জেল থেকে জামিন না করানোয় ক্ষোভ, ঘুমন্ত বাবাকে কুপিয়ে হত্যা করলেন ছেলে

· Prothom Alo

একটি হত্যা মামলায় প্রায় ১০ বছর জেল খেটে ছয় মাস আগে জামিনে বাড়ি ফিরেছিলেন শাকিল চৌধুরী। তাঁকে জামিনে ছাড়াতে পরিবারের পক্ষ থেকে চেষ্টা না করায় পরিবারের ওপর ক্ষোভ ছিল তাঁর। এর জের ধরে নরসিংদীর শিবপুরে ঘুমন্ত বাবাকে ছুরিকাঘাত ও কুপিয়ে হত্যা করলেন শাকিল। গাজীপুরের পুবাইল থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

হত্যার ঘটনাটি ঘটে গতকাল শুক্রবার ভোরের দিকে, নরসিংদীর শিবপুর উপজেলা পুটিয়া ইউনিয়নে ভরতেরকান্দি গ্রামে। শাকিলকে গাজীপুরের পুবাইল থানা এলাকার হায়দরাবাদ থেকে শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

Visit chickenroad.qpon for more information.

নিহত ব্যক্তির নাম আব্দুল বাছেদ মিয়া (৬০)। তিনি নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার পুটিয়া ইউনিয়নের ভরতেরকান্দি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন, পেশা ছিল কবিরাজি ওষুধ বিক্রি। এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির ছোট ছেলে নূর নবী রাশেদ বাদী হয়ে শাকিল চৌধুরীকে আসামি করে শিবপুর মডেল থানায় মামলা করেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, গাজীপুরের টঙ্গী থানার এক হত্যা মামলায় প্রায় ১০ বছর জেল খেটে ছয় মাস আগে জামিনে বের হয়ে বাড়িতে আসেন শাকিল। তাঁকে জামিনে বের করার কোনো চেষ্টা না করায় বাবার প্রতি ক্ষোভ ছিল তাঁর। এ নিয়ে প্রায়ই কথা–কাটাকাটি হতো। বাড়িতে আসার পর থেকে বাবার সঙ্গেই ঘুমাতেন শাকিল। শুক্রবার ভোরে ঘুমন্ত অবস্থাতেই বাবার পেটে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করেন শাকিল। ওই সময় বাবা চিৎকার করলে ঘরে থাকা কুড়াল ও বঁটি দিয়েও আঘাত করে হত্যা করেন শাকিল।

এ সময় মা সখিনা বেগম এগিয়ে এলে তাঁকেও ছুরিকাঘাত এবং মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যান শাকিল। আঘাত করা হয় ভাই নূর নবীকেও। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাঁদের হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে খবর পেয়ে শিবপুর থানার উপপরিদর্শক কামরুল ইসলাম ওই বাড়ি থেকে আব্দুল বাছেদ মিয়ার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠান।

এ ঘটনায় শনিবার বিকেলে শিবপুর থানায় সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত তুলে ধরেন নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আশিকুর রহমান। তিনি জানান, শাকিল গাজীপুরের পুবাইলের হায়দরাবাদ গ্রামে অবস্থান করছিলেন। গতকাল রাত সাড়ে তিনটার দিকে ওই এলাকার একটি বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

Read full story at source