সরকার পুরোনো পথেই হাঁটছে, বাজেট প্রতিক্রিয়ায় বাসদ
· Prothom Alo

প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে নতুন আশার কথা থাকলেও অর্থসংস্থানের ক্ষেত্রে সরকার পুরোনো পথেই হাঁটছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)। দলটি বলছে, বাজেটের অর্থ জোগাতে ধনীদের প্রত্যক্ষ কর বাড়ানোর পরিবর্তে সাধারণ মানুষের ওপর পরোক্ষ করের চাপই অব্যাহত থাকবে।
আজ বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ এ প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেটে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি ধরা হয়েছে। এই ঘাটতি পূরণে বৈদেশিক উৎস থেকে ১ লাখ ৯ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা, ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
Visit extonnews.click for more information.
বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, চলতি অর্থবছরে ঋণের সুদ পরিশোধে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা বাজেটের সবচেয়ে বড় ব্যয় খাত। তিনি বলেন, এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন ছিল; কিন্তু সরকার সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা না নিয়ে নতুন আশার বার্তা দিয়ে গতানুগতিক নীতিই অনুসরণ করেছে।
গত অর্থবছরে রাজস্ব আদায়, ঋণখেলাপিদের কাছ থেকে অর্থ উদ্ধার এবং মূল্যস্ফীতি ও ব্যাংক খাত নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতার সুনির্দিষ্ট মূল্যায়ন দাবি করেছেন বাসদ সাধারণ সম্পাদক। বাজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণসহ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতি রোধে সরকার চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিবৃতিতে বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দুর্নীতির চক্র ভাঙার পরিবর্তে গ্রাহকদের ওপর মূল্যবৃদ্ধির বোঝা চাপানো হয়েছে। এসব বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তব্যে পর্যাপ্ত প্রতিফলন নেই বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ, শ্রমিক ও কৃষকের আয় কাঙ্ক্ষিত হারে বাড়ছে না। এ অবস্থায় সরকারি হিসাব অনুযায়ী মাথাপিছু আয় ও মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বৃদ্ধির তথ্য জনগণের কাছে পুরোপুরি বিশ্বাসযোগ্য না–ও হতে পারে।
জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর আলোচনার সময় কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ জনকল্যাণসংশ্লিষ্ট খাতগুলো নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করে বাজেটের দুর্বলতা সংশোধনের আহ্বান জানান বাসদের এই নেতা।