বড় হয়ে ডাক্তার আর অভিনেত্রী দুটোই হতে চায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর নিতু!

· Prothom Alo

এ বছরের হিট সিনেমা ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। তানিম নূর পরিচালিত জমজমাট এই সিনেমায় ‘নিতু’ চরিত্রে অভিনয় করে সবার নজর কেড়েছে ছোট্ট মান। মা শর্মি সেনগুপ্তা ও বাবা বিপ্লব পালের আদরের মেয়ে ত্রিধা পাল মান। ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এ চঞ্চল চৌধুরী, সাবিলা নূরসহ অসংখ্য দাপুটে অভিনয়শিল্পীদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সাবলীল অভিনয় করেছে চট্টগ্রামের মেয়ে মান। মিষ্টি হাসির এই খুদে তারকা এবার হাজির হয়েছিল কিশোর আলোর ১১১তম কিআড্ডায়! শুনিয়েছে তার অভিনয় শুরুর গল্প, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা আর দৈনন্দিন জীবনের নানা কথা। বড় হয়ে ডাক্তার আর অভিনেত্রী দুটোই হতে চায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর নিতু! সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আমাতুননূর বুশরা

Visit rouesnews.click for more information.

আজকে কিশোর আলোর কিআড্ডায় এসে তোমার কেমন লাগছে?

ত্রিধা পাল মান: অনেক ভালো লাগছে। অনেক নতুন বন্ধুর সঙ্গে আমি আজ পরিচিত হতে পেরেছি, তার জন্য আরও বেশি ভালো লাগছে।

সুযোগ পেলে ভারতের সঙ্গে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচটা আবার খেলতে চাই — মুশফিকুর রহিম

তুমি কোন ক্লাসে পড়ো?

ত্রিধা পাল মান: আমি ক্লাস থ্রিতে পড়ছি।

তোমার অভিনয়ের শুরু কীভাবে হলো?

ত্রিধা পাল মান: শুরুটা হয়েছিল অনেক সুন্দরভাবে। আমি যখন কথা বলতে শিখেছিলাম, তখন থেকেই মা-বাবা আমাকে অনেক কিছু অভিনয় করে দেখাতেন। যেমন ধরো, গরিব মানুষেরা কীভাবে থাকে, তাদের জীবন ইত্যাদি আরও অনেক কিছুই দেখাতেন। আমি একটু বড় হওয়ার পর আমাকে নাচ, গান, অভিনয়, আবৃত্তি এসবে ভর্তি করানো হয়। তো এগুলোর মাধ্যমে আমি আরও অনেক কিছু শিখতে পেরেছি।

‘তোদের দিয়ে মেডিকেল পড়া হবে না, গানবাজনা কর’

তোমার সিনেমার জন্য অডিশন দেওয়ার কোনো গল্প মনে আছে?

ত্রিধা পাল মান: একবার আমি একটা অডিশন পেয়েছিলাম, সেখানে আমি যে অভিনয়টা করেছিলাম, সেটা হচ্ছে একটা টোকাইয়ের অভিনয়। অডিশনের দিন আমি খুব কনফিউজড ছিলাম, পারব কি পারব না! কিন্তু মা-বাবা এবং আত্মীয়স্বজন সবাই অনেক সাহস দিলেন যে ‘তুমি পারবে’। ওখানে শেষে আমি যে কান্নার অভিনয় করেছিলাম, এটার পুরো অবদানই আমার মায়ের। মা আমাকে কোনো বকাঝকা ছাড়াই অরিজিনাল কান্না করা শিখিয়েছেন এবং অভিনয়ের বিষয়টা মাথায় ঢুকিয়ে দিয়েছেন।

তুমি তো ঢাকার বাইরের এক শহরে থাকো, ঢাকার এই অডিশনের জন্য ওরা তোমাকে খুঁজে পেল কীভাবে?

ত্রিধা পাল মান: ফেসবুকে যখন বিজ্ঞপ্তি আসে যে একজন শিশুশিল্পী লাগবে, তখন আমার মা সেটা দেখেন। তারপর অডিশন দেওয়ার মাধ্যমেই আমি সুযোগ পাই।

তুমি কি কোনো স্কুলে অভিনয় শিখেছ?

ত্রিধা পাল মান: আমি এখন ‘স্কাইওয়াচ’ দলের সঙ্গে আছি, ওখানে আমরা মঞ্চনাটক করি। অভিনয় আমার মায়ের কাছ থেকেই সবচেয়ে বেশি শেখা। মা আগে ‘নান্দীকার’-এ ছিলেন। আমি সেখানে যাইনি বটে, কিন্তু মায়ের কাছে অনেক গল্প শুনেছি।

‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এ তোমার চরিত্রটার নাম কী ছিল?

ত্রিধা পাল মান: নিতু। আমার এমনিতে আরও অনেক নাম আছে। যেমন কিছুদিন আগে একটা নাম রাখা হয়েছিল ‘প্রাপ্তি’, কিন্তু আসল নাম মান।

‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এ কাজ করার আগে মানুষ তোমাকে একভাবে চিনত, এখন নতুনভাবে চেনে। এই অনুভূতি কেমন?

ত্রিধা পাল মান: অবশ্যই খুব ভালো লাগে! ভালো কেন লাগবে না! এত এত ভালোবাসা। তবে তখনই বেশি ভালো লাগবে, যখন তোমরাও আমাকে অনেক বেশি ভালোবাসবে। আশা করছি এখন আমার আসল পরিচয়টা যেহেতু জেনে গেছ, তাই আরও বেশি করে ভালোবাসবে।

‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এ কার অভিনয় তোমার সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে?

ত্রিধা পাল মান: সত্যি কথা বলতে, মোশাররফ আঙ্কেলের (মোশাররফ করিম) অভিনয় সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে। উনি ডায়লগ কোনোভাবে মুখস্থ না করেই শুধু একবার পড়ে মনে রেখে দিতেন!

জনপ্রিয় সব অভিনয়শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করেছ, তাঁদের সঙ্গে তোমার পরিচয় কেমন?

ত্রিধা পাল মান: আমি তাঁদের সঙ্গে দারুণ সময় কাটিয়েছি। সবাই আমাদের সঙ্গে ভীষণ ফ্রেন্ডলি ছিলেন, তাই কাজ করে খুব ভালো লেগেছে।

শুটিংয়ের কোনো মজার ঘটনা মনে পড়ে?

ত্রিধা পাল মান: হ্যাঁ, বলতে পারি। বিশেষ করে আমি ‘বেসুরা’ ওয়েব সিরিজের কথা বলব। ওখানে সব জায়গায় অনেক কাদা আর পিচ্ছিল ছিল, সবাই ওখান থেকে বারবার পড়ে যাচ্ছিল। দ্বিতীয় কথা, ওখানে এত বড় বড় গর্ত ছিল যে কোথায় পা রাখছি তার ঠিক ছিল না। আমরা অনেকেই ব্যথা পেয়েছি। আর ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এ প্রায় সব ক্যারেক্টার যখন একসঙ্গে ছিল, তখন মোশাররফ আঙ্কেল একটা ডায়লগ দিয়েছিলেন, ‘তুমি তো ৬৯-কে ৯৬ বানিয়ে দিয়েছ!’ এই ডায়লগটা আমার এখনো মনে আছে।

পাখির ভাষা বোঝেন যিনি

‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এ অনেক ইমোশনাল সিন আছে, ওগুলো করতে কি কষ্ট হয়েছে বা কোনো প্রেশার ছিল?

ত্রিধা পাল মান: না, প্রেশার একদম পাইনি। কিছু সিনে একটু কান্না পেয়েছে, কিন্তু ওটার মধ্যে কোনো প্রেশার ছিল না। আমি অনেক আনন্দের সঙ্গে করতে পেরেছি; কারণ, এটার মধ্যে সবই মজার মজার সিন।

শুটিংয়ের সময় ট্রেনটা কি সত্যি সত্যি চলছিল?

ত্রিধা পাল মান: কিছু সময় সত্যি চলেছে। যখন ট্রেনটা বাইরে থেকে দেখা যাচ্ছে চলছে, তখন এটা সত্যিকারের ট্রেন। কিন্তু যখন ভেতরের দৃশ্যগুলো দেখাচ্ছে, ওটা একটা বানানো স্থির জায়গা। এফডিসির ভেতরে কাঠ দিয়ে বানানো একটা ট্রেনের সেট।

‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর শুট কত দিন হয়েছিল? আর কে সবচেয়ে বেশি সাপোর্ট করেছিল?

ত্রিধা পাল মান: ১৬ বা ১৭ দিনের মতো। তখন আমার স্কুলের বন্ধুরা এই শুটিংয়ের কথা জানত না। তবে পরিবারের বাইরে যাঁরা সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করেছিলেন, তাঁরা হলেন আমার কাকু, কাকিমা। আমরা যেহেতু ঢাকার বাইরে থাকি, উনারা সাপোর্ট দিয়েছিলেন বলেই আমি খুব স্মুথলি শুটিং শেষ করতে পেরেছি।

‘অনুভূতি হয়ে উঠুক লেভেল ফাইভ’

সিনেমাটির এন্ডিং কি তোমার পছন্দ হয়েছে? প্রিমিয়ার কোথায় দেখেছ?

ত্রিধা পাল মান: হ্যাঁ, ভালো লেগেছে। তবে ঢাকায় এসে মুভিটা দেখতে হয়েছে বলে দেখতে আমার অনেক লেট হয়ে গিয়েছিল। অনেক দিন পর ঢাকায় এসে যখন দেখেছি, তখন আমার ভীষণ ভালো লেগেছে।

‘বনলতা এক্সপ্রেস’ রিলিজ হওয়ার পর তোমার স্কুলের টিচার ও বন্ধুদের রিঅ্যাকশন কেমন ছিল?

ত্রিধা পাল মান: ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ রিলিজের আগে থেকেই টিচাররা বলত, ‘তোমার মুভি কখন রিলিজ হবে?’ আমাদের বর্তমান ক্লাস টিচার ম্যাম আমাকে অনেক হেল্প করেছেন এবং উনি অনেক সুইট। প্রিন্সিপাল ম্যামও আমাকে অনেক পছন্দ করেন। আগে স্কুলে এসব খুব একটা অ্যালাউ করা হতো না, কিন্তু এখন হয়েছে। বন্ধুরা অনেক খুশি যে আমাদের স্কুলের ত্রিধা অভিনয় করছে, অনেকেই দেখেছে।প্রশ্ন : অবসর বা ছুটির সময়ে কী করতে পছন্দ করো?

আমার একটা পোষা পাখি আছে, ওর সঙ্গে অনেক খেলতে পছন্দ করি। পাশাপাশি মা–বাবার সঙ্গে সময় কাটাতেও খুব ভালো লাগে। এ ছাড়া আমি ক্লে দিয়ে নানা রকম জিনিস বানাই, ছবি আঁকি এবং বিভিন্ন ক্র্যাফটিং করি।

তোমার প্রিয় বই কোনটা?

ত্রিধা পাল মান: আমার ইংরেজি একটা বই আছে, নামটা হলো ‘দ্য বয় হু গ্রিউ ড্রাগনস’। আমার ওটা খুব পছন্দ। ওখানে তেমন দুঃখের কিছু নেই, কিন্তু অনেক মজার মজার গল্প আছে। ওখানে একটা ড্রাগন ছিল যে ছেলেটার সঙ্গে সব জায়গায় খালি পটি করে দিত!

তোমার প্রিয় কোনো মুভি আছে?

ত্রিধা পাল মান: আমার অনেক মুভি দেখা হয়, তেমন স্পেসিফিক নয়। তবে সবচেয়ে প্রিয় মুভি হচ্ছে ‘অরুন্ধতী’। সেকেন্ড ফেভারিট মুভি ‘তুফান’, ওটার পার্ট টু কখন আসবে, এখনো জানি না! আরেকটা পছন্দের মুভি ‘জ্বীন’।

জেনারেশনের পর জেনারেশন আমাদের গান শুনছে—ওয়ারফেজ

তুমি কি গান শোনো? তোমার কি কোনো প্রিয় গান আছে?

ত্রিধা পাল মান: হ্যাঁ, আমি গান করিও। ‘পুরানো সেই দিনের কথা’ গানটা আমার অনেক পছন্দ। আমি এক প্যারা গাইব; কারণ, ওটা আমার এখনো ভালো করে মুখস্থ নেই। (গেয়ে শোনাল) ‘পুরানো সে দিনের কথা ভুলবে কি রে হায়, ও সে চোখের দেখা প্রাণের কথা সে কি ভোলা যায়...’

তুমি বললে যে তোমার প্রিয় খেলোয়াড় মেসি, মেসির খেলা দেখা হয়? মেসির হ্যাটট্রিকটা দেখা হয়েছিল?

ত্রিধা পাল মান: হ্যাঁ, দেখা হয়েছে। আর সেদিন স্কুলে যাওয়ার দিন খেলা ছিল, তাই আমি খেলার রেজাল্টটা স্কুলেই জানতে পেরেছি। খুব ভালো লেগেছিল! আর গতবার ২০২২ সালে যখন মেসি জিতল, তখন আমার একবার ভীষণ জ্বর উঠেছে, তার মধ্যেও আমি খেলা দেখেছি।

বড় হয়ে কী হওয়ার ইচ্ছা তোমার?

ত্রিধা পাল মান: আমার খুব ইচ্ছা, বড় হয়ে আমি একজন ডাক্তার হব। পাশাপাশি আমার ঠাম্মি একজন অভিনেত্রী ছিলেন। তাঁর কথা আমার খুব মনে পড়ে। আমি চেষ্টা করব বড় হয়ে তাঁর মতো একজন বড়মাপের অভিনেত্রী হওয়ার।

তুমি যে বললে বড় হয়ে ডাক্তার হতে চাও, হঠাৎ ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছা কেন হলো?

ত্রিধা পাল মান: চারপাশে এখন অনেক রোগব্যাধি। মানুষের এই দুঃখ-কষ্ট দূর করতে আমি বড় হয়ে বিনা মূল্যে চিকিৎসা দিতে চাই। তাই ঠাম্মির মতো অভিনেত্রী হওয়ার পাশাপাশি আমার খুব ইচ্ছা আমি একজন ডাক্তার হব।

তুমি কি এখন নতুন কোনো প্রজেক্টে কাজ করছ?

ত্রিধা পাল মান: আমার রিসেন্ট একটা শুটিং শেষ হয়েছে, মুভিটার নাম ‘দ্য লাস্ট প্যাসেঞ্জার’। মুভিটা অনেক সুন্দর। গল্পটা বললাম না, এটার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

তোমার বয়সী যারা অভিনয় করতে চায়, তাদের জন্য তোমার পরামর্শ কী?

ত্রিধা পাল মান: যারা হতে চায়, তারা যদি নিজেদের মতো ভালো করে চেষ্টা করে, তারা অবশ্যই হতে পারবে।

সবশেষে কিআর পাঠকদের উদ্দেশে কিছু বলতে চাও?

ত্রিধা পাল মান: আমি তো কল্পনাও করিনি ওরা আমাকে এত মজার মজার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করবে! ওই ছেলেটার নাম আমি জানি না, ও আমাকে জিজ্ঞাসা করেছে, ‘ডিমের কুসুম সাদা হয় নাকি সাদা ডিমের কুসুম?’

বই পড়াকে আনন্দময় করে তুলতে পেরেছি—মো. শাহ্জাহান কবীর

Read full story at source