স্ত্রীকে ‘কালোজাদু’ করার অভিযোগ, শ্বশুরকে কুপিয়ে হত্যার পর থানায় জামাতার আত্মসমর্পণ
· Prothom Alo
‘স্যার, আমি মোজাম্মেল। আমার বউকে কালোজাদু করছে আমার শ্বশুর। এ কারণে আমার বউ আমাকে ছেড়ে চলে গেছে। বউয়ের সঙ্গে কথাও বলতে দিত না শ্বশুর। এ রাগেই তাঁকে কুপিয়ে মেরে ফেলেছি।’
Visit asg-reflektory.pl for more information.
গাজীপুরের কালীগঞ্জে গতকাল শুক্রবার বিকেলে শ্বশুর মজিদ মোড়লকে (৭০) কুপিয়ে হত্যার পর আজ শনিবার সকালে কালীগঞ্জ থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে এভাবেই হত্যার কথা স্বীকার করেন মোজাম্মেল হক ওরফে মুজা সরকার (৩৫)।
মজিদ মোড়ল উপজেলার জামালপুর এলাকার বাসিন্দা ও পেশায় কলা ব্যবসায়ী ছিলেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বিকেলে বাড়ি থেকে উপজেলার জামালপুর বাজারের উদ্দেশে বের হন মজিদ। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বাজারের ভাঙারিপট্টির একটি গলিতে মাথায় কলার ছড়া নিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। এ সময় পেছন থেকে ধারালো কুড়াল দিয়ে তাঁর মাথায় কোপ দেন মোজাম্মেল। গুরুতর আহত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন মজিদ। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় গতকাল রাতেই নিহত ব্যক্তির ছেলে মো. লিটন মোড়ল (২৬) বাদী হয়ে মোজাম্মেলকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা করেন।
নিহত মজিদের প্রতিবেশী সূত্রে জানা গেছে, প্রায় আট বছর আগে মজিদের মেয়ে শাহানারার (২৮) সঙ্গে মোজাম্মেলের বিয়ে হয়। তাঁদের এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে।
নিহত মজিদের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই মোজাম্মেল স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। শ্বশুরবাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্যও তিনি চাপ দিতেন। কলা বিক্রি করে সংসার চালানো মজিদের পক্ষে জামাতার চাহিদামতো টাকা সব সময় দেওয়া সম্ভব হতো না। এ নিয়ে প্রায়ই শাহানারাকে মারধর করা হতো। প্রায় ১৫ দিন আগে তাঁকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন মোজাম্মেল। এর পর থেকে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন তিনি। স্বামীর সংসারে আর ফিরবেন না বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, মোজাম্মেল দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। পারিবারিক বিরোধের জেরেই শ্বশুরের ওপর তাঁর ক্ষোভ তৈরি হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পর মোজাম্মেল আত্মগোপনে ছিলেন। আজ সকাল ১০টার দিকে তিনি নিজেই কালীগঞ্জ থানায় হাজির হয়ে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করেন। পরে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, অভিযুক্ত মোজাম্মেল থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেছেন। তিনি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।