আফ্রিকান ‘হাতি’দের সামনে নির্ভার জার্মানি
· Prothom Alo

দুই দল একবারই মুখোমুখি হয়েছে আন্তর্জাতিক ফুটবলে। ২০০৯ সালে গেলসেনকিরচেনে সেই প্রীতি ম্যাচটি ড্র হয় ২-২ গোলে।
জার্মানির জন্য অভিজ্ঞতাটা একটু অন্য রকম। সর্বশেষ দুই বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচেই হেরে গিয়েছিল চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। সেই চাপ এতটাই বড় হয়ে গেল, পরের দুই বিশ্বকাপে প্রথম রাউন্ডই উতরাতে পারল না জার্মানি।
Visit mwafrika.life for more information.
এবার সেই চাপ নেই, কুরাসাওকে প্রথম ম্যাচে ৭ গোলে উড়িয়ে দিয়ে এই জার্মানি অনেকটাই নির্ভার। ইউলিয়ান নাগেলসমানের দল আজ আইভরিকোস্টকে হারাতে পারলে এক পা দিয়ে রাখবে নকআউট পর্বেও।
প্রতিপক্ষ হিসেবে আইভরিকোস্ট বড় কোনো নাম নয়, তবে বিশ্বকাপের শুরুটা তাদেরও হয়েছে দারুণ। আমাদ দিয়ালোর শেষ সময়ের গোলে প্রায় সমশক্তির ইকুয়েডরকে হারিয়ে দেওয়া আফ্রিকান ‘হাতি’দের জন্য দারুণ একটা শুরুই।
আজ রাত ২টায় ম্যাচআজ জার্মানিকে হারিয়ে দিলে তারা বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো এক আসরে পাবে দুটি জয়। অবশ্য পরের পর্বে যাওয়ার জন্য ড্রটাও এই ম্যাচ থেকে বড় প্রাপ্তি হতে পারে আইভরিকোস্টের জন্য।
বিশ্বকাপে কখনো মুখোমুখি হয়নি এই দুই দল। ২০০৯ সালে শুধু একবার প্রীতি ম্যাচ খেলেছিল একে অন্যের বিপক্ষে, সেটি ড্র হয় ২-২ গোলে। এই বিশ্বকাপের আগে আরেকবার প্রীতি ম্যাচে খেলার কথা ছিল দুই দলের, কিন্তু একই গ্রুপে পড়ায় তা বাতিল করা হয়।
দুই দলের ফুটবলীয় দ্বৈরথ তেমন নেই, তবে একটা সংযোগ আছে। দিদিয়ের দ্রগবা, ইয়াইয়া তোরেদের দেশের এক তরুণকে নিয়ে আলোচনা হচ্ছে অনেক। ইকুয়েডরের বিপক্ষে ম্যাচসেরা হয়ে ১৯ বছর বয়সী ইয়ান দিওমান্দে জানান দিয়েছেন, জার্মানির জন্য তিনি হতে পারেন বিপজ্জনক।
আইভরিকোস্টের অনুশীলনে সেকো ফোফানা (বাঁয়ে) ও সাইমন আদিংরালাইপজিগের হয়ে ক্লাব ফুটবলটা দিওমান্দে খেলেন জার্মানিতেই। এই বয়সেই চলতি মৌসুমে বুন্দেসলিগায় করে ফেলেছেন ৩৩ ম্যাচে ১২ গোল ও ৮ অ্যাসিস্ট। হয়েছেন লিগের সেরা নবাগত ফুটবলার। জার্মানি ম্যাচের আগে অধিনায়ক ইয়োশুয়া কিমিখের কাছেও প্রশ্ন গিয়েছিল তাঁকে নিয়ে।
কিমিখ দিওমান্দের সঙ্গে সাবেক বায়ার্ন সতীর্থ ও ফ্রেঞ্চ ফরোয়ার্ড কিংসলে কোমানের মিল খুঁজে পাচ্ছেন অধিনায়ক, ‘এক বছর আগেও ওকে কেউ চিনত না। কিন্তু সে এই মৌসুমে দারুণ খেলেছে। তার ড্রিবলিং বেশ ভালো, অনেকটা কোমানের মতো। তবে দিওমান্দে ছাড়াও আইভরিকোস্টের আরও বিপজ্জনক খেলোয়াড় আছে।’
কিমিখ আর কারও নাম উল্লেখ করেননি, তবে আইভরিকোস্টের আরেক ফুটবলার বাজুমানা তুরেরও আছে বুন্দেসলিগার সঙ্গে সংযোগ। হফেনহাইমের হয়ে ক্লাব ফুটবল খেলেন, এই মৌসুমে করেছেন ৫ গোল ও ৯ অ্যাসিস্ট। তাঁর চেয়ে পুরো লিগেই বেশি গোল করিয়েছেন মাত্র দুজন। এই দুই ‘ঘরের শত্রু বিভীষণ’–এর দিকে নাগেলসমানকে আলাদা চোখ রাখতেই হচ্ছে।
জার্মানির জন্য আরেকটি বড় স্বস্তি প্রথম ম্যাচে দলের ছয়জনের গোল পাওয়া। এই ম্যাচে আরও একটা প্রাপ্তির হাতছানি আছে দলটার সামনে। আইভরিকোস্টকে হারালে সব প্রতিযোগিতা মিলে টানা ১০ ম্যাচ জিতবে জার্মানি। এর চেয়ে বেশি টানা ম্যাচ জিতেছিল তারা ১৯৭৯ থেকে ১৯৮০ সালের মধ্যে।
আইভরিকোস্ট কোচ এমার্স ফাইও জানেন, জার্মানিকে ঠেকানো কঠিন হবে, ‘আমরা জার্মান দেয়ালটা ভেঙে জয়ের চেষ্টা করব অবশ্যই। তবে আমরা জানি কাজটা কঠিন হবে।’
প্রথম ম্যাচে ইকুয়েডরের বিপক্ষে আইভরিকোস্ট যা করেছে, তাতে এই কঠিন কাজটাও তারা করে ফেললে অবশ্য অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।