২০২৬ সালের জনপ্রিয় কিছু বিজ্ঞান বই - ২

· Prothom Alo

বছরের অর্ধেক পেরিয়ে গেছে। এই ছয় মাসে বিজ্ঞানবিশ্বের নানা শাখায় প্রকাশিত হয়েছে চমৎকার সব বই। মহাবিশ্বের রহস্য থেকে মানুষের চেতনা; সবই উঠে এসেছে সহজ-সরল বর্ণনায়। বিজ্ঞান সাময়িকী নিউ সায়েন্টিস্ট-এর লিজ এলসের হাত ধরে ২০২৬ সালের এখন পর্যন্ত প্রকাশিত সেরা আরও ৪টি জনপ্রিয় বিজ্ঞান বইয়ের তালিকা নিচে তুলে ধরা হলো।

Visit h-doctor.club for more information.

আর্ট কিউর—ডেইজি ফ্যানকোর্ট

গান শোনা, ছবি আঁকা, নাটক দেখা, নাচ শেখা বা জাদু প্রদর্শনী—এসব কি সত্যিই মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারে? আর্ট কিউর বইয়ের মূল প্রশ্ন এটিই।

ডেইজি ফ্যানকোর্ট ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের সাইকোবায়োলজি ও এপিডেমিওলজির অধ্যাপক। বহু বছর ধরে তিনি শিল্পচর্চা ও স্বাস্থ্যের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা করছেন। এই বইয়ে তিনি শত শত বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফলাফল সহজ ভাষায় তুলে ধরেছেন।

বইটিতে দেখানো হয়েছে, সঙ্গীত, চিত্রকলা, নৃত্য, থিয়েটার, সৃজনশীল লেখা, এমনকি ম্যাজিক শোও মানুষের মস্তিষ্কে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এসব কার্যক্রম মানসিক চাপ কমাতে, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা হ্রাস করতে, দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা মোকাবিলায় সাহায্য করতে। উন্নত করতে স্মৃতিশক্তি। সামাজিক সংযোগ বাড়াতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

ফ্যানকোর্ট শুধু তত্ত্ব দেননি; তিনি হাসপাতাল, মানসিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, বৃদ্ধাশ্রম এবং পুনর্বাসন কেন্দ্রের বাস্তব উদাহরণও তুলে ধরেছেন। কোথায় শিল্পভিত্তিক চিকিৎসা সফল হয়েছে, কোথায় সীমাবদ্ধতা রয়েছে, উভয় দিকই তিনি আলোচনা করেছেন এই বইয়ে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, শিল্পচর্চা কোনো রোগের বিকল্প চিকিৎসা নয়। বরং প্রচলিত চিকিৎসার পাশাপাশি এটি একটি কার্যকর সহায়ক পদ্ধতি হতে পারে।

২০২৬ সালে প্রকাশিত জনপ্রিয় বিজ্ঞান বইগুলোর মধ্যে এটি স্বাস্থ্যবিজ্ঞান ও শিল্পকলাকে সবচেয়ে সুন্দরভাবে একসঙ্গে তুলে ধরেছে।

ডেইজি ফ্যানকোর্টের লেখা আর্ট কিউর বইয়ের প্রচ্ছদ

একনজরে

আর্ট কিউর

লেখক: ডেইজি ফ্যানকোর্ট

প্রকাশক: সেলাডন বুকস

পৃষ্ঠা: ৩২০

দাম: ২৮.৯৯ ডলার

প্রথম প্রকাশ: ৮ জানুয়ারি, ২০২৬

২০২৬ সালের জনপ্রিয় কিছু বিজ্ঞান বই

ড্যাড ব্রেইন—ডার্বি স্যাক্সবে

সন্তান জন্মের পর শুধু মায়ের শরীর ও মস্তিষ্কেই পরিবর্তন আসে, এমন ধারণা বহুদিন ধরে প্রচলিত ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, বাবাদের মস্তিষ্কেও বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে। সেই পরিবর্তনের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নিয়েই ড্যাড ব্রেইন।

ডার্বি স্যাক্সবে ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার ক্লিনিক্যাল মনোবিজ্ঞানী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাবাদের মস্তিষ্ক, হরমোন ও আচরণ নিয়ে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা পরিচালনা করছেন।

বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে, সন্তান জন্মের পর অনেক বাবার টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে যায়। এতে তারা শিশুর প্রতি আরও যত্নশীল ও সংবেদনশীল হয়ে ওঠেন। একই সঙ্গে অনেক বাবা প্রসব-পরবর্তী বিষণ্নতা, উদ্বেগ, মানসিক চাপ এবং জন্ম-সংক্রান্ত ট্রমার মধ্য দিয়েও যেতে পারেন। যদিও এসব বিষয়ে খুব কম আলোচনা হয়।

স্যাক্সবে আরও দেখিয়েছেন, যারা সন্তানের লালন-পালনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন, তারা সাধারণভাবে বেশি সুখী হন এবং সন্তানদের সঙ্গেও তাদের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়।

বইটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হলো, পিতৃত্ব কেবল জন্মগত প্রবৃত্তি নয়; এটি শেখারও একটি প্রক্রিয়া। অর্থাৎ, একজন ভালো বাবা হয়ে ওঠা সময়, অভিজ্ঞতা ও অনুশীলনের মাধ্যমে গড়ে ওঠে। বাবাদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আগ্রহী পাঠকদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বই।

ডার্বি স্যাক্সবের লেখা ড্যাড ব্রেইন বইয়ের প্রচ্ছদ

একনজরে

ড্যাড ব্রেইন

লেখক: ডার্বি স্যাক্সবে

প্রকাশক: ফ্লাটিরন বুকস

পৃষ্ঠা: ৩০৪

দাম: ২৯.৯৯ ডলার

প্রথম প্রকাশ: ১১ জুন, ২০২৬

জুন মাসের জনপ্রিয় ১৩ সায়েন্স ফিকশন বই

এন্ট্যাঙ্গলড স্টেটস—কারমেলা পাডাভিচ-কালাহান

কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে লেখা বই সাধারণত সমীকরণ ও জটিল তত্ত্বে ভরা থাকে। কিন্তু এন্ট্যাঙ্গলড স্টেটস একেবারে অন্য ধরনের বই। এখানে লেখক নিজের জীবনের গল্পের সঙ্গে কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানের ধারণাগুলোকে মিলিয়ে দেখিয়েছেন।

কারমেলা পাডাভিচ-কালাহান একজন পদার্থবিজ্ঞানী এবং বিজ্ঞান সাংবাদিক। ক্রোয়েশিয়ায় জন্ম নেওয়া এই বিজ্ঞানী মাত্র ১৬ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যান। পরে পদার্থবিজ্ঞানে পিএইচডি করেন। বইটিতে তিনি নিজের জীবনের নানা বাঁক—দেশ পরিবর্তন, পরিচয় সংকট, বিজ্ঞানী হয়ে ওঠা, পরিবার ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার সঙ্গে কোয়ান্টাম তত্ত্বের সম্পর্ক খুঁজেছেন।

বইটিতে কোয়ান্টাম সুপারপজিশন, এন্ট্যাঙ্গলমেন্ট, সম্ভাবনা, অনিশ্চয়তা, পরিমাপের সমস্যা এবং বাস্তবতার প্রকৃতি নিয়ে সহজ ভাষায় আলোচনা করা হয়েছে। তবে এটি কেবল বিজ্ঞান শেখানোর বই নয়, বরং বিজ্ঞান কীভাবে মানুষের জীবন বোঝার একটি ভাষা হতে পারে, সেটিই দেখানোর চেষ্টা করেছেন লেখক।

যারা জনপ্রিয় বিজ্ঞান এবং ব্যক্তিগত স্মৃতিকথার মিশ্রণ পড়তে ভালোবাসেন, তাদের জন্য এটি একটি ভিন্নধর্মী বই।

কারমেলা পাডাভিচ-কালাহানের লেখা এন্ট্যাঙ্গলড স্টেটস বইয়ের প্রচ্ছদ

একনজরে

এন্ট্যাঙ্গলড স্টেটস

লেখক: কারমেলা পাডাভিচ-কালাহান

প্রকাশক: বেকন প্রেস

পৃষ্ঠা: ২৮৪

দাম: ২৮.৯৫ ডলার

প্রথম প্রকাশ: ১৯ মে, ২০২৬

মে মাসের জনপ্রিয় ১২ সায়েন্স ফিকশন বই

দ্য স্টোরি অব বার্ডস—স্টিভ ব্রুসাটে

পৃথিবীতে প্রায় ১১ হাজারের বেশি প্রজাতির পাখি রয়েছে। কিন্তু এদের ইতিহাস শুরু হয়েছিল ডাইনোসরের যুগে। এই বিস্ময়কর কাহিনিই তুলে ধরা হয়েছে এই বইয়ে।

লেখক স্টিভ ব্রুসাটে একজন বিখ্যাত জীবাশ্মবিদ। তিনি দেখিয়েছেন, সব ডাইনোসর বিলুপ্ত হয়ে যায়নি। প্রায় ৬ কোটি ৬০ লাখ বছর আগে গ্রহাণুর আঘাতে বেশিরভাগ ডাইনোসর মারা গেলেও একদল পালকওয়ালা ছোট ডাইনোসর টিকে যায়। তারাই ধীরে ধীরে আজকের পাখিতে পরিণত হয়েছে।

বইটিতে জীবাশ্মের নতুন আবিষ্কার, পালকের বিবর্তন, উড়ার ক্ষমতা কীভাবে তৈরি হলো, আধুনিক পাখির উৎপত্তি এবং পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের বিস্তার নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে জিল্যান্ডিয়া নামে ডুবে থাকা মহাদেশের কথা। লেখকের মতে, এই অঞ্চলে দীর্ঘ সময় ধরে প্রাচীন পাখি ও ডাইনোসরের উত্তরসূরিদের বিবর্তন ঘটেছে। ভবিষ্যতে এখান থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ জীবাশ্ম আবিষ্কারের সম্ভাবনাও রয়েছে।

ডাইনোসর ও পাখির সম্পর্ক জানতে চাইলে এটি অন্যতম সেরা জনপ্রিয় বিজ্ঞান বই হতে পারে।

স্টিভ ব্রুসাটের লেখা দ্য স্টোরি অব বার্ডস বইয়ের প্রচ্ছদ

একনজরে

দ্য স্টোরি অব বার্ডস

লেখক: মেরিনার বুকস

প্রকাশক: বেকন প্রেস

পৃষ্ঠা: ৪৪৮

দাম: ৩৫ ডলার

প্রথম প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল, ২০২৬

বই পড়ার অভ্যাস আবার ফিরিয়ে আনবেন যেভাবে

Read full story at source