বাবার স্মরণে ফ্রি-মেডিকেল ক্যাম্প করলেন অদম্য নাজমিন

· Prothom Alo

সিলেটের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে আসা অদম্য মেধাবী নাজমিন বেগম সাহস ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সব প্রতিকূলতাকে মোকাবিলা করে সফল হয়েছেন। চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করছেন তিনি। ব্র্যাক ব্যাংক-প্রথম আলো ট্রাস্ট অদম্য মেধাবী তহবিল থেকে শিক্ষাবৃত্তি পেয়ে এইচএসসি ও এমবিবিএস পর্যায়ে পড়াশোনা করেছেন তিনি। বর্তমানে আল-হারামাইন হাসপাতালের শিশু বিভাগে সিনিয়র মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত। সম্প্রতি চিকিৎসাবিজ্ঞানের আন্তর্জাতিক ডিগ্রি এমআরসিপিসিএইচ পার্ট-১ (স্নাতকোত্তর পরীক্ষা) পাস করছেন তিনি।সম্প্রতি তিনি তাঁর নিজ এলাকায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প করেন। তিনি নবজাতক ও শিশুরোগ বিষয়ে অভিজ্ঞ।

Visit playerbros.org for more information.

এক শিশুকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করছেন।

ডা. নাজমিন বেগম বলেন, ‘আমি আসলে আমার বাবার স্বপ্নের প্রতিফলন। আব্বা আমাকে প্রায়ই বলতেন, একজন অসুস্থ মানুষকে দেখতে গেলে কত পুণ্য হয়। আর তুমি এমন একটা পেশায় আছ যেখানে তুমি এত এত অসুস্থ মানুষের চিকিৎসার সঙ্গে জড়িত। আমি হেসে বলতাম, ঠিক আছে আমি দোয়া করি যেন অর্ধেক সওয়াব আল্লাহ তোমাকে দেন আর বাকি অর্ধেক আমাকে। আব্বা মুচকি হাসি দিতেন। বাবার জন্য তেমন কিছু করতে পারিনি আমি, তবে আজকে আমার মন অনেক তৃপ্ত। আব্বার জন্য অন্তত একটু করতে পেরেছি। গত ২২ মে ২০২৬ তারিখে চলে গিয়েছিলাম আমার দাদা বাড়িতে। সঙ্গে ছিল ২ / ১টা যন্ত্রপাতি আর ছিল আমার শিক্ষকদের কাছে থেকে নেওয়া অভিজ্ঞতা। ব্যস, শুরু করলাম রোগী দেখা।’

এক শিশুকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করছেন।

ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প করার অনুভূতি তুলে ধরেন ডা. নাজমিন বলেন, ‘মানুষের এত এত দোয়া আর সম্মান পেয়েছি, আলহামদুলিল্লাহ। আজ কিছু সময়ের জন্য মনে হচ্ছিল আব্বা আমাদের চারপাশে ঘুরছেন আর দেখতে পাচ্ছেন ওনার মৃত্যুর পরও মানুষের মুখে উনি বেঁচে আছেন। গ্রামের মুরব্বিদের কাছ থেকে পাওয়া স্মারকটা শুধু লিখিত একটা দলিল নয় এটা আমার ভবিষ্যতের আরও ভালো ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা।

এলাকাবাসী ও গ্রামের মুরব্বিরা স্মারক উপহার তুলে দেন ডা. নাজমিনকে।

উল্লেখ্য যে, ওই দিন সকাল থেকে অনেক বৃষ্টি ছিল। বিদ্যুৎও ছিল না সব সময়। বৃষ্টির কারণে এক সঙ্গে রোগী আসেনি। একটু পর পর ৪-৫ জম করে আসছিল। তারপরও ৪০ জন রোগীকে বিনা মূল্যে চিকিৎসা সেবা দিতে পেরেছেন ডা. নাজমিন বগেম। সময় ও সুযোগ হলে আরও ক্যাম্প করার ইচ্ছা নিয়ে ওই দিনের মতো মেডিকেল ক্যাম্প সমাপ্ত করেন তিনি।

Read full story at source