‘হিঙের কচুরি’তে জাতভেদের ঊর্ধ্বে মানবিকতার পাঠ

· Prothom Alo

খাবার কখনো শুধু স্বাদের বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে স্মৃতি, শৈশব, সামাজিক পরিচয় ও মানুষের সম্পর্ক। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘হিঙের কচুরি’ গল্পে খাবারের এমন এক পরিচিত অনুষঙ্গের মধ্য দিয়ে উঠে এসেছে মানুষের মন, সামাজিক শ্রেণি-বিভেদ এবং মানবিকতার গভীর দিক। বিশেষ করে একটি শিশুর নিষ্পাপ দৃষ্টিভঙ্গি কীভাবে সমাজের প্রচলিত ভেদাভেদকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়, সেই বিষয়গুলো উঠে এসেছে গল্পটিতে।

Visit bettingx.club for more information.

১৭ আগস্ট বিকেলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার সাপ্তাহিক পাঠচক্রে আলোচনা করা হয় বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘হিঙের কচুরি’ গল্প। বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির ১০ নম্বর কক্ষে এই পাঠচক্র অনুষ্ঠিত হয়। আলোচক হিসেবে ছিলেন স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া সম্পাদক হাসানুজ্জামান হাসান।

পাঠ আলোচনায় বলা হয়, ‘হিঙের কচুরি’ মূলত একটি শিশুকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা গল্প। আট বছর বয়সী একটি বালকের স্মৃতির মধ্য দিয়ে মানুষের জীবন, বয়সের পরিবর্তন এবং সমাজের প্রচলিত শ্রেণি ও জাতভেদের বাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র কুসুমের জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের পরিবর্তনও এতে ফুটে উঠেছে। একই মানুষকে বয়স ও পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সমাজ কীভাবে ভিন্নভাবে দেখে, গল্পের মধ্য দিয়ে সেই বাস্তবতা সামনে আসে।

শিশুচরিত্রটির সরল ও নিষ্পাপ দৃষ্টিভঙ্গি আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায়। সমাজে প্রচলিত জাতভেদ ও শ্রেণিবিভাজন যেখানে অনেকের কাছে স্বাভাবিক, শিশুটির কাছে সেখানে মানুষের পরিচয়ই মুখ্য হয়ে ওঠে। তার চোখে মানুষের মধ্যে তৈরি করা ভেদাভেদ যেন গুরুত্ব হারায়।
আলোচক হাসানুজ্জামান হাসান বলেন, ‘সমাজের মানুষের মধ্যে কোনো জাতভেদ থাকা উচিত নয়। সবাইকে সমান চোখে দেখা উচিত।’

পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক মারিয়া মুরাদ গল্পের নারী চরিত্র কুসুমের জীবন ও বয়সভেদে তার সামাজিক অবস্থানের পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘কুসুম যুবতী বয়সে একধরনের পেশায় যুক্ত থাকলেও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর জীবনের বাস্তবতা ও পেশাগত অবস্থান বদলে যায়। গল্পের এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সমাজে নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি এবং জীবনের কঠিন বাস্তবতার একটি চিত্র পাওয়া যায়।’

পাঠচক্রে অংশগ্রহণকারীরা গল্পের চরিত্র, সামাজিক শ্রেণিবিভাজন, মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং শিশুমনের সরলতা নিয়ে নিজেদের পাঠ-অনুভূতি ও মতামত তুলে ধরেন। একই গল্পকে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার সুযোগ তৈরি হওয়ায় আলোচনায় উঠে আসে নানা পাঠপ্রতিক্রিয়া।

আলোচনা শেষে সভাপতি সৈয়দ সালমান হাসান বলেন, ‘আমাদের উচিত মানুষকে তার কাজ দিয়ে বিবেচনা না করা, এবং সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখা ও তাদের খোঁজ রাখা। এতেই একটি সুন্দর ও সুশীল সমাজ গঠন সম্ভব।’

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক অনুপ সরকার, প্রচার সম্পাদক অরুণিমা পাল, অর্থ সম্পাদক পারভেজ মোশাররফ, সাংগঠনিক সম্পাদক সিফাত আরেফিন, বন্ধু নুজহাত ঐশী, হৃদ্ধিত রনিতা, আল শাহরিয়ার মাহিসহ সংগঠনের সদস্যরা।

আনুষ্ঠানিক আলোচনা শেষ হওয়ার পরও টিএসসির ১০ নম্বর কক্ষের পরিবেশ ছিল প্রাণবন্ত। বন্ধু অরুণিমা পাল ও হাসানুজ্জামানের গানের মধ্য দিয়ে শেষ হয় পাঠচক্রের আয়োজন।

পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক, জাবি বন্ধুসভা

Read full story at source