বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের বিরুদ্ধে মামলায় কী কী অভিযোগ করেছেন স্ত্রী
· Prothom Alo

তামিল সিনেমার তারকা থেকে রাজনীতিতে এসে থালাপতি বিজয় এখন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী। তবে রাজনৈতিক সাফল্যের মধ্যেই তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। স্ত্রী সংগীতা স্বর্ণলিঙ্গমের করা বিবাহবিচ্ছেদের মামলা এখন নতুন করে আলোচনায়। আজ তামিলনাড়ুর একটি আদালতে ছিল মামলাটির শুনানি।
২৭ বছরের দাম্পত্য ভাঙনের পথে
১৯৯৯ সালে বিয়ে করেছিলেন বিজয় ও সংগীতা। দীর্ঘ ২৭ বছরের সংসারজীবনের পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিচ্ছেদের আবেদন করেন সংগীতা।
আবেদনে সংগীতা অভিযোগ করেন, বিজয় একজন নারী অভিনেত্রীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। তাঁর দাবি, ২০২১ সালে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন এবং স্বামীকে এ নিয়ে প্রশ্ন করলে বিজয় সম্পর্কটি শেষ করার আশ্বাস দিয়েছিলেন।
Visit betsport.cv for more information.
কিন্তু পরে সংগীতা দেখতে পান, সেই সম্পর্ক অব্যাহত রয়েছে। এমনকি সংশ্লিষ্ট অভিনেত্রীর সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও সফরেও অংশ নিয়েছেন বিজয়।
‘মানসিক নির্যাতনের’ অভিযোগ
আবেদনে সংগীতা আরও অভিযোগ করেন, ওই পরিস্থিতির কারণে তিনি ও তাঁদের দুই সন্তান—জেসন ও দিব্যা সাশা—বিভিন্নভাবে অপমান ও মানসিক কষ্টের শিকার হয়েছেন।
সংগীতার দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজয়ের সঙ্গে ওই অভিনেত্রীর বিভিন্ন ছবি প্রকাশিত হওয়ায় পরিবারকে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।
এ ছাড়া বিজয় সংগীতার জন্য আগে যেসব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করেছিলেন, সেগুলো প্রত্যাহার করে নেন বলেও অভিযোগ করেছেন সংগীতা। পাশাপাশি আর্থিক বিধিনিষেধ এবং চলাফেরার স্বাধীনতায় বাধা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে আবেদনে।
সংগীতার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনার ফলে তিনি দীর্ঘদিন ধরে তীব্র মানসিক আঘাত ও ট্রমার মধ্যে ছিলেন।
আদালতে কী হলো
বিচ্ছেদ মামলাটি প্রথমে গত ২০ এপ্রিল শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত ছিল। তবে সেদিন বিজয় ও সংগীতা—কেউই আদালতে হাজির না হওয়ায় পরিবার আদালত তাঁদের ১৫ জুন উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেন।
সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় মামলার শুনানি শুরু হলেও আদালত তা নিষ্পত্তি না করে আগামী ৭ আগস্ট পর্যন্ত মুলতবি করেন।
ফলে বহুল আলোচিত এ মামলার আইনি প্রক্রিয়া আরও অন্তত দুই মাস চলবে।
অনিশ্চয়তায় শেষ সিনেমা
রাজনীতিতে পুরোপুরি মনোযোগ দেওয়ার আগে বিজয়ের শেষ চলচ্চিত্র ‘জন নায়গন’ মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। তবে ছবিটি এখনো সেন্সর জটিলতায় আটকে আছে।
ভারতের সার্টিফিকেশন বোর্ডের কিছু আপত্তির কারণে ছবিটির ছাড়পত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। রাজনৈতিক বার্তা ও কিছু দৃশ্য নিয়ে আপত্তি ওঠায় মুক্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
এদিকে একদিকে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব, অন্যদিকে বহুল আলোচিত বিবাহবিচ্ছেদ মামলা—সব মিলিয়ে বিজয়ের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবন এখন তীব্র জন–আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে।
ইন্ডিয়া টুডে অবলম্বনে