার চালু করা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ ও ভিটামিন সরবরাহ নিশ্চিত করা।

এ ছাড়া টিকা নিয়ে বিদ্যমান ভুল ধারণা ও গুজব মোকাবিলায় কার্যকর জনসচেতনতা কার্যক্রম চালু করা; শক্তিশালী রোগ নজরদারি ব্যবস্থা ও জনস্বাস্থ্যের জরুরি অপারেশন কেন্দ্র সচল করা; পুষ্টি ও ভিটামিন কার্যক্রম জোরদার করা; মাতৃদুগ্ধ পান ও পুষ্টি কর্মসূচি শক্তিশালী করা; হাম নির্মূল কৌশলপত্র আবার সক্রিয় করা; ভ্যাকসিন সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করা; জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের ভ্যাকসিন উৎপাদন সক্ষমতা ফিরিয়ে আনা; স্বাস্থ্য দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য স্ট্যান্ডিং অর্ডার অন পাবলিক হেলথ ইমার্জেন্সি চালু করা এবং ছয়টি বিভাগে নির্মিত শিশু হাসপাতালগুলো দ্রুত পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করার দাবি জানানো হয়েছে।

Read full story at source