এবারও ফেবারিট ইন্টার, লড়াইয়ে থাকবে নাপোলি-মিলান-জুভেন্টাসও

· Prothom Alo

বিশ্বকাপ ট্রফির রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও চেনা উত্তাপে ফিরছে ইউরোপের ক্লাব ফুটবল। ২০২৬-২৭ মৌসুম শুরুর আগে কী পরিবর্তন এসেছে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে? ইংল্যান্ড, স্পেন, ইতালি, জার্মানি ও ফ্রান্সের শীর্ষ লিগে কারা এবার শিরোপার দাবিদার? কোথাও একক রাজত্ব ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ, কোথাও আবার সিংহাসন পুনর্দখলের লড়াই। আগস্টের মাঝামাঝি থেকে আগামী বছরের মে মাস পর্যন্ত হতে যাওয়া নতুন এই মৌসুমে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগ নিয়ে পাঁচ পর্বের ধারাবাহিক আয়োজন। আজ থাকছে ইতালিয়ান সিরি আ-র অন্দরমহলের কথা।

চ্যাম্পিয়নস লিগে সর্বশেষ মৌসুমটা ছিল ইতালির ক্লাবগুলোর জন্য বেশ হতাশার। শেষ ষোলোর বাধা পেরোতে পারেনি কোনো দলই। নাপোলি বিদায় নেয় লিগ পর্ব থেকেই। নরওয়ের ক্লাব বোডো/গ্লিমটের কাছে ইন্টার মিলানের হারটা তো ছিল মৌসুমের সবচেয়ে বড় অঘটনের একটা। আতালান্তা নকআউট পর্বের প্রথম ধাপ পার হলেও শেষ ষোলোতে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে দুই লেগে ১০ গোল হজম করে বিদায় নেয়।

Visit afnews.co.za for more information.

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ইতালি জাতীয় দলের টানা বিশ্বকাপে না খেলতে পারার আক্ষেপ। সব মিলিয়ে দেশটির ফুটবলের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে জোরেশোরে। ইতালির ফুটবলের সেই সোনালি দিন কি আর কখনো দেখা যাবে? এই প্রশ্ন সামনে রেখেই ২২ আগস্ট শনিবার পর্দা উঠতে যাচ্ছে সিরি আ-র ২০২৬-২৭ মৌসুমের।

পিএসজিকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো আসলেই কি কোনো দল আছে ফ্রান্সে

খেলার মান যেমনই হোক, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সিরি আ-তে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেড়েছে। সর্বশেষ পাঁচ মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তিনটি ভিন্ন দল। লিগের সামগ্রিক মান নিয়ে বিতর্ক থাকলেও পয়েন্ট তালিকার লড়াইয়ে রোমাঞ্চের কমতি নেই। তবে নতুন মৌসুমে শিরোপা ধরে রাখার দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইন্টার মিলান।


সিমোন ইনজাগির রেখে যাওয়া শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে দলকে এগিয়ে নিচ্ছেন কোচ ক্রিস্তিয়ান কিভু। দ্রুত পাল্টা আক্রমণে এখনো ধারালো ইন্টার। নিজেদের সেরা দিনে যেকোনো প্রতিপক্ষকে হারানোর সামর্থ্য আছে তাদের। তবে সর্বশেষ মৌসুমে মাঝেমধ্যে ক্লান্তি ভর করেছে দলে। স্কোয়াডের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ৩০ পেরিয়ে গেছেন। হাকান চালহানোলু, হেনরিখ মেখিতারিয়ান ও পিওত্র জিয়েলিনস্কিদের গতি কমেছে। তবু দলবদলে এখন পর্যন্ত গড় বয়স কমানোর উদ্যোগ খুব একটা নেয়নি ইন্টার।

এর মধ্যে সান সিরো ছেড়েছেন ডেনজেল ডামফ্রিস, স্টেফান দে ভ্রি, ফ্রান্সেসকো আচেরবি, মাত্তেও দারমিয়ান ও ইয়ান সোমার। নতুন মুখ হিসেবে যোগ দিয়েছেন ২১ বছর বয়সী মিডফিল্ডার আলেকসান্দার স্তানকোভিচ। তবে সবচেয়ে বড় সংযোজন ম্যানচেস্টার সিটি থেকে থেকে আসা ইংলিশ ডিফেন্ডার জন স্টোনস। ৩২ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডারের অভিজ্ঞতায় ইন্টারের রক্ষণদেয়াল আরও শক্ত হবে বলেই প্রত্যাশা।


শিরোপার লড়াইয়ে ইন্টারের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারে নাপোলি। পাঁচ মৌসুমে তৃতীয়বারের মতো লিগ জয়ের সুযোগ তাদের সামনে। নতুন মৌসুমে কোচ হিসেবে আনা হয়েছে মাক্স আলেগ্রিকে। সিদ্ধান্তটা অনেককেই অবাক করেছে। কারণ, গত মৌসুমে এসি মিলানের কোচ হিসেবে তিনি প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। দলবদলে নাপোলি এখন পর্যন্ত খুব সক্রিয় নয়। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে ধারে খেলা রাসমুস হইলুন্দকে স্থায়ীভাবে দলে নিয়েছে তারা। চোট কাটিয়ে কেভিন ডি ব্রুইনার ফেরা অবশ্য বড় স্বস্তি। তবে ট্রান্সফার উইন্ডো বন্ধ হওয়ার আগে নিশ্চয়ই আরও খেলোয়াড় চাইবেন আলেগ্রি।

এসি মিলানে নতুন কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন রুবেন আমোরিম। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ব্যর্থতার পর এটি তাঁর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ। পিএসজি থেকে ৭ কোটি ৪০ লাখ ইউরোর ক্লাব রেকর্ড ফিতে গনসালো রামোসকে দলে ভিড়িয়ে বড় বার্তা দিয়েছে রোজোনেরিরা। গত মৌসুমে ৩৮ ম্যাচে মাত্র ৫৩ গোল করেছিল এসি মিলান। রামোস কি পারবেন আক্রমণভাগের সেই দুর্বলতা কাটাতে?

ইন্টার মিলান লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ২১ বার।


জুভেন্টাসও থাকবে শিরোপার দৌড়ে। কোচ লুচিয়ানো স্পাল্লেত্তির এটি প্রথম পূর্ণ মৌসুম হতে যাচ্ছে। আগের মৌসুমে তাঁর কৌশলের কিছুটা ছাপ দেখা গেছে। শীর্ষ চারে না থাকায় এবার ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার চাপ নেই জুভেন্টাস ও এসি মিলানের ওপর। অন্যদিকে ইউরোপ ও লিগ মিলিয়ে ব্যস্ত সূচি সামলাতে গিয়ে স্কোয়াডের গভীরতা নিয়ে সমস্যায় পড়তে পারে কোমো ও রোমা।


তবে কোমোর সাম্প্রতিক উত্থানের কারণে তাদের ওপর আলাদা করে নজর রাখতেই হবে। কোচ সেস্ক ফ্যাব্রেগাসকে ধরে রাখতে পেরেছে তারা। রিয়াল মাদ্রিদ থেকে নিকো পাজকে স্থায়ীভাবে দলে নেওয়ার পর আলভারো মোরাতার যোগে শক্তি বেড়েছে আক্রমণে। এবার শিরোপার লড়াইয়ে ডার্ক হর্স হতে পারে কোমো।

সাবেক চেলসি তারকা সেস্ক ফ্যাব্রেগাস এখন কোমোর কোচ


রোমা, আতালান্তা, লাৎসিও, বোলোনিয়া ও ফিওরেন্তিনা মূলত ইউরোপীয় টুর্নামেন্টে জায়গা পাওয়ার লড়াইয়ে থাকবে। তাদের লিগ জেতার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।
সব মিলিয়ে নতুন মৌসুম শুরুর আগে হিসাব-নিকাশে এগিয়ে ইন্টার মিলানই। গ্রীষ্মকালীন দলবদলে কিভুর দল হয়তো কিছুটা নিষ্ক্রিয় ছিল, তবু তাদের টপকে অন্য কারও চ্যাম্পিয়ন হওয়াটা এখনো বেশ কঠিনই দেখাচ্ছে।

Read full story at source