শিশুমৃত্যুর পর অননুমোদিত হাসপাতালে অভিযান, ভুয়া ডাক্তারকে কারাদণ্ড
· Prothom Alo

রাজশাহীর বাগমারায় অননুমোদিত একটি হাসপাতালে শিশুমৃত্যুর এক দিন পর সেখানে অভিযান চালিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় হাসপাতালের পরিচালক ভুয়া এক চিকিৎসককে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম ভূঞা স্বাস্থ্য বিভাগের একজন চিকিৎসককে নিয়ে রোববার রাত সোয়া আটটার দিকে উপজেলার হাটগাঙ্গোপাড়ায় সাফল্য ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড হাসপাতালে এই অভিযান পরিচালনা করেন।
Visit umafrika.club for more information.
অভিযানকালে হাসপাতালটির কোনো অনুমোদনের কাগজপত্র দেখাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জিজ্ঞাসাবাদে পরিচালক নিজের অপরাধ স্বীকার করলে এ সাজা দেওয়া হয়। তাঁকে বাগমারা থানায় সোপর্দ করা হয়।
হাসপাতালটিতে গতকাল শনিবার হাবিবা খাতুন নামের আড়াই বছরের এক শিশু মারা যায়। সে খালিশপুর গ্রামের হারুনুর রশিদের মেয়ে। নানাবাড়ি ধামিনকৌড় গ্রামে মায়ের সঙ্গে ছিল শিশুটি। শিশুটি ভুল চিকিৎসার শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিহত শিশুর স্বজনেরা জানান, গত শুক্রবার হাবিবা খাতুন জ্বর ও পেটের ব্যথায় অসুস্থ হয়ে পড়লে ওই দিন তাকে হাট গাঙ্গাোপাড়া এলাকার সাফল্য ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে আসা হয়। এ সময় ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক চিকিৎসক আলমগীর কবির ছয়টি সিরাপ সেবন ও তিনটি ইনজেকশন পুশের ব্যবস্থাপত্র দেন। সে অনুসারে চিকিৎসা শুরু হলে রাতে শিশুর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। রাতেই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সে মারা যায়।
স্বজনদের অভিযোগ, ভুল চিকিৎসার কারণে শিশু মারা গেছে। চিকিৎসক আলমগীর কবিরের লিখিত প্রেসক্রিপশন মোতাবেক চিকিৎসা করানোর কারণেই মারা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিশুর এক স্বজন বলেন, ‘শনিবার লাশ দাফন করেছি; আর ঝামেলা করবের চাই না, তবে ডাক্তারের এই ভুয়া চিকিৎসা বন্ধ করা হোক।’
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, আলমগীর কবির একজন হাতুড়ে চিকিৎসক। তিনি নন-এমপিওভুক্ত স্থানীয় মজোপাড়া মহিলা কলেজের রসায়ন বিভাগের শিক্ষক। দীর্ঘদিন ধরে হাট গাঙ্গোপাড়ায় সাফল্য ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড হাসপাতাল করে চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। প্রতিষ্ঠানটির সামনে বসানো সাইনবোর্ডে বড় বড় চিকিৎসকের নাম লেখা হলেও মূলত তিনিই রোগী দেখেন ও ব্যবস্থাপত্র দেন।
এর আগে ২০২২ সালে মজোপাড়া গ্রামের মোজাম্মেল হকের শিশুপুত্র ভুল চিকিৎসায় মারা যায়। ওই ঘটনার পর কিছুদিন সাফল্য ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ ছিল। পরে আবার চালু করা হয়।
অভিযানের আগে দুপুরে চিকিৎসক আলমগীর কবিরের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি শিশু হাবিবা খাতুনের চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে এসব দেওয়া হয়েছে। তবে অন্য কোনো কারণে শিশু মারা যেতে পারে।