গুগল, মেটা ও রিলায়েন্স: যৌথ বিনিয়োগ থেকে এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় অংশীদারত্ব শুরু
· Prothom Alo

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দুই ডিজিটাল তথা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগল ও ফেসবুক (বর্তমানে মেটা) ২০২০ সালে ভারতের নেতৃস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের ডিজিটাল সেবাদাতা কোম্পানি জিও প্ল্যাটফর্মসে বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করে। ভারতের দ্রুত সম্প্রসারিত ডিজিটাল অর্থনীতির সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে তারা এই বিনিয়োগ করেছিল বলে জানায় নিউজ মিনিট।
গুগল ও ফেসবুকের সেই বিনিয়োগ পাঁচ বছর পর কৌশলগত অংশীদারত্বে রূপ নিয়েছে। এবার তারা রিলায়েন্সের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), এন্টারপ্রাইজ প্রযুক্তি ও ডিজিটাল অবকাঠামো খাতের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অংশীদার হয়েছে।
Visit asg-reflektory.pl for more information.
২০২০ সালে ১৩ বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে মোট ১ লাখ ৫২ হাজার কোটি ভারতীয় রুপির সমান অর্থ সংগ্রহ করে জিও প্ল্যাটফর্মস। এর বিনিময়ে প্রতিষ্ঠানটি ওইসব বিনিয়োগকারীকে মোট ৩২ দশমিক ৯৪ শতাংশ শেয়ার দেয়। ফোনএরিনার তথ্য অনুযায়ী, জিও প্ল্যাটফর্মসে ফেসবুক বিনিয়োগ করে ৪৩ হাজার ৫৭৪ কোটি রুপি। আর গুগলের বিনিয়োগের পরিমাণ ৩৩ হাজার ৭৩৭ কোটি রুপি।
রিলায়েন্সের টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান জিও ভারতে মোবাইল ইন্টারনেটের ব্যবহার সাশ্রয়ী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পাঁচ বছর আগের ওই বিনিয়োগের মাধ্যমে গুগল ও ফেসবুকের সঙ্গে জিও প্ল্যাটফর্মস তথা রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের আর্থিক সম্পর্কের ভিত তৈরি হয়। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি খাতে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র হয়ে ওঠার পর রিলায়েন্সের বিশাল ব্যবসায়িক পরিসর, যোগাযোগব্যবস্থা ও অবকাঠামোকে কেন্দ্র করে আরও গভীর সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হয়।
২০২৫ সালের ২৯ আগস্ট অনুষ্ঠিত রিলায়েন্সের বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) ‘রিলায়েন্স ইন্টেলিজেন্স’ নামে একটি নতুন উদ্যোগ শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়। এর লক্ষ্য হলো ভোক্তা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থার জন্য এআই অবকাঠামো, প্ল্যাটফর্ম ও সেবা গড়ে তোলা।
রিলায়েন্সের সঙ্গে মেটার অংশীদারত্বের রূপ হলো এন্টারপ্রাইজ পর্যায়ে এআই সেবা দেওয়ার জন্য একটি যৌথ উদ্যোগ শুরু করা। প্রাথমিকভাবে দুই প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে প্রায় ৮৫৫ কোটি রুপি বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এতে রিলায়েন্সের মালিকানা থাকবে ৭০ শতাংশ এবং মেটার ৩০ শতাংশ।
মেটার লামা এআই মডেলের ওপর ভিত্তি করে এই যৌথ উদ্যোগ গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য এআই প্ল্যাটফর্ম ও সহজে ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম তৈরি করা। এসব সরঞ্জাম বিক্রয়, বিপণন, গ্রাহকসেবা, অর্থ ব্যবস্থাপনা ও তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যাবে।
অন্যদিকে রিলায়েন্সকে গুগলের সহযোগিতার মূল ক্ষেত্র হলো ক্লাউড অবকাঠামো। ২০২৫ সালের আগস্টে রিলায়েন্স ও গুগল ক্লাউড ভারতের গুজরাটের জামনগরে এআইকেন্দ্রিক একটি ক্লাউড অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা ঘোষণা করে। এই অবকাঠামো বিশেষভাবে রিলায়েন্সের জন্য তৈরি করা হবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, অবকাঠামোর নকশা তৈরি, নির্মাণ ও বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্ব পালন করবে রিলায়েন্স। অন্যদিকে গুগল ক্লাউড এআই কম্পিউটিং সক্ষমতা ও ক্লাউড প্রযুক্তি সরবরাহ করবে। উচ্চগতির ও বৃহৎ সক্ষমতার যোগাযোগব্যবস্থা দেবে জিও। পাশাপাশি অবকাঠামোটির বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে রিলায়েন্সের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উদ্যোগ সহায়তা করবে।
দুটি অংশীদারত্বের লক্ষ্য আলাদা হলেও একে অপরের পরিপূরক। মেটা সরবরাহ করছে এআই মডেল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য সফটওয়্যার তৈরির সক্ষমতা। আর গুগল দিচ্ছে ক্লাউড কম্পিউটিং ও এআই অবকাঠামো। এসব প্রযুক্তি বড় পরিসরে কাজে লাগানোর জন্য প্রয়োজনীয় শিল্প-অভিজ্ঞতা, যোগাযোগব্যবস্থা, জ্বালানি সক্ষমতা ও গ্রাহকভিত্তি রয়েছে রিলায়েন্সের।
শেয়ারহোল্ডার থেকে কৌশলগত অংশীদার হয়ে ওঠার এই পরিবর্তন ভারতের প্রযুক্তি খাতে বৃহত্তর রূপান্তরের প্রতিফলন। ২০২০ সালের বিনিয়োগের মাধ্যমে দুটি বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান (গুগল ও মেটা) দ্রুত বিকাশমান একটি ডিজিটাল ব্যবসায়ে অংশীদারত্ব অর্জন করেছিল। সে ধারাবাহিকতায় এখন এসে তারা একসঙ্গে এআই পণ্য ও অবকাঠামো তৈরি এবং সেগুলো ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করেছে।
দীর্ঘ মেয়াদে এই অংশীদারত্ব কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, প্রযুক্তির সাশ্রয়ী ব্যবহার এবং গ্রাহকদের মধ্যে এর গ্রহণযোগ্যতার ওপর। তবে এসব উদ্যোগের মাধ্যমে স্পষ্ট হচ্ছে, বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে রিলায়েন্সের সম্পর্ক এখন আর শুধু আর্থিক বিনিয়োগে সীমাবদ্ধ নেই। বরং এই সম্পর্ক ভারতের এআই ইকোসিস্টেম বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি পরিবেশ গড়ে তোলার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।