‘ধীরগতির অভিযান’ গ্রহণযোগ্য নয়

· Prothom Alo

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের সিংগারপুরে মাছ ধরার সময় জেলের জালে একটি শটগান উঠে আসার খবরটিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে যে উদ্ধার হওয়া এই আগ্নেয়াস্ত্র ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় আড়াইহাজার থানা থেকে লুণ্ঠিত অস্ত্রের একটি। এই অস্ত্র উদ্ধারের পর খুব স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে থানা, ফাঁড়ি, জেলখানা ও অন্যান্য সরকারি স্থাপনা থেকে খোয়া যাওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ অপরাধীদের কাছে রয়েছে? দুই বছর পরও কেন সেগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হলো না?

Visit afrikasportnews.co.za for more information.

পুলিশ সদর দপ্তর ও কারা অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গণ-অভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন থানা, ফাঁড়ি ও পুলিশি স্থাপনায় হামলা ও অগ্নিসংযোগের পর অন্তত ৫ হাজার ৭৬৩টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং সাড়ে ৬ লাখের বেশি গোলাবারুদ লুণ্ঠিত হয়। পরবর্তী সময়ে যৌথ অভিযানের মাধ্যমে একটি বড় অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, এখনো ১ হাজার ৩১৮টি অত্যাধুনিক অস্ত্র এবং আড়াই লাখের বেশি তাজা গোলাবারুদ নিখোঁজ রয়েছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া ২ হাজার ২৪০ জন বন্দীর মধ্যে এখনো ৬৮৩ জনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। উদ্বেগের বিষয় হলো, এই অধরা পালিয়ে যাওয়া আসামিদের মধ্যে অন্তত ৬৯ জন অত্যন্ত বিপজ্জনক—যাদের মধ্যে ৬০ জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত খুনি এবং ৯ জন তালিকাভুক্ত শীর্ষ জঙ্গি।

অপরাধীদের হাতে থাকা এসব মারণাস্ত্র এবং সমাজে অবাধে ঘুরে বেড়ানো অপরাধীরা মিলে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর প্রতিনিয়ত এক বিশাল হুমকি তৈরি করে রেখেছে। খোয়া যাওয়া এসব অস্ত্র ইতিমধ্যে বিভিন্ন সন্ত্রাসী ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ধারাবাহিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। চট্টগ্রাম, খুলনা, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি ও হত্যাকাণ্ডে খোয়া যাওয়া অস্ত্রের ব্যবহার হয়েছে। লুট হওয়া অস্ত্র কেনাবেচার সঙ্গে পুলিশের একজন কনস্টেবলের সম্পৃক্ত থাকার খবরটি অনেক বেশি উদ্বেগজনক।

পরিস্থিতির গুরুত্ব স্বীকার করে কারা অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তা জননিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বললেও, পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে ‘ধীরগতিতে হলেও অস্ত্র উদ্ধার হচ্ছে’। আমরা মনে করি, জননিরাপত্তার প্রশ্নটি যেখানে জড়িত, সেখানে এমন ধীরগতির অভিযান কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বেহাত হওয়া ১ হাজার ৩১৮টি মারণাস্ত্র কিংবা সোয়া দুই লাখের বেশি তাজা গুলি কেবল ধীরগতির অভিযানের আশ্বাসে ফেলে রাখা যায় না। যত দিন পর্যন্ত একটি অস্ত্র বা একটি তাজা গুলিও দুষ্কৃতকারীদের হাতে থাকবে, তত দিন পর্যন্ত সাধারণ নাগরিকের জীবন ও সম্পত্তির কোনো স্থায়ী নিশ্চয়তা প্রদান করা সম্ভব নয়। তা ছাড়া উগ্রবাদ আন্তর্জাতিক অপরাধী বা জঙ্গিরা বাইরে অবস্থান করে আবারও অপরাধভিত্তিক সিন্ডিকেট বা উগ্রবাদী নেটওয়ার্ক পুনর্গঠন করার পর্যাপ্ত সময় ও সুযোগ পাচ্ছে, যা দীর্ঘ মেয়াদে দেশের ভাবমূর্তিকে মারাত্মক ক্ষুণ্ন করতে পারে।

আমরা মনে করি, লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়াটিকে ঢিলেঢালা বা গতানুগতিক ছকের অভিযানে আটকে রাখা চলবে না। অবিলম্বে গোয়েন্দা তথ্যের সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে প্রযুক্তিগত ও সুনির্দিষ্ট যৌথ অভিযান আরও জোরদার করতে হবে। দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সামাজিক শান্তি ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি ধরে রাখতে টেকসই জননিরাপত্তার কোনো বিকল্প নেই। বেহাত হওয়া প্রতিটি অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার এবং পলাতক বন্দীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে জনগণের মনে সুরক্ষার পূর্ণ আস্থা ফিরিয়ে আনাটাই এখন সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

Read full story at source